মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

আন্দোলন থামানোর উদ্যোগ

কমিটি গঠনের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছেন থাই আইনপ্রণেতারা

বণিক বার্তা ডেস্ক

মাসব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমাপ্তি টানতে করণীয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছেন থাইল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা। দেশটির হাউজ স্পিকার চুয়ান লিপকি গতকাল জানান, উপপ্রধানমন্ত্রী জুরিন লাকসানাউইজিট একটি প্যানেল গঠনের প্রস্তাব করেছেন। বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে বলে জানান তিনি। খবর ব্লুমবার্গ।

সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টের দুদিনব্যাপী বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। গতকাল অধিবেশন শেষ হয়েছে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যান-ওচার সরকারের পতন দেশটির রাজতন্ত্রে সংস্কারের দাবিতে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই আন্দোলন চলছে। ২০১৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওচা ক্ষমতায় আসার পর এটাই থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় ঘটনা।

২০১৪ সালে ওচা সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন সময় আন্দোলন-বিক্ষোভ হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির আদালত একটি রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করার আদেশ দিলে আন্দোলন গতি পায়। ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি নামে ওই দলটি ২০১৯ সালের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং সংসদে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পায়। তবে ওই নির্বাচনে বিতর্কিতভাবে জয়ী হয় সেনা নেতৃত্বাধীন সরকার।

বিক্ষোভকারীরা ওচার পদত্যাগসহ রাজার ক্ষমতা খর্ব করার দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের সংবিধানও নতুন করে লেখার দাবি উঠেছে।

থাইল্যান্ডের সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির রাজতন্ত্র নিয়ে সমালোচনা করা নিষিদ্ধ। তবে দীর্ঘদিনে প্রথা ভেঙে করোনা মহামারীর মধ্যেই গত আগস্টে থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে প্রথমবার সমালোচনা করেন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী অ্যানন নামপা। ওই মাসেরই শেষদিকে রাজতন্ত্রের নিয়মে সংস্কারের ১০ দফা দাবি পেশ করেন অধিকারকর্মী পানুসায়া সিথিজিরাওয়াত্তানকুল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করে থাই সরকার। এক ডিক্রিতে একসঙ্গে চারজনের বেশি সমবেত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন