বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

সানেম নেটিজেন ফোরামের ওয়েবিনারে বক্তারা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অর্থনীতির চালিকাশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিকভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণে অনানুষ্ঠানিক খাতকে গুরুত্ব দিয়ে করোনা সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে যেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলে তা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে আরো প্রভাবিত না করতে পারে। গতকাল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত ওয়েবিনার থেকে অভিমত দেন আলোচকরা।

বর্তমান মহামারীর ফলে বিরাজমান সংকট আসন্ন সংকটের বিভিন্ন আঙ্গিক উত্তরণের উপায় নিয়ে দেশ দেশের বাইরের অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি ইন্টারনেটভিত্তিক প্লাটফর্ম সানেম নেটিজেন ফোরাম গতকাল প্লাটফর্মের নবম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক . সেলিম রায়হানের পরিচালনায় আলোচনায় জুমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। এতে সানেম টিমে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক . সায়েমা হক বিদিশা এবং সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মাহতাব উদ্দিন।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর কভিড-১৯ মহামারী বর্তমানে কতটুকু প্রভাব ফেলছে, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কিনা বা দাঁড়ালেও নিকট ভবিষ্যতে অর্থনীতির স্বরূপ কী দাঁড়াবে, ভারত বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপির পার্থক্য, কৃষি খাতে বিদ্যমান প্রবণতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে . সায়মা হক বিদিশা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উৎপাদনশীল কাজের কারণে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু তা কীভাবে হচ্ছে? তা কি অন্তর্ভুক্তিমূলক? প্রবৃদ্ধির গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রবৃদ্ধির সুফল সবাই পাচ্ছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা হতে হবে। মানুষের কর্মসংস্থান, আয়, দারিদ্র্য, অসাম্য এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যাগত প্রবৃদ্ধির দিকে লক্ষ না রেখে অন্তর্ভুক্তির দিকে বেশি লক্ষ রাখতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। প্রবৃদ্ধি ছাড়াও অন্যান্য সূচক, যা দেশের মানুষের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরে, সেগুলো বিবেচনায় আনতে হবে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্য দেশের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থানে আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রবাসী আয় এবং পোশাক শিল্প। দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থানে আছে। আইএমএফের প্রাক্কলন রয়েছে যে, ভারতের তুলনার বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হবে। ভারতের অর্থনৈতিক আকার, জনসংখ্যা ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রে সার্বিক চিত্রটি দেখতে হবে, শুধু একটি-দুটি সংখ্যা তুলনা করলে হবে না।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে আরো আলোচনা করতে গিয়ে . বিদিশা বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও উদ্যোগটি যথাসময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। আর অভিবাসীদের পাঠানো অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। এছাড়া কৃষির শক্ত ভিত খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত রেখেছে।

. সেলিম রায়হান বাংলাদেশ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের প্রকৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কোনো কোনো খাত পুনরুদ্ধার হচ্ছে, কোনো কোনো খাতে হচ্ছে না। অর্থাৎ সার্বিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সামাজিক পুনরুদ্ধার সমান্তরালভাবে হচ্ছে কিনা সেটি খেয়াল রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রবাসী আয় পরিবারগুলোয় অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে প্রবাসী আয় পোশাক দুই প্রভাবশালী খাতের ধনাত্মক প্রভাবের কারণে। তবে প্রভাব অর্থনীতির অন্য খাতগুলোয় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারছে কিনা সেটি দেখার সময় এসেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করে . রায়হান ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি বলেন, আরো চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক চাহিদায় প্রভাব; চাহিদা, বিনিয়োগ বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় আছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সমন্বয় মূল্য (অ্যাডজাস্টমেন্ট কস্ট) আছে খানা পর্যায়ে এবং ব্যবসা পর্যায়ে। খানা পর্যায়ে মূল্য দিতে হচ্ছে ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অথবা সঞ্চিত অর্থ খরচের মাধ্যমে, যা সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মূল্য দিতে হচ্ছে উৎপাদন কমানোর মাধ্যমে, এতে ব্যবসায়িক আস্থা কমে যাচ্ছে।

মাহতাব উদ্দিন প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে এবং প্যাকেজগুলো কতটুকু কার্যকরী হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। চিহ্নিতকরণের সীমাবদ্ধতা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, নগদ প্রণোদনা কতটা কার্যকর হতে পারে মুহূর্তে সেটিও একটি প্রশ্ন। নগদ প্রণোদনা ছাড়া অন্য বিকল্পগুলোও ভাবা যেতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন