মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শেষ পাতা

চট্টগ্রামে অবৈধ বাজার পার্কিংয়ে নষ্ট হচ্ছে সড়ক

সুজিত সাহা, চট্টগ্রাম ব্যুরো

পণ্যবাহী ট্রাক রাখার জন্য পর্যাপ্ত টার্মিনাল নেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। কারণে সড়কের ওপরই পার্ক করে রাখা হয় বন্দরের কাজে ব্যবহূত অসংখ্য ট্রাক। দীর্ঘ সময় ধরে পার্ক করে থাকা এসব ট্রাকের কারণে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে সড়ক। এছাড়া নগরীতে যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার। এসব কাঁচাবাজারে মাছের ওপর ছিটানো পানির কারণেও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে রাস্তার পিচ।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট সড়কের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন সম্প্রসারণ কাজ চলার পর চলতি বছরের শুরুতে কাজ শেষ হয় বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের। চট্টগ্রামের প্রথম ডেডিকেটেড ছয় লেনের (একাধিক ওভারপাসসহ) সড়কটির উভয় পাশে রয়েছে সার্ভিস লেন (স্লো মুভিং ভেহিকল) কিন্তু চালু হওয়ার পর সড়কের দুই পাশের সার্ভিস লেনে যানবাহন চলাচল করছে না। পার্শ্ববর্তী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অস্থায়ী বাজারের কারণে ছোট স্বল্প গতির যানবাহনকে মূল সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। সার্ভিস লেন কার্যত বন্ধ থাকলেও অন্যান্য যানবাহন মূল সড়কে চলাচল করায় বাড়ছে দুর্ঘটনা।

চট্টগ্রামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আরাকান সড়ক। কালুরঘাট বিসিক, কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকা মোহরা ভারী শিল্প এলাকার যানবাহন চলাচল করে সড়ক দিয়ে। সড়কটির উভয় পাশে অস্থায়ী বাজার বসে প্রতিদিন। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে স্থানীয়দের উদ্যোগে বসানো বাজারের কারণে সদ্য সংস্কার হওয়া সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সড়কে সাপ্তাহিক দুটি বড় বাজার (শুক্র মঙ্গলবার) রাত ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বাজারের কারণে সপ্তাহের দুইদিন তীব্র যানজট লেগে থাকে। সম্প্রতি সম্প্রসারণ সংস্কার করা সত্ত্বেও বাজারটির কারণে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রকৌশলীরা।

চট্টগ্রাম শহরের প্রধান ধরা হয় শেখ মুজিব রোডকে। সড়কটির উভয় পাশে বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর অধিকাংশেরই নিজস্ব পার্কিং না থাকায় সড়কই ব্যবহার হচ্ছে পার্কিং স্পট হিসেবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য সড়কের ওপর রাখায় এবং মোটর পার্টস গ্যারেজ মালিকরা সড়কের পাশে যানবাহন রেখে কাজ করায় নিত্য যানজট লেগেই থাকে। জিইসি মোড় থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সিডিএ এভিনিউ সড়কের উভয় পাশে গাড়ির শো-রুম গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে চার লেনের সড়কের অধিকাংশই বেদখল হয়ে পড়েছে। কারণে স্বল্প দূরত্বের পথ পেরোতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।

সড়কের ওপর অস্থায়ী বাজার বসানোর কারণে সড়কের মান বিনষ্ট হওয়ার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে (সিএমপি) একটি চিঠি দিয়েছে চসিক।

গত জুলাই সিএমপি কমিশনারকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের আরাকান সড়কের অনেকাংশে অবৈধ গাড়ির পার্কিং যান চলাচল বিঘ্নিত করছে। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে সড়কের মানও।

বিষয়ে চসিকের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পর্যাপ্ত সড়ক রয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখল, বাজার পার্কিংয়ের কারণে যানজটে মানুষের ভোগান্তি নিত্যদিনের। এসব দখলের কারণে সড়কগুলোর সক্ষমতাও দ্রুত কমে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম শহরের আরো একটি বড় সমস্যা বাণিজ্যিক আবাসিক ভবনের পার্কিং সুবিধা না থাকা।

চট্টগ্রামের শতাধিক বড় শপিং মলের অধিকাংশের নিজস্ব পার্কিং সুবিধা নেই। পার্কিংয়ের স্থলে দোকান করে রাখায় শপিং মল বা বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোয় আসা যানবাহন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কে অবস্থান করে।

এদিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করলেও পর্যাপ্ত ট্রাক টার্মিনাল নেই। কারণে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি সড়ক ট্রাক কাভার্ড ভ্যানের দখলে থাকে। সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল হবে না বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।

জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বণিক বার্তাকে বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে সড়কের প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে কোনো চিঠি দেয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। চসিকের তাগাদা ছাড়াও নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের অবৈধ বাজার, পার্কিংসহ অবৈধ অবকাঠামো সরিয়ে নিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন