মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দেশের খবর

বীজ আলুর দাম বৃদ্ধিতে রংপুরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রংপুর

চলতি মৌসুমের জন্য রংপুর অঞ্চলে হাজার ৭৭২ দশমিক ৫০৬ টন আলুবীজের বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) তবে এবার কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম প্রকারভেদে ৪৭-৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ২১-২২ টাকা বেশি।

বীজ আলুর দাম বাড়ার ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএডিসি বীজ সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশন নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বীজ আলুর বিক্রয় মূল্য কমানো না হলে রংপুর অঞ্চলে মৌসুমে আলুর উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ দফায় দফায় বন্যা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বেশি দামের কারণে গুণগত মানের বীজ কিনতে পারবেন না। মানহীন বীজ ব্যবহার করার কারণে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিএডিসি বীজ সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশন রংপুরের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিএডিসির বীজ আলুর দাম কেজিতে ২০-২২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করায় কৃষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। বীজ আলুর দাম বাড়ানোর কারণে কৃষকের আলু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর সিও বাজার এলাকার বিএডিসির ডিলার রেজাউল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে এক চাষী দুই টন আলু ক্রয়ের জন্য বায়না করেছিলেন। কিন্তু যখন শুনেছেন এবার দাম প্রতি কেজি ৪৭-৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তখন তিনি আর আলু কিনবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর বিএডিসির উপপরিচালক (বীজ বিপণন) কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীজ আলুর মূল্যবৃদ্ধির কারণ হলো বাজারে খাওয়ার আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বীজ আলু কম দামে কিনে যাতে বাজারে বিক্রি করতে না পারেন, সেজন্যই দাম বাড়ানো হয়েছে।

তবে গত মঙ্গলবার বিএডিসি বীজ সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দেখা করে দাম কমানোর অনুরোধ করেছেন বলে জানান তিনি। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

বিএডিসির উপপরিচালক আরো জানান, বীজ উত্তোলন সবে শুরু হয়েছে। চলবে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত।

বীজ আলুর দাম বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আবু সায়েম। দাম বেশি হওয়ার কারণে কৃষকরা সস্তা মানহীন বীজের দিকে ঝুঁকবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। সেই সঙ্গে করোনা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কথা বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে আলু আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ৫৫০ হেক্টরে ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০ টন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন