বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

হুয়াওয়েকে ডিসপ্লে সরবরাহের অনুমোদন পেল স্যামসাং

বণিক বার্তা ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের ডিসপ্লে নির্মাণ বিভাগ স্যামসাং ডিসপ্লে, যা চীনভিত্তিক হুয়াওয়ের কাছে নির্দিষ্ট কিছু ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

বিশ্বের বৃহৎ দুই অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র চীন। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের বাণিজ্য বিরোধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। বিশ্বের বৃহৎ নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম এবং দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ের পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ মার্কিন নাগরিকদের ওপর নজরদারির কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য চীন সরকারের কাছে হস্তান্তর করছে। এমন অভিযোগে মিত্র দেশগুলোকে হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম বর্জনে উৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর হুয়াওয়ে ইস্যুতে আরো কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছে পণ্য সরবরাহে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। যেখানে বলা হয়, শুধু মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়; যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করে এমন বাইরের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও হুয়াওয়ের কাছে পণ্য সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে। যে কারণে স্যামসাং ডিসপ্লে হুয়াওয়ের কাছে অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড (ওএলইডি) ডিসপ্লে সরবরাহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়ে। স্যামসাং ডিসপ্লে হুয়াওয়ের পাশাপাশি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের অন্যতম ওএলইডি ডিসপ্লে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

হুয়াওয়ের প্রিমিয়াম ডিভাইসের বৃহৎ দুই ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহকারী স্যামসাং ডিসপ্লে এলজি ডিসপ্লে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রশাসন হুয়াওয়ের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পরিসর আরো বর্ধিত করায় প্রতিষ্ঠান দুটি হুয়াওয়ের কাছে ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানায়। যে কারণে নিজস্ব ডিভাইস উৎপাদনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সংকটে পড়ে হুয়াওয়ে।

হুয়াওয়ে বিষয়টি ঘিরে কোনো মন্তব্য করেনি। গত সেপ্টেম্বরে এলজি ডিসপ্লের বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হুয়াওয়ের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পরিসর বাড়িয়েছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক না হলেও তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য উন্নয়ন করছে এমন প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে বিশেষ লাইসেন্স নিতে হবে, যা এলজি ডিসপ্লের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু তারা নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে মার্কিন প্রশাসনের রোষানলে পড়তে চায় না। যে কারণে হুয়াওয়েকে ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন গ্রাহক অন্বেষণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

হুয়াওয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে হুয়াওয়ের ব্যবসা কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। নিজেদের পণ্য উন্নয়নে মার্কিন ব্যবসা অংশীদারদের কাছ থেকে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার সেমিকন্ডাক্টর পণ্য ক্রয়ের পথ বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পরিস্থিতির মধ্যে হুয়াওয়ে ইস্যুতে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাবি করে, তারা হুয়াওয়েসহ তাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। মার্কিন থাবা থেকে হুয়াওয়েসহ অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোকে বাঁচাতে তারা কঠোর হতেও দ্বিধা করবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গত সেপ্টেম্বরে জারীকৃত সীমাবদ্ধতার লক্ষ্য বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া হুয়াওয়েকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সেমিকন্ডাক্টর পেতে বাধা দেয়া। একই সঙ্গে ২১টি দেশে হুয়াওয়ের ৩৮টি সহায়ক প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন সরকারের কালো তালিকাভুক্ত করা।

শুধু হুয়াওয়ে নয়; যুক্তরাষ্ট্রে চীনভিত্তিক বাইটডান্স নিয়ন্ত্রিত শর্ট ভিডিও তৈরির সোস্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটক টেনসেন্ট নিয়ন্ত্রিত উইচ্যাট নিষিদ্ধে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময় ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। সময়ের মধ্যে টিকটককে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কিন কার্যক্রম বিক্রি করতে ওরাকল করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে টিকটক কর্তৃপক্ষ।

চীনের অভিযোগ, বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে প্রতিযোগিতা নয়; একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকা ফার্স্ট নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত হেনস্তার শিকার হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি থামাতে একের পর এক অন্যায় অভিযোগ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেক্কা দিতে সক্ষম সব চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন তথ্য নিরাপত্তার অভিযোগ তুলছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসার দিক থেকে দাবিয়ে রাখতে পরিকল্পিত ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন