মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শেষ পাতা

করোনায় ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি

ব্যবসা বেড়েছে ম্যারিকো ও রেকিট বেনকিজারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যবসা-বাণিজ্যে অধোগতি দেখা দেয়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাবহির্ভূত প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেরই ব্যবসা কমেছে সময়ে। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা করোনার সময়ে বেড়ে গেছে। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবসাও করোনার সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে।

ভারতের মুম্বাইভিত্তিক এফএমসিজি কোম্পানি ম্যারিকোর আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসার ৪৯ শতাংশই আসে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের বাজারে ম্যারিকোর আয়ের ৬৫ শতাংশ আবার আসছে প্যারাশুট ব্র্যান্ডের নারকেল তেল থেকে। বাকি ২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ আসে ভ্যালু অ্যাডেড তেল থেকে। কভিড-১৯-এর কারণে স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ পারসোনাল হাইজিন জাতীয় পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ার কারণে বছরের এপ্রিল থেকে নিজেদের পোর্টফোলিওতে এসব পণ্য যুক্ত করেছে ম্যারিকো। এতে নারকেল তেলবহির্ভূত পণ্য থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবসা প্রবৃদ্ধি হয়েছে কোম্পানিটির।

সম্প্রতি ম্যারিকো দ্বিতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিরীক্ষিত রেকিট বেনকিজার তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ম্যারিকোর বিক্রি প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৯১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৪৯ কোটি টাকা। সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী নিট মুনাফাও বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা ১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি বছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সময়ে ম্যারিকোর বিক্রি হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৭৯ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ১৫২ কোটি টাকা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এফএমসিজি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশের পর্ষদ। কোম্পানিটির পণ্যের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে সেখানে নতুন একটি কারখানা স্থাপন করা হবে। কারখানায় ভোজ্যতেল নারকেল তেল বাদে অন্যান্য পণ্য উৎপাদন করা হবে।

ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে। ২০০৯ সালে এটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের ৩০০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনকারী আরেক বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে ১৪৫ কোটি টাকা বিক্রি করেছে। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১১৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ১৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১৪ শতাংশ।

রেকিট বেনকিজারের প্রধান দুটি ব্র্যান্ড হচ্ছে ডেটল হারপিক। পাশাপাশি লাইজল ব্র্যান্ডের পণ্যও রয়েছে কোম্পানিটির। বাজারে ডেটল ব্র্যান্ডের সাবান, লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ, লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার রয়েছে। আর লাইজল ব্র্যান্ডের লিকুইড ক্লিনার মেঝে জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহূত হয়। করোনার কারণে বাজারে ডেটল ব্র্যান্ডের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী লাইজল ব্র্যান্ডের ক্লিনারের বিক্রি বেড়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফা ৩৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি টাকায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের হাজার ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ১৯৮৭ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে মূল কোম্পানি যুক্তরাজ্যভিত্তিক রেকিট বেনকিজার পিএলসির কাছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন