মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

করোনা

কভিড-১৯-এ মৃত্যুর ১৫ শতাংশের সঙ্গে রয়েছে বায়ুদূষণের যোগ

বণিক বার্তা ডেস্ক

বায়ুদূষণ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সমস্যার প্রভাবের মাত্রা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। যেখানে হাসপাতালে ভর্তি অকালমৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আইসিইউতে যাওয়ার হারও বাড়ছে।

এদিকে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, বৈশ্বিকভাবে করোনাভাইরাস মহামারীতে (যা কিনা মূলত একটি শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাজনিত রোগ) মৃত্যুর ১৫ শতাংশের সঙ্গে যোগ রয়েছে বায়ুদূষণের। কার্ডিওলজির একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে ২৬ অক্টোবর গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে বৈশ্বিকভাবে ১৫ শতাংশ হলেও পূর্ব এশিয়ায় এটি ২৭ শতাংশ, ইউরোপে ১৯ দক্ষিণ আমেরিকায় ১৭ শতাংশ।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত প্রফেসর থমাস মুনজেল বলেন, যদি বায়ুদূষণের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শ এবং কভিড-১৯-এর সংক্রমণ সামনে আসে, তবে স্বাস্থ্যে আমরা তার বিরূপ প্রভাব দেখতে পাব। বিশেষ করে হূদযন্ত্র রক্তনালিতে। আমরা এখন জোড়া আঘাত দেখতে পাচ্ছি। একদিকে বায়ুদূষণ ফুসফুসের ক্ষতিসাধন করছে এবং কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে এসিই--এর, ফলে ভাইরাসের শক্তি বৃদ্ধি ঘটছে।

সেই গবেষণাপত্রে বলা হয়, সম্ভবত যা ঘটে তা হলো সূক্ষ্ম কণা সংক্রামক ভাইরাসের বায়ুমণ্ডলীয় জীবনকে দীর্ঘায়িত করে। যা কিনা ভাইরাসের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবশ্য গবেষকরা বলছেন না যে বায়ুদূষণ এককভাবে কভিড-১৯- মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা মূলত ধরনের কার্যকারণ সম্পর্কিত প্রভাবকে অস্বীকার করতে চান না।

সমীক্ষার সহগবেষক জস লেলিয়েভেল্ড বলেন, বাতাসের দূষিত কণাগুলো রোগের তীব্রতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে এবং যা যুক্তরাজ্যে হাজার ১০০ জনের এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

গবেষকরা পরিষ্কার নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে সবুজ অর্থনীতির গুরুত্বের কথা বলছেন, এটা কেবল মহামারীর প্রভাব কমানোর জন্য বলছেন এমন না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তাদের মতে, মহামারী থাকুক কিংবা না থাকুক বায়ুদূষণ নিয়মিতভাবে মানুষ মেরে চলেছে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, মহামারী জনগণের মাঝে ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমে শেষ হবে কিংবা অধিক সংক্রমণে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের মাধ্যমে। যা- হোক দুর্বল বায়ুর মান জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভ্যাকসিন নেই। এখানে প্রতিকার হচ্ছে নির্গমন হ্রাস করা। 

গবেষণার আগেও অবশ্য একাধিক প্রতিবেদন বায়ুদূষণের কারণে মহামারীর তীব্রতা বাড়ার কথা বলেছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি আসন্ন শীতে আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে। যেখানে ভারত বাংলাদেশের মতো দেশ দূষণের কারণে আগে থেকেই ভয়াবহ সংকটে রয়েছে।

দ্য প্রিন্ট

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন