মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

সম্ভাবনাময় বীমা সেক্টর: ক্যারিয়ার গড়ার অজানা ক্ষেত্র

জাফর সাদেক চৌধুরী

কোভিড-১৯ এর কারণে পরিবর্তীত বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট আমাদেরকে উপার্জন এবং জীবনধারণের উপায় নিয়ে যে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে তা বলাই বাহুল্য। সামপ্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় চাকরির ওয়েবসাইটগুলোতে বিগত বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় এ বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত চাকরির বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা প্রায় ৮৭ শতাংশ কমে গেছে। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ১১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের ২ কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে বেকার অবস্থায় দিনযাপন করছেন। মার্চে কোভিড-১৯ শুরুর প্রথম তিন-চার মাসে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হন, তখন বেকারত্ব ১০ গুন বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-র সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত ’কোভিড-১৯ বাংলাদেশ: জীবিকার ওপর অভিঘাত ধারণা জরিপ’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, কোভিড-১৯ সৃষ্ট সংকটের কারণে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারই কোন না কোনভাবে আর্থিক কষ্টের মধ্যে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর সময়ে সংকটে পড়া ৪৬ দশমিক ২২ শতাংশ পরিবার জমানো টাকা খরচ করে সংসার চালিয়েছে আর ৪৩ শতাংশ-র বেশি পরিবার আত্মীয় পরিজনের সাহায্য সহযোগীতায় কোন রকমে টিকে ছিলো।


এমন কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রায় সকলেই পেশা বা আয়ের বৈচিত্রময় ক্ষেত্রগুলো খতিয়ে দেখছেন আর এরকমই একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হচ্ছে বীমা। বীমা খাতে ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট হিসেবে ক্যারিয়ার সবসময়েই দারুন সম্ভাবনাময়, তবে প্রতিকূল এ সময়ে এই পেশাটি হতে পারে বিশেষভাবে সহায়ক এবং নতুন সুযোগের উন্মোচনকারি।
গ্রাহকদেরকে অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটরা বীমাখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেন। শুধু তাই না, অধিকাংশ সময়েই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের জন্য তাঁদের প্রয়োজন অনুসারে যথাযথ আর্থিক পরিকল্পনা নির্বাচন, বীমা প্রতিষ্ঠানের সাথে গ্রাহককে পরিচিত করে তোলা এবং সেই সাথে বীমা খাতের উপর আস্থা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানের অপরিহার্য কর্মী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন তারা। গতানুগতিক ধারার অন্যান্য পেশার তুলনায় ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট পেশার আবার রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় দিক।
নাগরিকদের ব্যক্তিগত আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এবং সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপরে চাপ কমিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়নে তথা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বীমাখাত। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.৫ শতাংশ মানুষ জীবনবীমার আওতায় আছেন, তার মানে, দেশের একটি বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যা এখনও পর্যন্ত জীবন সংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনায় আর্থিক নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। তবে, আশার কথা হলো, দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের মাঝে অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে । অন্যান্য পেশার মতই ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট পেশাতেও দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপার্জন বৃদ্ধির নানা সম্ভাবনা তৈরি হয়। এক্ষেত্রে, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোও ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটদের ক্যারিয়ারের বিকাশে নানাভাবে সহায়তা করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটরা যাতে ক্যারিয়ারে উন্নতি করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান, হাতে কলমে কাজ শিখার সুযোগ পান, সহায়তা ও তত্ত্বাবধায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে নিজেদের ক্যারিয়ারের সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারেন তা নিশ্চিত করার ওপর অত্যন্ত জোর দিয়ে থাকে মেটলাইফ বাংলাদেশ। 

মানুষকে দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার পথ দেখানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন একজন ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট। তাঁরা গ্রাহকদেরকে লেনদেনের ব্যাপারে সচেতন করেন এবং প্রয়োজনের সাথে মানানসই পরিকল্পনা এবং সেবা সম্পর্কিত পরামর্শ দিয়ে, সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করেন। জীবনের আনন্দময় এবং দুর্দশাময় উভয় সময়েই গ্রাহকের পাশে থাকেন ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট।  বেশিরভাগ পেশাতেই প্রার্থীর বয়স ও অভিজ্ঞতা তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ালেও, বীমাখাতের ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট পেশায় যুক্ত হতে এর কোনোটাই বিশেষ প্রাধান্য পায় না। নিজ কর্মদক্ষতার জোরে একজন ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট ক্রমান্বয়ে ইউনিট ম্যানেজার এবং সেখান থেকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তাঁর নিজের নামের ব্র্যাঞ্চ থেকে তাঁর অধিনস্ত ইউনিট ম্যানেজার এবং ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটদেরকে নিয়ে কাজ পরিচালনা করেন।

আগ্রহীরা পার্টটাইম বা ফুলটাইম চাকরি হিসেবে ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট পেশা গ্রহণ করতে পারেন। এ পেশায় গতানুগতিক ৯টা থেকে ৫টা কাজ করতে হয় না, ফলে, নিজের সুবিধা অনুযায়ী সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কাজ করা যায়। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কল্যাণে এখন মেটলাইফ বাংলাদেশের ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটরা তাদের বাড়িতে বা অন্য যেকোনো স্থানে থেকে সফলভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। গাণিতিক তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটদের দক্ষ হতে হয় আর সে কারণেই যথাযথ গ্রাহক জরিপের ওপর ভিত্তি করে সঠিক লক্ষ্যমাত্রা নিরূপণ করার মত দূরদৃষ্টি অর্জন করা একজন সফল ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট হওয়ার অন্যতম শর্ত।

গ্রাহকদেরকে উন্নততর সমাধান ও সহযোগিতা প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে বীমাখাত প্রতিনিয়ত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলা একটি চ্যালেঞ্জ, আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মাধ্যমে এখনকার তরুণরা গ্রাহকদের সেবাদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যাচাই করে নিতে পারে। 

ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট পেশাটি বর্তমানে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এ পেশায় সম্ভাবনাও অনেক। এটি ব্যক্তির পেশাগত দক্ষতা সম্পূর্ণ করে তুলে, পাশাপাশি একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত, নিরাপদ, দ্বায়িত্বশীল এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনেরও নিশ্চয়তা দেয়। নতুন সম্ভাবনায় উদ্দীপ্ত হয়ে যারা নিশ্চিত ক্যারিয়ার গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট পেশায় যোগদান হতে পারে সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত। ক্রমশই, বীমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে নতুন গ্রাহকদের সহায়তাদানে ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটদের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। মেটলাইফ বাংলাদেশ বর্তমানে ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সহজ করে তুলেছে। আগ্রহী প্রার্থীগণ এখন ঘরে বসেই www.metlife.com.bd/be-a-metlifer – এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন।


জাফর সাদেক চৌধুরী, চিফ ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার, মেটলাইফ বাংলাদেশ 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন