বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

ইকুয়াল রাইটস বা সমান অধিকার

মাহমুদ রেজা চৌধুরী

সমাজে মানুষ কখনোই ‘সমান’ অধিকারে বা ‘সমান’ মর্যাদায় থাকে কিনা,  জানি না। তবে মানুষ এই ‘সমান’ বিষয়ে সভ্যতার শুরু থেকেই লড়াই এবং সংগ্রামের মধ্যেই আছি আমরা। সমতা বা সমান, এরকম একটা ব্যবস্থাপনা আমাদের কাম্য কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে কিনা। গুণীজনেরাই  ভালো বলতে পারবেন।

অতি সাধারণ কিংবা অর্ডিনারি ব্যক্তি হিসেবে মনে হয় কোনো সমাজেই মানুষ অন্য মানুষের প্রতি সাধারণত আমরা সমান আচরণ করি না বা করি কম।

এর একটি কারণ হতে পারে, একজন মানুষ আরেকজন মানুষের প্রতি সমান আচরণ করতে গেলে তার নিজের ব্যাপারে যতটুকু ‘নিজ-কে’ জানার এবং বোঝার বিষয় থাকে, সেখানে এক ধরনের রাগ অনুরাগ, আবেগ। এই বিষয়গুলো আমাদের মনে বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। যে কারণে, আমরা নিজেকে যতটা ভালোবাসি বা যেভাবে দেখি অথবা নিজের শ্রেণী বা গোষ্ঠীকে যেভাবে দেখি। এই একই দৃষ্টিভঙ্গি অন্য মানুষের বা শ্রেণীর প্রতি এবং যারা আমার এবং এই ‘আমাদের’ সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তাদেরকে  নিজেকে যেভাবে দেখি, সেভাবে দেখি কি-।‌ এই বিষয়টাও মাঝে, মাঝে ভাবায়।

একজন মানুষ অপর একজন মানুষের প্রতি আমরা কতটা ‘ন্যায়বিচার’ করতে পারি। এই ব্যাপারেও সন্দেহের  অবকাশ আছে। মানুষ মাত্রই আমরা স্বার্থপর ব্যক্তি এবং শ্রেণীতে বিভক্ত। নিজের প্রয়োজনে যেটাকে ন্যায় বলে মনে করি, অথবা ‘অধিকার’ ভাবি বা মনে করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় একই ন্যায়বোধ বা অধিকারবোধ অন্য একজন মানুষের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিকোণে দেখি। সম-অধিকার অথবা ইকুয়াল রাইটস। আমাদের প্রত্যাশায় থাকে, চিন্তাতে থাকে। বাস্তবে থাকে না। বাস্তবতার চিত্র নানারকম বৈষম্য এবং অসমতায় ভরা।

বিষয়টাকে যদি রাজনৈতিকভাবে দেখি। অনেক সময দেখতে পারি, গণতান্ত্রিক একটি আদর্শের ভেতর ‘মেজরিটির’ গুরুত্ব থাকে, প্রভাব থাকে, শক্তি থাকে,  যেটা কোনো সমাজের ‘মাইনরিটি’ অংশের চাইতে একটু বেশি হয়। গণতন্ত্রে মাইনরিটির অধিকার এবং তাদের যে কোনো চিন্তা, সংস্কৃতি, বিশ্বাস। এসবের প্রতি গণতন্ত্রের যারা মেজরিটি তাদের অবশ্যই অগ্রাধিকার চিন্তা থাকা দরকার। কিন্তু এই চিন্তাটাও স্লোগানে যত আছে বাস্তবে সেটাও নেই। ভারতের মাইনোরিটি শ্রেণী বা গোষ্ঠী ইতিহাসের পর্যালোচনাতে কতটা কী কী অধিকার পেত বা এখনো পাচ্ছে। ভারতের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বাস্তবতা কী বলে। ভাববার বিষয় আছে। ব্রিটিশ রাজতন্ত্র, সৌদি রাজতন্ত্র। রাশিয়ায় একনায়কতন্ত্র। চীনে ব্যক্তিতন্ত্র- এর কোনো সমাজ এবং রাষ্ট্রের ‘ইকুয়ালিটি’ প্রশ্নে কতটা সচেতন।

গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগত মেজরিটির সব অগ্রাধিকার বা অধিকার  বোঝায় না। এখানে যারা মাইনরিটি থাকেন সবার আগে তাদের সুরক্ষার ব্যাপারটাও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।  বিষয়টাকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখছি না।

এই দেখবার পরিপ্রেক্ষিতে এটাও লক্ষ্য করেছি অতীতে এবং যা এখনও করি। কোন কোন সমাজব্যবস্থাতে কোন কোন রাজনৈতিক শ্রেণী বা গোষ্ঠী সমাজ ও রাষ্ট্রের মাইনরিটি সুরক্ষার প্রশ্নে যতটা সজাগ এবং অনুভূতিশীল হওয়া উচিত সে পরিমাণ সচেতনতা অনেক ক্ষেত্রে সমাজের ‘মেজরিটির’র ব্যাপারেও কোনো না কোনো কারণে হই না অথবা হতে পারি না। বা হতে চাই না। আমরা গণতন্ত্র বলতে অগ্রাধিকার দিতে চেষ্টা করি মাইনরিটির সুরক্ষাকে। এই ব্যাপারটা  বাংলাদেশের রাজনীতিতেও অতি সাম্প্রতিক অনেক কিছুতে দৃষ্টান্তমূলক আছে।

এতে সুবিধা হলো, এতে প্রচ্ছন্নভাবে সমাজে আমরা এক ধরনের ‘অসমতা’ এবং অনেক কিছুকে রাজনৈতিক স্বার্থেও ব্যবহারের একটা পরিবেশ সৃষ্টি করি।

ধরা যাক, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা। এখানে খুব গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখলে দেখা যাবে, সংখ্যাগত দিক থেকেও যদি বিবেচনা করি, সেখানে বঞ্চনার দিকে বলি, অধিকারের কথা বলি। জীবনের নিরাপত্তার কথা বলি। যেহেতু এখানের মেজরিটি সংখ্যায় একটি ধর্ম বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী আছে। তাদের ব্যক্তি এবং ‌শ্রেণীস্বার্থ কিন্তু প্রতিদিনই বিঘ্নিত হচ্ছে। তারাও শোষিত হচ্ছেন, অবিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংখ্যাটা কোনো মাইনরিটির সংখ্যার চাইতে কম না।‌ বরং বেশি বলা যায়।

আমাদের অনেকেরই চিন্তা কিংবা আলোচনাতে ‘ওই তাদের’ কথা, যতটা গুরুত্ব পায় তার চেয়ে অধিক বেশি গুরুত্ব পায় যেকোনো মাইনরিটির সুরক্ষার বিষয় নিয়ে।

এক্ষেত্রে ইকুয়াল রাইটস কীভাবে কার্যকর, বোঝা কঠিন। কোনো সমান অধিকার কেবল একটি শ্রেণীর জন্য যদি বেশি অগ্রাধিকার পায় সে ক্ষেত্রে বড় একটি অংশের প্রতি আমাদের ইকুয়াল দৃষ্টি কতটা প্রসারিত?

মাঝে মধ্যে নিজেকে ভাবায়। এর অর্থ এটা নয় যে, বিশেষ কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সমাজ বা রাষ্ট্রের অপেক্ষাকৃত ছোট অংশের প্রতি অবিচার অবহেলা অথবা তাদের ব্যক্তি ও সামাজিক অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে যাবে। এই অনুশীলনটা রাজনীতিবিদদের মধ্যে যতটা প্রকট কিংবা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ থাকে, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সেটা থাকে না। একজন সাধারণ মানুষ কিংবা নাগরিকের মধ্যে ‘ইকুয়াল’ প্রত্যয় কিংবা বিবেচনাটি যতটা গুরুত্ব পায়, সেরকম সমান গুরুত্ব পায় না বিষয়টা অনেক রাজনীতিবিদদের কাছে, তেমনি কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্বদের কাছেও। এটা বাস্তবতা। আবেগের কথা না। ইকুয়াল বিষয়টা তখন রাজনৈতিক স্বার্থে কিংবা গোষ্ঠীর স্বার্থে অথবা ব্যক্তি স্বার্থে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রিঅ্যাকটিভ বা অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়াশীল হয়। ইতিহাসে এসবের দৃষ্টান্ত আছে।

মানুষ মানুষকে সমান অধিকার দেয় কতটা, বা সেটা‌ দিতে পারে কিনা। এটা নিয়েও প্রশ্নের অনেক সুযোগ আছে। আমরা মানুব সমাজে জন্মগতভাবেই সমান না। কারো জন্ম প্রাচুর্যের মধ্যে, কারো দরিদ্রতার মধ্যে। কারণ  অধিকাংশ মানুষের প্রতিদিনই কাটে সমাজে বিভিন্ন অগ্রাধিকারভুক্ত শ্রেণির মানুষের থেকে পাওয়া অবহেলার মধ্যে। এই পরিবেশে একটা শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে জন্মমাত্র সে একটা অ-সমান সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনাতেই কিন্তু বড় হচ্ছে এবং হয়।

এরকম ঘরে জন্ম নেয়া কোনো মানবসন্তান সমাজে ধনী শ্রেণীর ঘরে জন্ম নেয়া সন্তানের তুলনায় সবক্ষেত্রেই শুরু থেকেই একটা ‘আন-ইকুয়াল’ সমাজ ব্যবস্থায় বড় হয়ে ওঠে। এই ব্যবস্থাপনাকে বর্তমান রেখে আমরা কোনো ধরনের ‘ইকুয়ালিটি’ বা সমান অধিকারকে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে পারি বা পারব কিনা জানি না।

তাই বলে কি ইকোয়াল রাইটসের কথা বলা হবে না? না, তা তো বলিনি। তবে কোনো একটা কিছুকে ইকুয়াল রাইটস বলে রায় বা দাবি করলে, আমরা যেন মনে রাখি যে সমাজে ইকুয়াল রাইটস, এই যুদ্ধটা কিন্তু প্রতিদিনের।

এর চূড়ান্ত সুফল এখনো সমাজে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। কবে বা পারব, তাও সুনিশ্চিতভাবে বলা কঠিন, তবে এই সংগ্রামের যুদ্ধ প্রতিমুহূর্তের। এর সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ নেই।

সমাজে এই সমান সমান বিষয়টাকে, গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেক দার্শনিক এবং সমাজ ও রাষ্ট্র চিন্তাবিদরা এক সময় সাম্যবাদ বা সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো এই যে, একটা সময় আমরা সর্বহারা শ্রেণী বলতে যে বিষয়টাকে বুঝতে পারতাম, বাস্তবে দেখা গেছে সেরকম কোনো শ্রেণী ক্ষমতায় গেলে তখন সেই শ্রেণী বা গোষ্ঠী আর ‘সর্বহারা’ থাকে না। তাই পৃথিবীতে সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদ সেই অর্থে গণতন্ত্রের মতো সফল হতে পারেনি।

পুঁজিবাদের কাছে সমাজতন্ত্রের পরাজয় বা সাম্যবাদের পরাজয়ের অন্যতম একটি কারণ, মানুষ আসলে জন্ম থেকেই অ-সমান- আর্থিক, পারিবারিক, শিক্ষা, সামাজিক, রাজনৈতিক, ভৌগলিক এবং রাষ্ট্রীয় আত্মপরিচয়ের মধ্যেই বড় হয়। রাষ্ট্র যদি তার আচার আচরণের সংস্কৃতিতে সমতা বা গণতন্ত্রকে না, বৈষম্যকে এবং শক্তি প্রয়োগে বেশি অগ্রাধিকার দেয়, সেই রাষ্ট্র এবং সমাজে কোনো ধরনের সমতা বা ইকুয়ালিটি বিরাজ করে না। এটা যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সমান বাস্তবতা।

সমাজে একজন ধনী ব্যক্তির সঙ্গে, একজন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ব্যক্তির অধিকার সমান হয় না। একজন উচ্চশিক্ষিত, আলোকিত মানুষের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত একজন মানুষের। অধিকার এবং অগ্রাধিকার  সমান  না। একজন শক্তিশালী মানুষের সঙ্গে একজন দুর্বল মানুষের অধিকার সমাজে সমান না। একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তির সঙ্গে, ‘ক্ষমতাহীনদের’ ‘সমান’ অধিকার হয় না। যেমন সর্ব ভোগীদের সঙ্গে সর্বহারাদের ক্ষমতা সমান  না।

বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, রাষ্ট্র, এর কোনটাই মানুষকে এইসব চিন্তার উপরে অন্য মানুষের অধিকারকে নিশ্চিত করতে কিংবা সুরক্ষা দিতে সমান দৃষ্টিভঙ্গি আমরা চর্চা করি না।  চারিত্রিকভাবেও মানুষ কিন্তু ব্যক্তি এবং শ্রেণীর স্বার্থের প্রতি আমরা দুর্বল। এটাও বাস্তবতা।

একটা সমাজ যখন অনগ্রসর ছিল বা এতটা অগ্রসর ছিল না, তখনো যেমন ছিল এখনো তেমনি আছে। ইতিহাসে পড়েছি যে, যখন সমাজে সামাজিক সম্পর্ক অনেকটা পশু হত্যার মধ্যে বিরাজমান ছিল, তখনও দেখা গেছে নির্দিষ্ট পরিবারের যে ব্যক্তিটি বেশি পশু হত্যা করতে পারতেন, পশু হত্যায় যার শক্তি যত বেশি হতো, সমাজে বা পরিবারে তার অগ্রাধিকার অন্যদের তুলনায় বেশি থাকত। নিহত পশুর মাংস তখনও সমানভাবে বণ্টন হতো না। সমাজে সম্পদের বণ্টন তখন থেকেই অসমান। অধিকার অসমান ছিল।

এখন সমাজ বদলেছে, সভ্যতার নানা রকম উদ্ভাবন এবং আবিষ্কারের কারণে সমাজ অগ্রসর হয়েছে অনেক। কিন্তু সমাজের ভেতরের মানুষের মধ্যে যে একটা পাশবিকতা আছে, অপরাধের প্রতি ঝোঁক আছে। অপরের সম্পত্তি অধিকারে লোভ আছে।

শারীরিক শক্তির প্রতি দুর্বলতা আছে। এর তো কোনো পরিবর্তন হয়নি, পরিবর্তন হয়েছে এর ব্যবহারের কৌশল কিংবা মোড়কের। এই অবস্থাতে আমরা সমাজ বা রাষ্ট্র কতটা কার পক্ষে, কার বিপক্ষে ‘ইকুয়াল রাইটস’ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। বিষয়টাকে চিন্তাতে উপেক্ষা করা যাবে কি?

সভ্যতার অগ্রসরের সঙ্গে এক পর্যায়ে মানুষ যখন নিজের তৈরি কাপড়ের পোশাক পরিধান করা শুরু করল। তখন পোশাক ছাড়া মানুষকে সমাজ গ্রহণ করত না। তাদের সমালোচনা হত। কেউ যদি আমরা দাবি করি যে, একজন যদি পোশাক পরে হাঁটতে পারেন রাজপথে, আমি তাহলে ‘ন্যাংটা’ হয়ে হাঁটতে পারব না কেন? এটা আমার ব্যক্তিগত অধিকার। সমাজ তখন হয়তো বলবে সমাজের কোনো নর্মের কথা। যে এটা  করা যাবে ওটা করা যাবে না।

এখন সব কিছুর যে রকম পরিবর্তন দেখছি হয়তো বা একদিন এরকম আসতেই পারে, মানুষের কাপড় পরা এবং না পরা সমান অধিকার বিবেচিত হবে অথবা হতে পারে।

সমান অধিকার কিংবা সমমর্যাদা। এই বিষয়গুলো সমাজের মানুষের দ্বারাই সময়, পরিবেশ এবং যুগের দাবিতে বদলে যায়। এক সময় মানুষ যেটাকে এক ধরনের অপরাধ কিংবা অপছন্দ করতো, আজকে অনেক ক্ষেত্রে সেরকম অপছন্দগুলো ব্যক্তি স্বাধীনতার পছন্দের অগ্রাধিকারে চলে আসছে। সমাজ এবং রাষ্ট্র একে স্বীকৃতিও দিচ্ছে। এটা সমান অধিকার নাকি অধিকারবোধে অন্যের অধিকারকেও ‘ইকুয়ালি’ সম্মান করা। বিষয়টা মাঝে, মাঝে চিন্তায় নাড়া দেয়।

তাই কখনো কখনো মনে হয়, বাস্তবে ইকুয়াল বিষয়টা এক ধরনের রোমান্টিকতা কিনা। যদি তাই না হয় তখন যদি চোর-ডাকাতরা বলে, আমি চুরি করবো বা ডাকাতি করব। এটা আমার অধিকার। এর জন্য আমাকে জেলে নেয়া যাবে না। এটাও আমার সমান অধিকারের বিষয়। তখন এটাকে আমরা কীভাবে দেখব।

তাই ইকুয়ালিটি কথাটার অর্থ যদি এমন হয়, যা খুশি তা না করা কিন্তু আমার সব কাজের মধ্যে একটা শালীনতা, অন্যের প্রতি সহনশীলতা, এবং সমাজের মূল্যবোধের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা রেখে আমার অধিকারকে চর্চা করা।

সে ক্ষেত্রে ইকুয়ালিটির সম্মান এবং এর অধিকার সবার আগে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কিন্তু তা না হয়ে কোনো ইকুয়াল রাইটস যদি এ ব্যাপারে উগ্রতার রূপ নেয়, সভ্যতার বিপরীতে গিয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র শ্রেণীস্বার্থকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়। সে ক্ষেত্রে কোনো ইকুয়াল রাইটস ইকুয়ালি জাস্টিফাই করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ অগ্রাধিকার বিষয়টাও তখন অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে ইকুয়ালিটির ধারণা নিয়ে মার্কিন সমাজে বর্ণ বৈষম্যকে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং জটিল করে দিতে পারে এই সমাজ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির  চর্চাকে।

আমাদের মানবিকতাবোধ, মনুষত্ববোধ, পরমত সহিষ্ণুতা, অন্যের প্রতি বিনয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ন্যায় পরায়ণতা- এইসব কিছুতেই আমরা যদি আমাদের সামগ্রিক চিন্তা এবং চেতনাতে এবং ব্যবহারে এর দৃষ্টান্তমূলক দৃষ্টান্ত রাখতে পারি।  হয়তো তখনই সম্ভব হবে সমাজে এক ধরনের ইকুয়াল রাইটস কিংবা সমতা আনা অথবা বজায় রাখা। পুরোটা না হলেও আংশিক হলেও।‌ এসব চর্চার শুভ ফল সমাজ এবং রাষ্ট্রে যে ইকুয়ালিটি বয়ে আনবে এবং আনতে পারে, তারও মূল্য কম হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন