মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

ঘানার টেলিকম বাজার ছাড়ছে ভারতী এয়ারটেল

বণিক বার্তা ডেস্ক

ভারতী এয়ারটেলের বৃহৎ একটি বাজার আফ্রিকা। নাইজেরিয়া ঘানাসহ আফ্রিকা মহাদেশের ১৪টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ভারতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। আফ্রিকা মহাদেশে ভারতী এয়ারটেলের ১০ কোটির বেশি গ্রাহক রয়েছেন। আফ্রিকার দেশ ঘানায় এয়ারটেল ঘানা লিমিটেড নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি, যা এয়ারটেলটিগো নামেও পরিচিত। এবার এয়ারটেলটিগোর কার্যক্রম বিক্রির মাধ্যমে ঘানা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে যাচ্ছে ভারতী এয়ারটেল। এয়ারটেলটিগো বিক্রির কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। খবর ইটি টেলিকম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল ভারতী এয়ারটেলের পরিচালনা পর্ষদ যৌথ ভেঞ্চারস এয়ারটেলটিগোর কার্যক্রম আফ্রিকার দেশটির সরকারের কাছে বিক্রির বিষয়টিতে অনুমোদন দিয়েছে। এয়ারটেলটিগোর বিক্রি মূল্য ১৮৪ দশমিক কোটি রুপি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গতকাল বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেয়া এক নথিতে ভারতী এয়ারটেল জানায়, তারা ঘানা সরকারের হাতে এয়ারটেলটিগোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে। চুক্তির আওতায় ঘানা সরকার এয়ারটেলটিগোর ১০০ শতাংশ শেয়ারের পাশাপাশি গ্রাহক সম্পদের মালিকানা বুঝে পাবে।

জানা যায়, এয়ারটেলটিগো ভারতী এয়ারটেল এবং মিলিকমের যৌথ ভেঞ্চারস। প্রতিষ্ঠানটির ৪৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ অনিয়ন্ত্রিত শেয়ারের মালিকানায় রয়েছে ভারতী এয়ারটেল। ২০১৭ সালে ঘানায় মিলিকনের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম একীভূত করেছিল ভারতী এয়ারটেল, যা ঘানায় দ্বিতীয় বৃহৎ টেলিকম কোম্পানির সৃষ্টি করেছিল। তখন বেশকিছু শর্ত সাপেক্ষে একীভূতকরণে অনুমোদন দিয়েছিল ঘানা সরকার। যেখানে বলা হয়, যে কোনো সময় এয়ারটেল এবং মিলিকমের একীভূতকরণে সৃষ্ট নতুন টেলিকম প্রতিষ্ঠানটির কিছু শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে ঘানা সরকার।

এয়ারটেলটিগো বেশ কিছুদিন ধরে খারাপ সময় পার করছে। ঘানায় এমটিএন এবং ভোডাকমের কারণে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। যে কারণে বেশ কিছুদিন ধরে ঘানার কার্যক্রম বিক্রির ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ানে ভারতী এয়ারটেল জানায়, ঘানায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৫১ লাখে দাঁড়িয়েছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির কর, সুদ অবচয় বাদে লোকসানের অংক দশমিক কোটি রুপিতে পৌঁছেছে, যা গত ৩০ জুন সমাপ্ত চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল দশমিক কোটি রুপি। গত প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয়ে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। এয়ারটেলটিগো টানা চার প্রান্তিক ধরে লোকসানের তথ্য দিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, টানা লোকসানের কারণে এয়ারটেলটিগোর কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ভারতী এয়ারটেল এবং শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে দেশটি ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।

কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতী এয়ারটেলের সামগ্রিকভাবে আফ্রিকা কার্যক্রমের নিট মুনাফা কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ৫৭ শতাংশ কম। এয়ারটেল আফ্রিকাও টানা কয়েক প্রান্তিক ধরে লোকসানে রয়েছে।

গত জুলাইতে ৩০ জুন সমাপ্ত প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ান প্রকাশের পর এয়ারটেল আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রঘুনাথ মান্দাভা বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কভিড-১৯ মহামারীর কারণে আফ্রিকার টেলিকম বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা কেমন হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাইরাসটির প্রকোপ ঠেকাতে সরকার কেমন পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে সংশয় বিরাজ করছে। এমন অনিশ্চয়তাই আমাদের নিট মুনাফা কমার প্রধান কারণ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন