বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

প্রথম পাতা

রফিক-উল হকের প্রয়াণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মারা গেছেন। গতকাল সকালে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিকালে বনানী কবরস্থানে স্ত্রী ডা. ফরিদা হকের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে।

ফুসফুসে সংক্রমণসহ নানা জটিলতা নিয়ে ১৫ অক্টোবর থেকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রফিক-উল হক। এর মধ্যে হাসপাতালে স্ট্রোকও হয়েছিল তার। গত মঙ্গলবার থেকে ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় আইসিইউতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে হাসপাতালটির মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান

সর্বজনশ্রদ্ধেয় আইনজীবীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন গভীর শোক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বিপুল অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ আইনবিদকে হারাল।

জরুরি অবস্থার সময় আইনজীবী হিসেবে রফিক-উল হককে পাশে পাওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শোকবার্তায় বলেন, ২০০৭ সালে তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে। সেই দুঃসময়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হক আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য, সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনীতিবিদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করে আলোচনায় ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। যদিও বিভিন্ন সময় এই দুই নেত্রীর সমালোচনাও করেছেন তিনি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ভাবমূর্তি রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক কেবল একজন সফল আইনজীবী ছিলেন তা নয়, ব্যক্তিগতভাবে মানবতার সেবকও ছিলেন। নিজের উপার্জিত অর্থের বড় অংশই খরচ করেছেন সমাজসেবায় মানুষের কল্যাণে। প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, এতিমখানা, মসজিদ মেডিকেল কলেজ।

১৯৯৫ সালে রফিক-উল হক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুবর্ণ ক্লিনিক, ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা ছিল তার। আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ২৫টিরও বেশি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি

রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের নভেম্বর কলকাতায়। তার বাবা মুমিন-উল হক ছিলেন চিকিৎসক। তার বাল্যকাল কেটেছে কলকাতায়। পড়াশোনা করেছেন চেতলা স্কুলে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এলএলবি ডিগ্রি গ্রহণ করেন এবং ১৯৬০ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ইংল্যান্ড থেকে বার অ্যাট সম্পন্ন করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তত্কালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়। আইনজীবী হিসেবে ঢাকার উচ্চ আদালতে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন রফিক-উল হক। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। তবে সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হয়েও কোনো বেতন নেননি তিনি।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী . আব্দুর রাজ্জাক, বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, তথ্যমন্ত্রী . হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মত্স্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিমান পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, গৃহায়ন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শ্রম কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, মহিলা শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এছাড়া শোক জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ১৪ দলের সমন্বয়ক মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন