শনিবার | জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

প্রথম পাতা

প্রথম ডোজেই আটকে আছে কলেরার টিকা প্রয়োগ

মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ

ডায়রিয়া বা কলেরার প্রকোপ কমাতে ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি ডিএসসিসি) সহায়তায় গত ফেব্রুয়ারিতে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) প্রথম ডোজ প্রয়োগের কিছুদিন পরই দেশে শুরু হয় করোনার সংক্রমণ। কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে দ্বিতীয় ডোজ।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টিকাদান কর্মসূচি ফের চালু করা হবে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। তবে প্রথম ডোজের ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া না হলে প্রথম ডোজের কার্যকারিতা থাকে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে কলেরামুক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কলেরা কন্ট্রোল প্ল্যান ২০১৯-২০৩০ গ্রহণ করে। পরিকল্পনায় পানি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কলেরা নিয়ন্ত্রণে টিকা প্রয়োগকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা সূত্র জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, দারুস সালাম, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ লালবাগ থানা এলাকায় এক বছর তদূর্ধ্ব বয়সের বাসিন্দাদের টিকার প্রথম ডোজ খাওয়ানো হয়। এলাকাগুলো বেশি কলেরাপ্রবণ বলে নির্বাচন করা হয়। আইসিডিডিআর,বির কলেরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়। প্রথম ডোজটি খাওয়ানোর পর পরের ডোজ খাওয়ানোর জন্য মার্চের শেষ এপ্রিলের শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। ছয়টি থানা এলাকার ৩৬০টি টিকাদান কেন্দ্রে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের (জিটিএফসিসি) মাধ্যমে জাতিসংঘের শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের সহায়তার মুখে খাওয়ানোর জন্য ২৪ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স বা গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইউবায়োলজিকস কোম্পানি লিমিটেডের তৈরি ইউভিকল প্লাস নামের ভ্যাকসিনটির প্রথম ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাকি এলাকা এবং সারা দেশের কলেরাপ্রবণ এলাকায় টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা ছিল আইসিডিডিআর,বির।

দেশে কলেরার টিকা প্রয়োগ প্রথম পর্যায়ে ঢাকায় শুরু করা হয়েছিল উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক (সিডিসির লাইন ডিরেক্টর) অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌস বণিক বার্তাকে বলেন, প্রথম ডোজ খাওয়ানো শেষ করার পর দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। এজন্য বাকি ডোজ খাওয়ানো বন্ধ রয়েছে। প্রথম ডোজের কার্যকারিতা রক্ষা করতে হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ খাওয়াতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা বন্ধ রেখেছি। কার্যত এখন দ্বিতীয় ডোজ খাওয়ালে কোনো উপকার হবে না। আর করোনা মহামারীর মুহূর্তে কলেরার টিকা প্রয়োগ করতে গেলে ঝুঁকি আরো বাড়বে।

গত বছরের গবেষণার বার্ষিক প্রতিবেদনে আইসিডিডিআর,বি উল্লেখ করে, বাংলাদেশের ২২টি এলাকায় ২৬ হাজারের বেশি ডায়রিয়াকেন্দ্রিক রোগী পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে শতাংশের কিছু বেশি নিশ্চিতভাবে কলেরায় আক্রান্ত (বংশ বিস্তার বা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল কালচার) হয়েছেন। ঢাকা চট্টগ্রামে কলেরার রোগী বেশি পাওয়া যায়। কলেরার প্রকোপ শুরু হয় বর্ষার শুরু শেষ সময়ে। পৃথিবীতে প্রতি বছর ১৩ থেকে ৪০ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে ২১ হাজার থেকে লাখ ৪০ হাজার মারা যান বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। দক্ষিণ এশিয়া আফ্রিকার ৪৭টি দেশে কলেরার প্রকোপ দেখা যায়। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল আটটি দেশে সংখ্যা এক লাখের বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে কলেরার টিকা প্রয়োগের কারণে ২০১৮ সালে বিশ্বে ৬০ শতাংশ সংক্রমণ কমে এসেছে। মোট মৃত্যু কমেছে ৩৬ শতাংশ।

করোনা মহামারীর কারণেই কলেরার টিকা প্রয়োগের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিডিডিআর,বির ইমিউনোলজি বিভাগের প্রধান . ফেরদৌসী কাদরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, কভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি টিকাদান কর্মসূচির অনুকূলে এলে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ বিলম্বিত হলেও প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের এতে শারীরিক কোনো ক্ষতি নেই বলে জানান তিনি। . কাদরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তখন আমরা টিকা দেয়া শুরু করব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন