মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দেশের খবর

সোনারগাঁয়ের গৃহবধূকে অপহরণ ও ধর্ষণ, ৬ দিন পর ঢাকায় উদ্ধার

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকা থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণের পর ছয়দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের জিডির ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকা থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ। 

এ ঘটনায় মাহফুজ নামে মূল অভিযুক্তকে গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর দোহার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

আজ শনিবার দুপুরে পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।  

তিনি জানান, গত ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ওই গৃহবধূকে তার সেলফোন নম্বরে কল করে শারমিন নামে এক নারী জানায়, তার স্বামীর সঙ্গে অন্য এক মেয়ের সম্পর্ক আছে এবং তারা সেদিনই বিয়ে করতে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে ওই গৃহবধূ তার স্বামীর সেলফোন নম্বরে কল করলে বন্ধ পান। এতে বিচলিত হয়ে তিনি আবার শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন শারমিন তাকে স্বামীর সন্ধান দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কাঁচপুর মেঘনাসেতু এলাকায় যেতে বলে। গৃহবধূ সেখানে গেলে মাহফুজসহ আরো দুই তিনজন একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও গেন্ডারিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে তাকে দোহার এলাকায় মাহফুজের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে মাহফুজ তাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে।

এদিকে ২৩ অক্টোবর ওই গৃহবধূ নিখোঁজ হলে তার পরিবার ওইদিনই সোনারগাঁ থানায় জিডি করে। সেই জিডি ও নিখোঁজ গৃহবধূর ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই। প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর দোহারে অভিযান চালিয়ে মাহফুজের বাসা থেকে গুরুতর অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন শুক্রবার রাতে দোহার এলাকা থেকেই মাহফুজকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাহফুজ স্বীকার করে, শারমিন নামের ওই নারী তার বড় ভাই জসীমের স্ত্রী। তারা তিনজন মিলে পরিকল্পিতভাবে ওই গৃহবধূকে অপহরণ করে।

এ ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধূর মা বাদী হয়ে মাহফুজ, তার বড় ভাই জসীম ও জসীমের স্ত্রী শারমিনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মাহফুজকে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানোসহ অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন