বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

গ্রামীণ রূপান্তর ।। অবকাঠামো

পাঁচ দশকে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল

ড. মো. মোরশেদ হোসেন

রাজা যায় রাজা আসে, কিন্তু ভাগ্য পরিবর্তন হয় না প্রজার। সে ভাগ্যহত প্রজা হলো রংপুর অঞ্চলের মানুষ। রাজা বদলের মতো আসে পরিকল্পনা। গালভরা নাম তার, প্রেক্ষিত, পঞ্চবার্ষিক, দ্বিবার্ষিক, কখনোবা পিআরএসপি। নামে কী-বা আসে যায়, যদি কাজই না হয়, পরিবর্তন না আসে এ অঞ্চলের মানুষের অভাবী জীবনে। ২০২০-এর জুলাই থেকে শুরু হয়ে গেছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২০-২০২৫) সময়কাল। যদিও এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি এটি। পেলেই বা কি? সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অনেক কথাই তো ছিল রংপুর অঞ্চলের মানুষকে নিয়ে। নামও দেয়া হয়েছিল এ অঞ্চলের ‘পশ্চাত্পদ অঞ্চল’, কেন পশ্চাত্পদ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল তার, দেয়া হয়েছিল পশ্চাত্পদ অবস্থা থেকে উত্তরণ কৌশল। কিন্তু পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে নেয়া হয়নি সে কৌশল, দেয়া হয়নি কোনো আর্থিক বরাদ্দ, ফলে আশায় বুক বাঁধাই সার এ অঞ্চলের মানুষের।

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আটটি জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ। রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়। ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চল পশ্চাত্পদ ও দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, নদীভাঙন এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। রংপুর বিভাগের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। যুগ যুগ ধরে শিল্প খাত রয়ে গেছে অনুন্নত। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান, অবিভক্ত বাংলার শিল্পের সামান্যই উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে। বাংলার ১০৮টি পাটকল, ১৮টি লৌহ ও ইস্পাত কল এবং ১৬টি কাগজ কলের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের অংশে একটিও পড়েনি। বাংলার ৩৮৯টি সুতাকলের মধ্যে মাত্র ৯০টি, ১৬৬টি চিনিকলের মধ্যে মাত্র ১০টি এবং ১৯টি সিমেন্ট কারখানার মধ্যে মাত্র তিনটি পূর্ব পাকিস্তান ভূখণ্ডে পড়ে। ১৯৩৩ সালে দিনাজপুরে প্রতিষ্ঠিত সেতাবগঞ্জ সুগার মিল রংপুর অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান শাসনামলে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্প উন্নয়নে পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করে। পাকিস্তান আমলে শিল্প খাতে যেটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, তা ভারী শিল্প খাতে। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা এবং দুটি বড় সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজগম্য না থাকায় সংগত কারণে রংপুর অঞ্চলে খুব বেশি বৃহৎ শিল্পের প্রসার ঘটেনি। এ অঞ্চলে বৃহৎ শিল্প হিসেবে ১৯৫৪ সালে মহিমাগঞ্জ, গাইবান্ধায় রংপুর সুগার মিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৬ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে ২৮৮৭.০২ একর জমির ওপর বার্ষিক ১৫২৪০ টন চিনি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ঠাকুরগাঁও সুগার মিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬৫ সালে ৭৮ একর জমির ওপর ১০১৬১ টন চিনি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে পঞ্চগড়ে ১৯৮.৪৬ একর জমির ওপর বার্ষিক ১০১৬০ টন চিনি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পঞ্চগড় সুগার মিল প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ১৫৮০টি উৎপাদন ইউনিটে ২০৬০৫৮ জন লোক নিয়োজিত ছিল। কিন্তু রংপুর অঞ্চলে খুব বেশি শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭২ সালে ৭২টি পাটকল, ৪৪টি বস্ত্রকল, ১৫টি চিনিকল, দুটি সার কারখানা, একটি ইস্পাত কল, একটি ডিজেল ইঞ্জিন ইউনিট এবং একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প খাতের কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ আমলেও এখানে বৃহৎ বা মাঝারি ধরনের শিল্পের তেমন প্রসার ঘটেনি। বৃহৎ শিল্প হিসেবে ১৯৭৫ সালে দিনাজপুরে দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল, ১৯৭৭ সালে নীলফামারীতে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল, ১৯৮৪ সালে কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিল এবং ২০০৪ সালে কুড়িগ্রামে কুড়িগ্রাম স্পিনিং মিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে দেশের সব অঞ্চলে শিল্পোন্নয়ন সমভাবে হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ বৈষম্য আরো বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হয়। সেনসাস অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ (সিএমআই) ১৯৯১-৯২ অনুযায়ী দেখা যায়, ১৯৯১-৯২ সময়ে রংপুর অঞ্চলে (বর্তমানের আটটি জেলা) মাত্র ১১৫৬টি শিল্প স্থাপনা ছিল। যার মধ্যে চালকল ৬৬৪টি, বিড়ি শিল্প ৭৪টি, করাত কল ১১২টি, কাঠের ফার্নিচার তৈরি ৪২টি, মৃৎ শিল্প ৫৭টি, বেকারি ৩৫টি অন্যতম। বৃহৎ আকারের কোনো শিল্প এ অঞ্চলে ছিল না বললেই চলে। জাতীয়ভাবে দেখা যায়, ১৯৯১-৯২ সময়ে বাংলাদেশে মোট শিল্প স্থাপনা ছিল ২৬৪৪৬টি। সে হিসাবে দেশের মোট শিল্প স্থাপনার মাত্র ৪.৩৭ শতাংশ ছিল রংপুর অঞ্চলে। আবার এ অঞ্চলে শিল্পে মোট কর্মসংস্থান ছিল ৫৬০৬৯ জনের, যা জাতীয়ভাবে মোট কর্মসংস্থান ১৩০৪৩৯৭-এর ৪.৩০ শতাংশ। মোট উৎপাদন, মোট মূল্য সংযোজনের দিক থেকে রংপুর অঞ্চলের শিল্প- কারখানা অনেক পিছিয়ে। সিএমআই ১৯৯১-৯২ অনুযায়ী দেখা যায়, রংপুর অঞ্চলে শিল্প-কারখানায় মোট উৎপাদন ছিল ৪৯১৯১৬৮ হাজার টাকা অর্থাৎ আটটি জেলায় গড় উৎপাদন ৬১৪৮৯৬ হাজার টাকা। যেখানে বাংলাদেশে শিল্প-কারখানায় মোট উৎপাদন ছিল ২২২৮৬৭৬৩৬ হাজার টাকা অর্থাৎ ৬৪টি জেলায় গড় উৎপাদন ছিল ৩৪৮২৩০৭ হাজার টাকা। যা শতাংশের দিক থেকে ২.২ শতাংশ। আবার এ অঞ্চলে শিল্পে মোট মূল্য সংযোজন ১৫০১৮৯২ টাকা, গড়ে ১৮৭৭৩৬.৫ টাকা এবং যেখানে জাতীয়ভাবে শিল্পে মোট মূল্য সংযোজন ৭৩২৪৯০৭৫ টাকা, গড়ে ১১৪৪৫১৭ টাকা।

সেনসাস অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ (সিএমআই) ১৯৯৯-২০০০ অনুযায়ী দেখা যায়, ১৯৯৯-২০০০ সময়ে রংপুর অঞ্চলে মাত্র ১৩৬৩টি শিল্প স্থাপনা ছিল। যার মধ্যে চালকল ৭৮০টি, বিড়ি শিল্প ৯২টি, কাঠের ফার্নিচার তৈরি ১২০টি অন্যতম। এতে দেখা যায় আট বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ২০৭টি শিল্প স্থাপনা। জাতীয়ভাবে দেখা যায়, ১৯৯৯-২০০০ সময়ে বাংলাদেশে মোট শিল্প স্থাপনা ছিল ২৪৭৫২টি। সে হিসাবে দেশের মোট শিল্প স্থাপনার মাত্র ৬.৭১ শতাংশ ছিল রংপুর অঞ্চলে। আবার এ অঞ্চলে ১৯৯৯-২০০০ সময়কালে শিল্পে মোট কর্মসংস্থান ছিল ৫৭৫৮৭ জনের, যা জাতীয়ভাবে মোট কর্মসংস্থান ২৬১৩৫৬৪-এর ২.২ শতাংশ। সিএমআই ১৯৯৯-২০০০ অনুযায়ী দেখা যায়, রংপুর অঞ্চলে শিল্প-কারখানায় মোট উৎপাদন ছিল ৭৭৪৯৪২০ হাজার টাকা অর্থাৎ আটটি জেলায় গড় উৎপাদন ৯৬৮৬৭৭.৫০ হাজার টাকা। যেখানে বাংলাদেশে শিল্প-কারখানায় মোট উৎপাদন ছিল ৬৩৯২২০৩৮১ হাজার টাকা অর্থাৎ ৬৪টি জেলায় গড় উৎপাদন ছিল ৯৯৮৭৮১৮.৪৫ হাজার টাকা। যা শতাংশের দিক থেকে ১.২১ শতাংশ। আবার এ অঞ্চলে শিল্পে মোট মূল্য সংযোজন ২১৫৯৮৯৫ টাকা, গড়ে ২৬৯৯৮৬.৮৮ টাকা এবং যেখানে জাতীয়ভাবে শিল্পে মোট মূল্য সংযোজন ২৩৫৪৪২৮১৩ টাকা, গড়ে ৩৬৭৮৭৯৩.৯৫ টাকা। 

সার্ভে  অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ (এসএমআই) ২০০৫-২০০৬ অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে শিল্প-কারখানার সংখ্যা ছিল ১৬০৯৭টি অথচ রংপুর বিভাগে ছিল মাত্র ২৩৯৩টি। ঢাকা বিভাগে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে মোট কর্মসংস্থান ছিল ২২৮৬৪৪১ জনের (৬১.৭৫%) অথচ রংপুর অঞ্চলে ছিল ৬৮৯৬৭ জনের (৩.৬২%)। মোট উৎপাদনে ঢাকা বিভাগের অবদান ছিল ৬১.১১ শতাংশ, যেখানে রংপুর অঞ্চলের অবদান ছিল ৩.৬২ শতাংশ। আবার মোট মূল্য সংযোজনের শতকরা হার ঢাকা বিভাগে ছিল ৫৫.৩২%, যেখানে রংপুর বিভাগে ছিল মাত্র ৬.৫০%। লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন হিসাবের মাধ্যমে শিল্পের তুলনামূলক আলোচনা করা যেতে পারে। লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন মূলত কোনো অঞ্চলে মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের শতকরা হারকে বোঝায়। ১৯৯৫-৯৬ ও ২০০৫-০৬ সালে ঢাকা বিভাগে লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ছিল যথাক্রমে ১৩.৭৫% ও ১৭.৪১%। সেখানে রংপুর বিভাগের লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ছিল ১৯৯৫-৯৬ ও ২০০৫-০৬ সালে যথাক্রমে ২.১২ ও ১.২৭%। লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ১. নিম্ন শিল্পায়িত অঞ্চল (লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ২% পর্যন্ত) ২. মধ্যম শিল্পায়িত অঞ্চল (লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ছিল ২.০১ থেকে ৫%) ও ৩. উচ্চ শিল্পায়িত অঞ্চল (লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ৫.০১ শতাংশের ওপরে)। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা উচ্চশিল্পায়িত অঞ্চল হলেও রংপুর নিম্ন শিল্পায়িত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আঞ্চলিক শিল্প কনসেনট্রেশন বের করার জন্য লোকেশন কোশেন্ট (এলকিউ) ব্যবহার করা হয়। এলকিউ মূলত কোনো অঞ্চলে কোনো নির্দিষ্ট শিল্পের কর্মসংস্থানের শতকরা হার ও কোনো দেশে কোনো নির্দিষ্ট শিল্পের কর্মসংস্থানের শতকরা হারের অনুপাত বোঝায়। এলকিউর মান ০.০০ থেকে ০.৫০ হলে লো কনসেনট্রেশন, ০.৫১ থেকে ১.০০ হলে মিডিয়াম কনসেনট্রেশন, ১.০০ থেকে ১.৫০ হলে হাই কনসেনট্রেশন, ১.৫০ থেকে বেশি হলে ভেরি হাই কনসেনট্রেশন ধরা হয়। সার্ভে অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ (এসএমআই) ২০০৫-২০০৬ অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে লোকেশন কোশেন্ট (এলকিউ) ২.৪০, যা ভেরি হাই কনসেনট্রেশন প্রকাশ করে। আবার রংপুর বিভাগের এলকিউ ০.২৭, যা লো কনসেনট্রেশন প্রকাশ করে।

ইকোনমিক সেনসাস ২০১৩ অনুযায়ী দেখা যায়, রংপুর বিভাগে মোট ম্যানুফ্যাকচারিং এস্টাবলিশমেন্ট হলো ৭৬৩৫৭টি, যা জাতীয় মোট ম্যানুফ্যাকচারিং এস্টাবলিশমেন্ট ৮৬৮২৪৪-এর ৮.৭৯ শতাংশ। পক্ষান্তরে ঢাকা বিভাগে মোট ম্যানুফ্যাকচারিং এস্টাবলিশমেন্ট ছিল ২৫৭২৪৯টি (২৯.৬২%), চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ম্যানুফ্যাকচারিং এস্টাবলিশমেন্ট ছিল ১৯২২৯৯টি (২২.১৫%)। রংপুর বিভাগের এ ম্যানুফ্যাকচারিং এস্টাবলিশমেন্ট ১৯৭১ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত ৮৮৩টি, ১৯৭১-৮৯ সময়কালে প্রতিষ্ঠিত ৫৬৭৪টি, ১৯৯০-৯৯ সময়কালে প্রতিষ্ঠিত ১৪২১৮টি, ২০০০-০৯ সময়কালে প্রতিষ্ঠিত ৪০৮২৫টি এবং ২০১০-১৩ সময়কালে প্রতিষ্ঠিত ১৪৭৫৭টি। রংপুর বিভাগের ৭৬৩৫৭ ম্যানুফ্যাকচারিং এস্টাবলিশমেেটর মধ্যে কুটির এস্টাবলিশমেন্ট হলো ৫৪১৮৭টি, মাইক্রো এস্টাবলিশমেন্ট হলো ২০০৫৯টি, ক্ষুদ্র এস্টাবলিশমেন্ট হলো ১৯৪৮টি, মাঝারি এস্টাবলিশমেন্ট হলো ১২৫টি এবং বৃহৎ এস্টাবলিশমেন্ট হলো মাত্র ৩৮টি। আবার কর্মসংস্থানের দিক থেকে দেখা যায় রংপুর বিভাগে মোট কর্মসংস্থান ৩৮৩৩৬৪-এর মধ্যে কুটির এস্টাবলিশমেন্টে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৮০৯৯০ জনের, মাইক্রো এস্টাবলিশমেন্টে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৪১০৯ জনের, ক্ষুদ্র এস্টাবলিশমেন্টে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৪৫৬১ জনের, মাঝারি এস্টাবলিশমেন্টে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৭৯৫১ জনের এবং বৃহৎ এস্টাবলিশমেন্টে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৫৭৫৩ জনের। রংপুর বিভাগের এস্টাবলিশমেেটর সংখ্যা, এস্টাবলিশমেন্টে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা বিভাগ থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। শিল্পায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মসংস্থান, মোট উৎপাদন, মাথাপিছু মূল্য সংযোজন, মোট মূল্য সংযোজন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার বিবেচেনা করে দেখা যায়, দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে শিল্পায়ন হয়নি। এছাড়া দেখা যায়, অ-কৃষি কাজ, নগরায়ণের পর্যায়, গ্রাম-শহর অভিবাসন, পানি সরবরাহ সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা যা শিল্পায়নের সঙ্গে ধনাত্মকভাবে সম্পর্কিত তা সব অঞ্চলে সমান নয়।

বাংলাদেশের শিল্পনীতি ১৯৭৩ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত দেখা যায় এগুলোতে পশ্চাত্পদ অঞ্চলে শিল্পায়নের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দেয়া হয়নি। ১৯৯৯ সালের শিল্পনীতিতে অনগ্রসর অঞ্চলে শিল্পায়নের কথা বলা হয়েছে। ২০১৬ সালের শিল্পনীতিতে রংপুর বিভাগের আটটি জেলাকেই শিল্পে অনুন্নত জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ শিল্পনীতিতে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনায় শিল্পায়নে পশ্চাত্পদ এলাকা, সম্ভাবনাময় এলাকা এবং অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর এলাকায় সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নে সুপারিশমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে। কিন্তু তার উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রংপুর অঞ্চলে শিল্প প্রবৃদ্ধির বাধা হলো অবকাঠামোগত দুর্বলতা। শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজন জ্বালানি—বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি। কিন্তু রংপুর বিভাগে অদ্যাবধি গ্যাস সরবরাহ না থাকায় পণ্য উৎপাদন খরচ বেশি হয়। ফলে এ অঞ্চলের উৎপাদনকারীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতিতে অনগ্রসর অঞ্চলের জন্য কোনো ইনসেনটিভ বা সুবিধার ব্যবস্থা নেই। কোনো শিল্পনীতিতে এ অঞ্চলের জন্য কোনো আলাদা সুবিধা দেয়া হয়নি। ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চল সরকারের কাছ থেকে কম মনোযোগ পেয়ে আসছে। যেমন পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এ অঞ্চলের মানুষ দরিদ্র বিধায় তাদের শিল্প-কারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব রয়েছে। ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প না থাকায় এ অঞ্চলে শিল্প স্থাপন কষ্টকর। এ অঞ্চলের সাধারণ প্রবণতা ব্যবসা কিংবা পণ্য মজুদের চেয়ে শিল্প স্থাপন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে এ অঞ্চলের ধনবান ব্যক্তিরা শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হয় না। যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে এ অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। উদ্যোক্তা জ্ঞানের অভাব, সরকারি প্রণোদনার অভাব এ অঞ্চলের শিল্পায়ন না হওয়ার একটি বড় কারণ। ব্যাংকগুলো ঋণসহায়তা করলেও এ অঞ্চলের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ, সচেতনতা, আগ্রহ না থাকায় স্টার্ট-আপ সম্ভব হচ্ছে না। এ অঞ্চলে নীলফামারীতে উত্তরা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা রয়েছে। এখানে মোট ১৮০টি প্লটের মধ্যে মাত্র ২৪টি প্লট ব্যবহার করে শিল্প উৎপাদন করা হচ্ছে। জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত এ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল থেকে ১৩৩২.২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে, বিনিয়োগ করা হয়েছে ২০৪.০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান করা হয়েছে ২৬৬২০ জনের। জ্বালানি হিসেবে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এটির সব প্লট ব্যবহার সম্ভব হয়নি।

কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন রংপুর বিভাগের জন্য সম্ভাবনাময়। বর্তমানে কৃষিপণ্য মূল্য সংযোজন ছাড়া বিক্রয় করা হয়। এ অঞ্চলে প্রচুর আম, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, কাঁঠাল, কলা, নারিকেল, আলু, টমেটো, শিম ইত্যাদি উৎপাদন হয়। এসব পণ্য জ্যাম, জেলি, বিস্কুট, চিপস ও অন্যান্য শিল্পপণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। ফুলবাড়িয়া ও দিনাজপুরের কয়লাখনির কয়লা উত্তোলন করে বড় আকারে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে এ অঞ্চলে জ্বালানি সমস্যা কিছু সমাধান হতো। বড়পুকুরিয়ায় প্রাপ্ত কঠিন শিলা খনির শিলা ব্যবহার করে সিমেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ অঞ্চলে ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত পাট ও সুতা ব্যবহার করে পাট ও সুতা শিল্প প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। গার্মেন্টস শিল্প হচ্ছে শ্রমঘন শিল্প, রংপুর বিভাগের সস্তা শ্রম এক্ষেত্রে সহায়ক। এ অঞ্চলে গার্মেন্টস শিল্প স্থাপন করা হলে এখানকার দরিদ্র জনসাধারণের আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়বে। এ অঞ্চলে হস্তশিল্প, সাবান শিল্প, বস্ত্র শিল্প, কাগজ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ অঞ্চলের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য করার নানা সুবিধা রয়েছে। স্বল্প সময়ে ও কম খরচে এ অঞ্চল থেকে এসব দেশে পণ্য রফতানি করা সম্ভব। এছাড়া এ অঞ্চলে চারটি স্থলবন্দর ১. বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, পঞ্চগড়, ২. বুড়িমারী স্থলবন্দর, লালমনিরহাট, ৩. হিলি স্থলবন্দর, দিনাজপুর ও ৪. বিরল স্থলবন্দর, দিনাজপুর ব্যবহার করে পণ্য রফতানি করা যেতে পারে। সৈয়দপুরে কার্গো বিমান সার্ভিস চালু করে ভারত, নেপাল ও চীনে এ অঞ্চল থেকে পণ্য রফতানি করা যেতে পারে। এ অঞ্চলে স্থায়ী ভোগ্যপণ্যের যন্ত্রপাতি ও রফতানিযোগ্য হালকা মেশিনারি যন্ত্রপাতি উৎপাদন করা যেতে পারে। সিরামিক শিল্প স্থাপন করা যেতে পারে। এ অঞ্চলে চামড়া শিল্প স্থাপন করা যেতে পারে। প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হলে এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক কারখানা যেমন বিদ্যুৎ, সার কারখানা স্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী শিল্প যেমন জামদানি শিল্প, নকশি কাঁথা, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, কার্পেট, চটের ব্যাগ ইত্যাদি বিদেশে রফতানি করা যেতে পারে।

এ অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। উদ্যেক্তা হতে আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পণ্য বাজারজাতের সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। স্বল্প খরচে পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করতে হবে। কোনো অঞ্চল আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হলে সে বৈষম্য কমার জন্য নীতিনির্ধারণ করা প্রয়োজন। পশ্চাত্পদ এলাকায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সহায়ক শিল্পনীতি করা প্রয়োজন। রংপুর বিভাগ শিল্পায়নে অন্য অঞ্চলের চেয়ে পিছিয়ে আছে এজন্য এখানে শিল্পায়নের পরিমাণ বাড়াতে হবে। যে সকল এলাকায় বেশি শিল্পায়ন হয়েছে সেখান থেকে কম শিল্পায়ন এলাকায় শিল্প পুনর্বণ্টন ও স্থানান্তর করা যেতে পারে। যেমন ঢাকা শহর থেকে তৈরি পোশাক শিল্প অন্য জায়গায় স্থাপন হতে পারে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নগরায়ণের হার, পানি সরবরাহ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ শিল্পায়নকে প্রভাবিত করে। এজন্য কম শিল্পায়িত এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে, যাতে নতুন শিল্প উদ্যোক্তা আকৃষ্ট হয়। এ অঞ্চলে বেসরকারি খাত বিনিয়োগে উৎসাহিত না হলে প্রথম দিকে সরকারি সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। শিল্পায়নে সহায়তা দেয়ার জন্য স্বল্প খরচে যন্ত্রপাতি আমদানি সুবিধা, স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। আর্থিক সুবিধা যেমন ১০ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডে দেয়া প্রয়োজন। দেশে ব্যবহারযোগ্য ও রফতানিমুখী শিল্পপণ্য উৎপাদনকারী শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হবে এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা করলে এ অঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হবেন। স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে সহায়তা করার লক্ষ্যে এবং রাজধানী ও শহরাঞ্চলের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোয় ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। রংপুর বিভাগে নয়টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে অত্যন্ত ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন পেয়েছে, অন্যগুলো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়ে গেছে। লক্ষণীয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে যখন উৎপাদন শুরু করেছে তখন এ অঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো অনুমোদন পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত প্রতিষ্ঠা করে এ অঞ্চলের তরুণদের সচেতনতা সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ও ঋণসহায়তা দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে এ অঞ্চলে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো, তেমনি কমত দারিদ্র্য। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের কৃষি খাতেরও উন্নয়ন হতো। রংপুর বিভাগে শিল্পায়নে সহায়তা করতে ‘রংপুর বিভাগ রফতানি উন্নয়ন কাউন্সিল’, ‘বাজার তথ্য সহায়তা সেন্টার’, ‘ইনস্টিটিউট অব এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। রংপুর বিভাগে দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়ন করা এবং উদ্ভাবন উৎসাহিত করা প্রয়োজন। আইটি পার্ক, আইসিটি সহায়তা, হাইটেক পার্ক, ইনকিউবেশন সেন্টার হলে শিক্ষিত তরুণ জনগোষ্ঠী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। এ অঞ্চলে বিনিয়োগ সহায়তা দিতে আলাদা শিল্পনীতি, করনীতি, ভ্যাট নীতি, শুল্কনীতি ও ঋণনীতি ঘোষণা করতে হবে। এ অঞ্চলের শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের জন্য শিল্প সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করতে হবে। শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির ওপর কাস্টমস শুল্ক কম ধরা, শিল্পের প্রাথমিক উৎপাদন পর্যায়ে প্রয়োজন ভ্যাট হার কমানো প্রয়োজন। শিল্পের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। এজন্য বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে পণ্যের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, মান উন্নয়ন, মার্কেটিং পলিসি নির্ধারণ, বিজ্ঞাপন ও প্রচার ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। রংপুর বিভাগে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য শিল্পায়ন করা প্রয়োজন। সেজন্য দারিদ্র্যপীড়িত ও অনগ্রসর অঞ্চলের জন্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সমৃদ্ধ অঞ্চলের চেয়ে উন্নয়ন বাজেটে ২-৩ গুণ অধিক বরাদ্দ প্রয়োজন।

বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, এসডিজি, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১), রূপকল্প-২০৪১, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ অনুযায়ী যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় রয়েছে তা অর্জন করতে হলে ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ (No one will be left behind)” স্লোগানটি বাস্তবায়ন জরুরি। দেশে যখন ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন (ফোরআইআর) নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে তখন রংপুর বিভাগের জনগণ অনেক পেছনে। তাই এখন প্রয়োজন বাংলাদেশের শিল্পে অনগ্রসর জেলাগুলোতে শিল্পায়নের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।


ড. মো. মোরশেদ হোসেন: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন