শুক্রবার | নভেম্বর ২৭, ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দেশের খবর

খুলনা-যশোর মহাসড়ক

সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে ভাঙন

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, খুলনা

খুলনা-যশোর মহাসড়কের চেঙ্গুটিয়া অংশে প্রায় সাত কিলোমিটার অংশে সংস্কারকাজ শেষ হতে না হতে ভাঙতে শুরু করেছে। রাস্তাটির স্থানে স্থানে ডেবে গিয়ে ঢিপি তৈরি হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত।

যশোর সড়ক জনপথ (সওজ) বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, ওভারলোডেড যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণেই সড়ক এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সওজ যশোর সূত্রে জানা গেছে, যশোরের চাপাবাড়ি থেকে রাজঘাট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার মহাসড়ক সংস্কারে দুটি প্যাকেজে ৩২১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে পদ্মবিলা রাজঘাট হয়ে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটারের ১৪৭ কোটি টাকার কাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন। অবশিষ্ট ১৯ কিলোমিটার কাজ পেয়েছে মাহবুব ব্রাদার্স।

মহাসড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের জুনে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল এক বছর। পরে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে সম্পন্ন হয়েছে খুলনা-যশোর মহাসড়কের চেঙ্গুটিয়া এলাকার কাজ।

সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার অবস্থার কারণ জানতে চাইলে তমা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. নিজামুল ইসলাম নিজাম বলেন, ট্রাকের ওভারলোডের কারণেই এমনটি হয়েছে। ওভারলোড থাকা ফুল স্পিডের ট্রাক হঠাৎ ব্রেক কষলে পিচ কার্পেটিং ঠেলে নিয়ে এক জায়গায় ঢিপি তৈরি করছে। বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে গিয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কে ৩০ টন লোড ক্যাপাসিটি দিয়ে উন্নয়ন করা হচ্ছে। কিন্তু মহাসড়কে দ্বিগুণ লোড নিয়ে ট্রাক চলে। যানবাহনের ওভারলোড নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণেই সড়কটি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ওভারলোড স্কেলিং চালু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে মৌখিকভাবে দাবি জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় রাখতে প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংস্কার করে দেয়া হবে বলেও জানান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক।

সংস্কারের আগেই রাস্তা ভেঙে যাওয়ার একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন যশোর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন।

তিনি বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের লোড মনিটরিং এবং ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর আগে যানবাহন মালিক চালকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে সচেতন করার কাজে ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্য জনবল থাকবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটরা সরাসরি অভিযানের মাধ্যমে ওভারলোড মনিটরিং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। দু-এক মাসের মধ্যেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আবার সংস্কার করে দেবে বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

তবে মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করা একাধিক ট্রাকচালক বলেছেন, জায়গায় কাজের মান নিয়ে সংশয় রয়েছে। মহাসড়কের অন্যান্য জায়গায়ও আমরা চালকরা ব্রেক কষি, সেখানে তো এমন সমস্যা হয়নি। চেঙ্গুটিয়া এলাকায় ব্রেক কষলেই সড়কের পিচ সরে গিয়ে ঢিপি হচ্ছে।

তাদের প্রশ্ন, ওভারলোডের কারণে এমনটি হলে শুধু মহাসড়কেই হবে কেন? অন্যান্য মহাসড়কেও তো আমরা ট্রাক চালাই। সেখানে কখনো এমন হয় না।

এদিকে মহাসড়কে পিচ কার্পেটিং সরে ঢিপি তৈরি হওয়ার কারণে মালবোঝাই ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন চলাচলেও খুবই সমস্যা হচ্ছে। একটু অসতর্ক হলেই গাড়ি উল্টে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন