বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

খবর

বাংলাদেশের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

পৃথিবীতে কভিডের টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ যেন দ্রুত সংগ্রহ করতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। কভিড-১৯ টিকা কিনতে ঋণসহায়তা হিসেবে আইডিএভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যাধিক্যের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য নায্যতার সঙ্গে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক আইএমএফ বার্ষিক সভা-২০২০-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক আইএমএফের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শ্যেফারের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ২২ অক্টোবর একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী, অর্থ সচিব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আলোচনায় অংশ নেন। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষে হার্টউইগ শ্যেফার মার্সি মিয়াং টেম্বন অংশ নেন।

সভার শুরুতে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি কভিড-১৯ টিকা কিনতে ঋণসহায়তা হিসেবে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নায্যতার সঙ্গে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। অর্থমন্ত্রী কভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের গৃহীত দ্রুত সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন। তিনি প্রসঙ্গে কভিড-১৯ মোকাবেলার ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংকও বিষয়ে আশ্বস্ত করে যে, বাংলাদেশের বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখা হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী করোনার টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব জনগণের জন্য টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বর্তমান অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ১৯-এর আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত হিসেবে টিকা আমদানি/ক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন বিতরণের কাজে ৫০ কোটি ডলারের সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। কভিড-১৯ জনিত কারণে সংঘটিত দেশের বিভিন্নমুখী ক্ষয়ক্ষতি পূরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৫০ কোটি ডলার থেকে চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ২৫ কোটি ডলার ছাড়করণের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, আইডিএ-১৮-এর আওতায় বাংলাদেশ কোর আইডিএ হতে ৫০০ কোটি ডলার এবং এসইউএফ থেকে আরো ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা আইডিএভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একক সর্বোচ্চ পরিমাণ। তিনি প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করায় আইডিএ-১৯-এর আওতায় বাংলাদেশকে বিগত বছরগুলোর তুলনায় অধিক পরিমাণে বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন