মঙ্গলবার | জানুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

গ্রামীণ রূপান্তর ।। অবকাঠামো

গ্রামীণ গ্রোথ সেন্টার

ফারহানা রশীদ , নাজিয়া জাহান

বাংলাদেশ একটি গ্রামবহুল উন্নয়নশীল দেশ। সুযোগ-সুবিধা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গ্রামভেদে অবস্থা সামান্য ভিন্ন হলেও খুব বেশি পার্থক্য নেই গ্রামগুলোর মধ্যে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। এলজিইডির (২০২০) তথ্য অনুযায়ী এ দেশের মোট আটটি বিভাগে ৮৭ হাজারটি গ্রাম, ৪৫৫৩টি ইউনিয়ন, ৪৯১টি উপজেলা ও ৬৪টি জেলা মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৩৭৫৭১৫ কিলোমিটার নেটওয়ার্কের সড়ক ব্যবস্থা। দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্টগুলোর উন্নয়ন ধীরগতিতে হলেও ক্রমেই পরিবর্তন আসছে। মেঠো পথ বদলে হচ্ছে ইটের রাস্তা, তা থেকে হচ্ছে পাকা রাস্তা। আবার সরু পাকা রাস্তাগুলো বদলে রূপ নিচ্ছে বড় রাস্তায়। বাঁশের সেতু থেকে হচ্ছে কংক্রিটের সেতু-কালভার্ট। গ্রামাঞ্চলে যোগাযোগ অবকাঠামোর এ পরিবর্তনের ফলে একসময়ের ঝিমিয়ে পড়া আর্থসামাজিক অবস্থা ও জীবনযাত্রায়ও বদল এসেছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের চেহারাও বদলে যাচ্ছে দ্রুত। 

গ্রামীণ জীবনের সার্বিক মানোন্নয়নে সড়ক উন্নয়নের ভূমিকা অপরিসীম। মূলত বাংলাদেশ একটি নদ-নদী ও খাল-বিলসমৃদ্ধ দেশ আর বাংলাদেশের মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব তো রয়েছেই। ‘গ্রামীণ সড়ক’ অবকাঠামোর ওপর বছর বছর বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর প্রভাব ভীষণ। এসবের প্রভাবে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট প্রভৃতির রক্ষণাবেক্ষণ ও সঠিক নজরদারি বেশ কঠিন। এডিবির এক তথ্য অনুযায়ী আমাদের গ্রামীণ জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কম মানুষ সব মৌসুমে চলাচল উপযোগী রাস্তা পেয়ে থাকে, যা দেশের মোট গ্রামীণ রাস্তার দৈর্ঘ্যের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। গ্রামীণ সম্পদ রক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন বেশ ব্যয়বহুল ও দুরূহ। গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা ও দুর্বল অবকাঠামো বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য বড় বাধা। 

একটু পেছন ফিরে যদি তাকাই, অতীতে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে মূলত রেল ও নৌযানের প্রাধান্য ছিল। গ্রামীণ বাজারের অধিকাংশই গড়ে উঠেছিল নদীর তীরে অথবা রেললাইনের খুব কাছে। মোগল সম্রাটগণ সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে সড়ক ও জনপথের যে উন্নয়ন সাধন করেছিল আঠারো শতকের শেষ নাগাদ সেগুলো অধিকাংশই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তখনকার উল্লেখযোগ্য একটি পুরনো সড়ক হলো সোনারগাঁও সড়ক বা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড। তবে ঢাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র ১৬৬১ সালে মীর জুমলার তৈরি টঙ্গী ও পাগলা সেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে কিছুটা ধারণা করা যায়। ইংরেজ রাজত্বকালে এ দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন খুব বেশি সুদূরপ্রসারী হয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে এ দেশ পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরও পাকিস্তান সরকার এ দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি পুরোপুরি উদাসীন থাকায় এ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবহন ব্যবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ১৯৬০ সালে তত্কালীন পাকিস্তান সরকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি নজর দিলে এ দেশের সড়ক ব্যবস্থার মোটামুটি উন্নতি সাধিত হয় এবং ১৯৭০-এ পাকা সড়কের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৩৮৬০ কিলোমিটারে। ষাটের দশকে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে কুমিল্লা মডেল (১৯৬০) কর্মসূচি প্রণীত হয়, যার মূল বিষয় ছিল কৃষি, সেচ ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন।

তবে উল্লেখযোগ্য হারে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি লক্ষ করা গেছে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরের কয়েক দশকে। বিশেষ করে আশির দশক থেকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক উপজেলা শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে দেশের জেলা শহরগুলোর সঙ্গে উপজেলা শহরের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ফলে গ্রামীণ সড়কগুলোর দিকেও কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হয়। গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত হয় এলজিইডি বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ১৯৮৪ সালে, বাংলাদেশ সরকার পল্লী উন্নয়নের জন্য নতুন কৌশল/নীতিনির্ধারণ করে যেখানে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কৃষি, সেচের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং গ্রোথ সেন্টারভিত্তিক উন্নয়ন অবকাঠামোর কথা বলা হয়। ১৯৯৬ সালে ‘পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ নীতির কার্যকারিতা বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের এক যৌথ সমীক্ষা চালানো হয়, তাতে গ্রোথ সেন্টারভিত্তিক সড়ক উন্নয়ন অবকাঠামোর যথার্থতা উঠে আসে।

গ্রামীণ সড়কপথের উন্নয়নের জন্য বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে এলজিইডি। এলজিইডি বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গ্রামীণ সড়কগুলোকে উন্নয়নের সুবিধার্থে তিন ভাগে ভাগ করেছে।

উপজেলা পরিষদ সড়কপথ: এ ধরনের সড়কগুলোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ উপজেলা পরিষদের অন্তর্গত হয়ে থাকে। উপজেলা পরিষদের সড়কপথ গ্রামীণ হাটবাজারগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। 

ইউনিয়ন পরিষদ সড়কপথ: এ ধরনের সড়কগুলো ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারা নির্মিত ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়ে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক প্রতিটি ইউনিয়নের সবগুলো গ্রাম ও হাটবাজারকে সংযুক্ত করে থাকে।

গ্রাম্য সড়কপথ: এ ধরনের সড়ক গ্রামের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত। গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নে সড়কগুলোকে আরো দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

বর্তমানে গ্রামীণ সড়কের মোট ২২৪৮২৪.৪১ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে, পাকা সড়ক রয়েছে ১২৮৫২৯.০৪ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে বর্তমানে মোট গ্রামীণ সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৫৩৩৫৩.৪৫ কিলোমিটার। (সূত্র: এলজিইডি, ২০২০)

বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে আধুনিক সুযোগসংবলিত গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ শীর্ষক একটি বহুমাত্রিক গ্রামীণ উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। ‘শহরের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রামগঞ্জে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’-এর পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে নগর ও গ্রামের বৈষম্য দূর হবে এবং গ্রামেই আধুনিক শহরের সব সুবিধা পৌঁছে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, সড়ক হবে সংস্কার’—এ স্লোগানের বাস্তব রূপ দিতে অক্টোবর ২০২০কে ঘোষণা করা হয়েছে ‘গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস’। উন্নয়নের পরিকল্পনায় গ্রামগুলোকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। তবে ‘গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা হতে হবে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই, আমাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে সংগতিপূর্ণ ও টেকসই। গ্রামের সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনায় সম্ভাব্য অনেক উন্নয়নের ধারণা দেয়া হলেও সেসব উন্নয়নের ফলে গ্রামের ভূপ্রাকৃতিক বিন্যাস ও নৈসর্গিক বৈচিত্র্যকে কীভাবে সুরক্ষিত রেখে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন সম্ভব তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। নগর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করার জন্য গ্রামীণ পরিবেশ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এসব বিষয় মাথায় রেখে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনে এগোতে না পারলে গ্রামগুলো হারিয়ে যাবে চিরতরে। শহরগুলোর মতো অপরিকল্পিত নগরায়ণের প্রভাব থেকে শিক্ষা নিয়ে গ্রামগুলোকে বাঁচানোর কৌশল বের করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে আমরা শুধু নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত আরো কিছু শহরই পাব প্রকৃত উন্নয়ন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে।

বর্তমানে গ্রোথ সেন্টারকেন্দ্রিক গ্রামীণ সড়কগুলো ঘিরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ভবন ও দালানকোঠা। সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এসব গ্রামীণ অবকাঠামো গড়ে উঠছে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের পর সড়কের পাশেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন অবকাঠামো, দোকান, ভবন। একদিকে এ দালানকোঠাগুলো তৈরি হচ্ছে গ্রামের ছোট ছোট নদীনালা, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়, পুকুর বা কৃষিজমি ভরাট করে। অন্যদিকে এসব ভবনের অনেক ক্ষেত্রেই ভূমিকম্প, অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক কোনো নীতিমালা মানা হচ্ছে না। এ কারণে গ্রোথ সেন্টারকেন্দ্রিক গ্রামীণ উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়কসংলগ্ন ভূমির উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন ভীষণ জরুরি। তা না হলে সড়ক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পাশের কৃষিজমিগুলোর অকৃষি জমিতে রূপান্তর ঠেকানো কঠিন হবে। সড়কের ধরন অনুযায়ী ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়ন ও তার প্রয়োগের যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে।

গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলোতে বিভিন্ন অঞ্চলভেদে নানা রকম স্থানীয় যানবাহন দেখা যায়। সড়কের নকশা প্রণয়নে কেবল বড় ও ভারী যানবাহনের কথা না ভেবে এসব ছোট ও মাঝারি আকৃতির যানবাহনগুলোর গতিপ্রকৃতি ও যাত্রীদের যাতায়াতের ধরনগুলো বিশেষভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন। পাকা সড়ক নির্মাণকালে আমাদের গ্রামের চিরসবুজ পথ ধরে হাঁটার অভিজ্ঞতা যেন ফুরিয়ে না যায়, তাই সড়কগুলোর সঙ্গেই হাঁটার জন্য উপযোগী গাছপালার ছায়ায় আবৃত পথচারীবান্ধব ফুটপাতের পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক। গ্রামীণ জীবনযাত্রায় এখনো বাইসাইকেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। এছাড়া পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের গ্রামীণ সড়কগুলোর সঙ্গেই সাইকেল লেনের পরিকল্পনা এখনই বাস্তবায়নের সঠিক সময়। আমাদের শহরের সড়কগুলোর মতো গ্রামীণ সড়কগুলো যেন সাইকেল লেন বা হাঁটার উপযোগী ফুটপাতের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে পরিবেশের জন্য এবং গ্রামীণ জনপদের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় তার জন্য এখনই সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

গ্রোথ সেন্টারকেন্দ্রিক সড়কগুলোর আশপাশেই স্বাস্থ্য, বিনোদন, শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধাদির ব্যবস্থা করতে পারলে যত্রতত্র অপরিকল্পিত উন্নয়নের কুফল ঠেকানো সম্ভব। 

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে গ্রামীণ সড়ক একদিকে যাতায়াতকে সহজ করেছে কিন্তু অন্যদিকে বন্যার পানি চলাচলে তৈরি করেছে বাধা। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কারণে যেন বন্যার পানি আটকে না যায়, পরিকল্পনার সময় সেই বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে সড়কগুলো বন্যা, বৃষ্টি ও ভারী যানবাহনের উপযোগী করে তৈরি করতে হবে। স্বল্পমেয়াদি উন্নয়নের পাশাপশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও ভাবতে হবে। আর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো হতে হবে সমন্বিত ও বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। গ্রামের স্বকীয়তা বজায় রেখে গ্রামীণ সড়কের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী উন্নয়ন বিধিমালা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন করলেই গ্রাম হবে স্বনির্ভর, গতি আসবে গ্রামীণ জীবনে আর দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির পথে।


ফারহানা রশীদ: স্থপতি ও নগরবিদ; প্রতিষ্ঠাতা, ভূমিজ

নাজিয়া জাহান: স্থপতি ও কবি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন