বৃহস্পতিবার | মার্চ ০৪, ২০২১ | ২০ ফাল্গুন ১৪২৭

শেষ পাতা

অনুমোদিত পরিমাণের এক-চতুর্থাংশ পেঁয়াজ এসেছে বিকল্প উৎস থেকে

সুজিত সাহা, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। এ পরিস্থিতিতে ভারতবহির্ভূত বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিয়ে রাখেন দেশের ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার পর্যন্ত দুই লাখ টনেরও বেশি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন তারা। যদিও এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে অনুমোদিত পরিমাণের এক-চতুর্থাংশেরও কম। আমদানি কম হলেও পচনশীলতাই বাজারে মসলা পণ্যটির দাম স্থিতিশীল রেখেছে।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিতে শুরু করে। গত ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৪৭৮ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বমোট ২ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। আমদানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পেঁয়াজ ২৮ অক্টোবর থেকে দেশে আসতে শুরু করে। সর্বশেষ ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪৮ হাজার ৩৮৯ টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসে। মিসর, পাকিস্তান, চীন, উজবেকিস্তান, তুরস্কসহ ভারতবহির্ভূত বিভিন্ন দেশ থেকে এসব পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল। তবে শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসার পাশাপাশি চাহিদা কম থাকায় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র গ্রহণের হার কমে গেছে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ টনের বেশি আমদানির অনুমতি নিলেও আমদানি হয়েছে ৫০ হাজার টনেরও কম। আমদানি যা-ই হোক না কেন পেঁয়াজ আমদানিতে সরকারি পর্যায় থেকে দ্রুত ও সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি তদারকি ও দ্রুত সার্ভিস প্রদানের কারণে দেশে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। 

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় সমুদ্রবন্দর দিয়ে বিকল্প উৎস থেকে আসা পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দেশের বাজার। তবে আমদানি কম হলেও জাহাজে করে আনা এসব পেঁয়াজের বড় অংশই পচে যাচ্ছে। এ কারণে কম লাভে, এমনকি লোকসানেও এসব পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন আমদানিকারকরা। 

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারিতে দেশীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, পাকিস্তানি ২০-৩২ টাকায়, তুরস্ক (সাদা) ২৮-৩০ টাকায়, তুরস্ক (লাল) ৪০-৪২ টাকায়, মিসর ২৫-৩০ টাকায়, চায়না ২৫-৩০ টাকায়, মিয়ানমার ২৫-৩৫ টাকায়, নিউজিল্যান্ড ৩৮-৪০ টাকায় এবং ইরানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩২-৩৪ টাকা দরে। এছাড়াও বেশি পচে যাওয়া পেঁয়াজগুলো কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ১০ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন আড়তদাররা। 

আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, কার্গো বিমান ও জাহাজে করে সমুদ্রপথ দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে আমদানি করতে হয়। এর পরও আমদানি ও খালাসে সময়ক্ষেপণজনিত কারণে এসব পেঁয়াজে দ্রুত পচন ধরে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন। ২০১৯ সালে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা ভারতবহির্ভূত বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে লাভবান হয়েছিলেন। তবে এ বছর লাভের আশায় আমদানি করলেও পচা পেঁয়াজের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনছেন। 

খাতুনগঞ্জের মেসার্স হামিদ উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বণিক বার্তাকে বলেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। কিন্তু আমদানির পরও লোকসানের কারণে যে পরিমাণ আমদানির অনুমতি নিয়েছে, তার চার ভাগের এক ভাগও আমদানি হয়নি। পচনশীল পণ্য হওয়ায় দ্রুত দাম বাড়লে লাভের হার থাকে বেশি, একইভাবে লোকসানের পরিমাণও সর্বোচ্চ। লোকসানে বিক্রির প্রতিযোগিতার কারণে দেশে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। এরপর ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন। তবে চলতি বছর জাহাজ ও বিমানে করে আসা পেঁয়াজের মান খারাপ থাকায় চাহিদা সত্ত্বেও বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছে না। এ কারণে বর্তমানে দেশের বাজারে খুচরায় সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির কারণেও পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন