বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

খেলা

মুক্ত হচ্ছেন সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এক বছর আগে অশ্রুসজল চোখে হোম অফ ক্রিকেটের অভ্যর্থনা কক্ষে নিজের ভুল স্বীকার করে আইসিসির দেয়া শাস্তি মাথা পেতে নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। ফিক্সিং নামে পরিচিত, ক্রিকেটের সবচেয়ে কলংকিত অপরাধটির কারণে বিশ্বজুড়ে সংবাদের শিরোনামে তখন তার নাম। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেই বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বে নিজের জায়গাটা আরেকটু স্থায়ী করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২৯ অক্টোবর ২০১৯ সালের সেই দিনটিতে সাকিবের সব কৃতিত্ব যেন খানিকটা আড়ালেই চলে গিয়েছিল। সাকিব যদিও ফিক্সিংয়ের মতো ঘৃণ্য কাজটি করেননি। কিন্তু যা করেছিলেন সেই অপরাধও কম গুরুতর ছিল না। গোপন করেছিলেন ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব। তাও একবার নয়, তিনবার। আর তাতেই ভঙ্গ হয়েছিল আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪.৪ ধারা। ফলে সাকিবকে পেতে হয়েছিল ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা। প্রথম বছরের শাস্তিটি অবধারিত থাকলেও, দ্বিতীয় বছরের শাস্তি ছিল স্থগিত। অর্থ্যাৎ এই এক বছরে নিয়ম ভাঙলে সাকিবকে নিষিদ্ধ থাকতে হবে আরো এক বছর। সাকিব নিয়ম ভাঙেননি, যে কারণে এক বছর নির্বাসনে থেকেই ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।  

এক বছরের নিষেধাজ্ঞায় সাকিবকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট সে সময় পড়েছিল অথৈয় সাগরে। ঠিক সে সময়েই চলছিল ভারত সফরের প্রস্তুতি। তার কয়েকদিন আগে শেষ হয়েছিল ক্রিকেটারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। যার মূল নেতৃত্বে ছিলেন সাকিবই। সবমিলিয়ে টালমাটাল অবস্থায় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। এর মাঝে দেশে-বিদেশে একাধিক সিরিজ ছাড়াও টি-২০ বিশ্বকাপের জন্যও বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলেছিল সাকিবকে। যদিও গত দশ মাসে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়া নভেল করোনাভাইরাস যেন সাকিবকে ক্রিকেট থেকে খুব বেশি কিছু হারাতে দেয়নি। যেখানে মার্চের পর থেকে মারনঘাতী ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের আন্তজার্তিক ক্রিকেটেই আর ফেরা হয়নি। বাতিল হওয়া শ্রীলংকা সফরের মাঝামাঝিতে সাকিবের ফেরার কথা থাকলেও, সেটিও দুই পক্ষের সমঝোতার অভাবে বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি শাস্তি পেয়েও বোর্ড এবং দেশের সরকারকে নিজের পাশেই পেয়েছিলেন সাকিব। এমনকি ব্যক্তিগত স্পন্সরগুলোও সমর্থন দিয়ে তার পাশে ছিল। দলীয়ভাবে অনুশীলনের সুযোগ না থাকলেও, ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে ফিট ও প্রস্তুত রাখার কাজ করে গিয়েছেন তিনি। 

সবমিলিয়ে যতটা অভাবের সম্ভাবনা জাগিয়ে সাকিব নির্বাসনে গিয়েছিলেন, ততটা অভাব বোধ করতে হয়নি দলকে। সাকিবের নিষেধাজ্ঞার বেশিরভাগ সময় ক্রিকেটবিহীনভাবেই কেটেছে দলের। তারপরও সাকিবের বদলে টেস্ট অধিনায়কত্ব গিয়েছে মুমিনুল হকের কাঁধে। মাশরাফির বদলে সাকিবের জন্য বরাদ্দ থাকা ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পেয়েছেন তামিম ইকবার। তবে কাল থেকে ক্রিকেটাঙ্গনে ফেরা হচ্ছে সাকিবের। যদিও আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরতে সাকিবকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে জানুয়ারি পর্যন্ত। কারণ এর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন খেলাই নেই। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন