শুক্রবার | নভেম্বর ২৭, ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

বিফলে কাশ্মীরের জাফরান মিশন, চাষীদের হতাশা

বণিক বার্তা ডেস্ক

কাশ্মীর উপত্যকায় ১০ বছর আগে শুরু হওয়া ন্যাশনাল স্যাফ্রন (জাফরান) মিশন নিয়ে অনেক আলোচনা, অনেক কথা হলেও এটি কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। পুলওয়ামা জেলার পাম্পোরে উপত্যকার চাষীরা মিশন নিয়ে ভীষণভাবে হতাশ।

অনেক ধোঁয়াশা নিয়ে ২০১১ সালে ৪০০ কোটি রুপির জাফরান মিশন প্রকল্প শুরু করে ভারত সরকার। লক্ষ্য ছিল উৎপাদন মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের আয় দ্বিগুণ করে দেয়া। এটি ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়নি! কৃষকদের উৎপাদন আয় না বেড়ে বরং আশা পরিণত হয়েছে হতাশায়। প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং এখন পর্যন্ত কৃষকদের জন্য প্রকল্পটি ক্ষতিকারক হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে।

চাষীরা চরম হতাশ, কেননা মিশনটি শুরুর আগে যে কৃষক মৌসুমে এক কেজি কিংবা ৫০০ গ্রাম জাফরান উৎপাদন করতেন, এখন তার উৎপাদন কমে নেমেছে অর্ধেকে। জাফরান গাছের যে বীজ জমিতে বপন করা হচ্ছে তা ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং চাষ উৎপাদন পুনরুজ্জীবনের যে আশা করা হয়েছিল তা ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ চাষীদের।

চাষীরা এখন নিজেদের ভাগ্য এবং মিশনকে দায়ী করছেন। অনেক চাষী প্রকাশ্যেই মিশন বন্ধের দাবি করছেন। তাদের মতে, মিশনটি গত ১০ বছরে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি, বরং তাদের দুর্দশা বয়ে এনেছে।

পাম্পোরের আন্দ্রোসার খ্যাতিমান জাফরান চাষী হাজি আবদুল রশিদ মিশনকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছেন। নিজাম আহমেদ নামের আরেক চাষী মিশনের সীমাহীন ব্যর্থতার জন্য কৃষি বিভাগকেই দায়ী করলেন। তিনি বলেন, আগে আমার বার্ষিক জাফরান উৎপাদন ছিল ৫০০ গ্রাম, কিন্তু মিশন শুরুর পর তা নেমে আসে ১২৫ গ্রাম কিংবা তারও নিচে।

নিজাম জানান, কিছু কৃষকের আয় এতটাই কমে গেছে যে তাদের ভিক্ষাবৃত্তিও করতে হচ্ছে। জম্মু কাশ্মীরের মোট হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে জাফরান চাষ হয়, যদিও এর মধ্যে হাজার ২০০ হেক্টরই পাম্পোরে তেহসিলে। এছাড়া বুদগামে ৩০০ হেক্টর, শ্রীনগরে ১৬৫ কিশতওয়ারে ৬৫ হেক্টরে জাফরান চাষ হয়।

পাম্পোরের জাফরান চাষী মানজুর আহমেদ বলেন, কৃষি বিভাগকে ১২৮টি নলকূপ খনন করতে হতো, যদিও এখন পর্যন্ত খনন করা হয়েছে ১০০টি। নকশা অনুযায়ী প্রতিটি নলকূপ দিয়ে ৩০ হেক্টর জমিতে জলসেচন করার কথা ছিল। নলকূপ তৈরির পেছনে কোটি কোটি রুপি খরচ করা হলেও এটি কৃষকদের দুর্দশা আরো বাড়িয়েছে। কেননা একটি নলকূপ জমির ১০টি খালেই জলসেচন করতে পারে না।

জাফরান মিশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যখন জমিতে কোনো বীজই থাকবে না তখন মজা হবে, তাই না?

পাম্পোরের লাধু এলাকার চাষী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হতাশা নিয়ে বলেন, আমাদের কাছে এখন কোনো বিকল্প নেই এবং কিছু চাষী জাফরানের জমিতে অন্য কিছু চাষ করছেন।

তিনি জানান, জাফরান মিশন তাদের আশা শেষ করে দেয়ায় এখন বহু গ্রামবাসী জমিতে কদম, মটরশুঁটি, টমেটো পেঁয়াজ চাষ করছেন।

যদিও কাশ্মীর কৃষি বিভাগের পরিচালক আলতাফ আন্দ্রাবি বললেন, মিশনে অধিকাংশ কৃষকই লাভবান হয়েছেন। একে বিরাট সফলতা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। তার মতে, এটি উদ্বাধনী বৈজ্ঞানিক মেথড হওয়ায় ভালো ফল এসেছে।

আন্দ্রাবি জোর দিয়ে বলেন, এটা বৈজ্ঞানিতভাবে নকশা করা কর্মসূচি হওয়ায় কোনোভাবেই ভুল হতে পারে না।

পুলওয়ামা জেলার কমিশনার . রাঘব ল্যাঙ্গা বলেন, আসলে মিশন বিলম্বিত হয়েছিল। ২০১১ সালে শুরু হলেও কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে ঠিকমতো তহবিল না পাওয়ায় কয়েক দফায় কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। গত এক বছরে অন্তত ১০৫টি স্প্রিংকেল সেচ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 

ডেইলি এক্সেলসিওর ডটকম অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন