বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে রূপান্তর

‘কঠিনতর’ দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশের অপেক্ষা

বণিক বার্তা ডেস্ক

আরো বেশি পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রথম পর্যায় শেষের দিকে। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশের অপেক্ষা। এটি প্রথম পর্যায়ের চেয়ে আরো কঠিন হবে, যেখানে কার্বনের বিকল্প জ্বালানি উেসর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বিশ্লেষকরা এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন। খবর ব্লুমবার্গ।

প্রথম পর্যায়ে হানিওয়েল ইন্টারন্যাশনাল স্নেইডার ইলেকট্রিকের মতো কোম্পানিগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাণিজ্যিক ভবন, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সেবা দিয়েছে। এরই মধ্যে এসব সেবার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের মূল লক্ষ্য ছিল এটাই। কিন্তু এখন আর কার্বন নিঃসরণ কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এখন সময় এসেছে কার্বনভিত্তিক জ্বালানিকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করার। হানিওয়েলের প্রধান নির্বাহী দারিউস অ্যাডামজিকের মতে, কাজটাই সবচেয়ে কঠিন হবে।

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি কিছু প্রযুক্তিগত সলিউশন এরই মধ্যে দিতে শুরু করেছি আমরা। সত্যি বলতে কি, আমাদের এর ব্যবহার আরো বাড়াতে হবে। তবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করতে হবে এবং আমরা কীভাবে অন্যান্য জ্বালানি উৎস দ্বারা কার্বনকে প্রতিস্থাপন করতে পারছি, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

গ্লোবাল কোভেন্যান্ট অব মেয়রস ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড এনার্জির ভাইস চেয়ারম্যান ক্রিস্টিনা ফিগুয়েরেস বলেছেন, আমরা টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথে খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছি। বিভিন্ন দেশের সরকার বিনিয়োগকারীরা এটা উপলব্ধি করতে পারছেন যে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ করা কার্বন নিঃসরণ থেকে নিজেদের মুক্ত করাই তাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা কোন পথে রয়েছি, তা এখন আমার জন্য কোনো চিন্তার বিষয় নয়। আমার চিন্তা হলো রূপান্তরের গতি মাত্রা নিয়ে। পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য যে গতি মাত্রা থাকা উচিত ছিল, তা থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি আমরা।

হানিওয়েল জানিয়েছে, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে তারা কার্বনের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছে। ড্রোন বৈদ্যুতিক আকাশযানে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই হাইড্রোজেন পাওয়ার সেল ব্যবহার করা যায়। অ্যাডামজিক বলছেন, আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যেই এটি বাস্তবতায় পরিণত হবে। অর্থাৎ ড্রোন বৈদ্যুতিক আকাশযানে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে স্নেইডার ইলেকট্রিক কাজ করছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্মার্ট গ্রিড নিয়ে। এর মাধ্যমে ভবনগুলোয় কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জ্যঁ-প্যাসকাল ট্রিকয়ের মনে করছেন। তিনি বলেন, গত মাত্র পাঁচ বছরেই পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বেশকিছু নতুন প্রযুক্তি ডেভেলপ করা হয়েছে। এগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তার মতে, প্রযুক্তি এখন আর সমস্যা নয়। বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেগুলোর ব্যবহার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন