বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

২০২০-২১ বিপণন মৌসুম

৬০ লাখ বেল তুলা রফতানি করতে চায় ভারত

বণিক বার্তা ডেস্ক

অভ্যন্তরীণ বৈশ্বিক বাজারে তুলার চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করেছে। কারণেই চলতি বিপণন মৌসুমে ভারতের তুলা রফতানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করছে দেশটির খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সরকারি সংস্থাগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে ভারতের তুলা রফতানি বাড়তে থাকায় মোট রফতানি বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা তাদের। সব মিলিয়ে ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে ৬০ লাখ বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) তুলা রফানি করতে চায় ভারত। খবর ইকোনমিক টাইমস।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্পিনিং মিলগুলো তাদের প্রায় ৯৫ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার শুরু করেছে। একইভাবে বৈশ্বিক স্পিনিং মিলগুলোও উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। কারণে ভারতের তুলা রফতানি বাড়ছে এবং আগামীতে আরো বাড়বে।

কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (সিএআই) সভাপতি অতুল জ্ঞানেত্র মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিলসহ অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় ভারতের তুলা অনেক সস্তা। কারণে বৈশ্বিক বাজারে পণ্যটির চাহিদা বাড়লে তাদের রফতানিও বাড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া চীন থেকে তুলার ক্রয়াদেশ বাড়ছে। খুচরা কাপড়ের বাজারে চাহিদা বাড়তি থাকায় এসব দেশের স্পিনিং মিলগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করছে।

জ্ঞানেত্রর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে রফতানির পরিমাণ ৬৫ লাখ বেলে (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) পৌঁছতে পারে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৮-১৯ বিপণন মৌসুমে ভারত আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৪২ লাখ তুলা রফতানি করেছিল।

ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান কটন করপোরশন অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) অধীনে বর্তমানে ৫৫ লাখ বেল তুলা মজুদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপারসন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেপি আগারওয়াল জানান, তারা তুলা রফতানির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাংলাদেশে ১০-১৫ লাখ বেল তুলা রফতানির লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

কেপি আগারওয়াল বলেন, ভারতের তুলা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তা। কারণে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে হওয়া নিলামে আমরা ক্রেতাদের বেশ আগ্রহ লক্ষ করছি। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন ভিয়েতনামের ক্রেতারা আমাদের দেশ থেকে তুলা রফতানি বাড়াতে নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলা রফতানির পূর্বাভাস পাওয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিও কৃষক পর্যায় থেকে তুলা সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াবে বলে জানিয়েছেন সিসিআই প্রধান কেপি আগারওয়াল। তিনি বলেন, চলতি বিপণন মৌসুমে তারা আগের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি তুলা কিনবেন। মৌসুমে সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ১৩৫-১৪০ লাখ বেল তুলা সংগ্রহ করবে।

গত মৌসুমে ভারতে ৩১০ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়েছিল উল্লেখ করে কেপি আগারওয়াল বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো তুলা সংগ্রহের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে উদ্বৃত্ত তুলা রফতানি করা। সব মিলিয়ে চলতি বছর আমরা তুলা রফতানির পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ লাখ বেলে নিয়ে যেতে পারব বলে আশা করছি।

রফতানি বৃদ্ধির বিষয়ে ইন্ডিয়ান কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহেশ সারদা বলেন, যেসব কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ সরবরাহ আগামী নভেম্বরের মধ্যে করা হবে। বাংলাদেশ ভিয়েতনাম ছাড়াও চলতি বছর চীন থেকে বাড়তি ক্রয়াদেশ আসতে পারে। কারণ দেশটি তুলার মজুদ বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছে।

বৈশ্বিক তুলা উৎপাদন রফতানির ক্ষেত্রে অন্যতম ভারত। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রাক্কলন তথ্য বলছে, ২০২০ সালে তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকবে ভারত। এর পরই থাকবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল পাকিস্তান।

সময় ভারতে সব মিলিয়ে কোটি ৮৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। গত বছর ভারতে সব মিলিয়ে কোটি লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়েছে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে ২০ লাখ বেল।

তবে উৎপাদন কমলেও ব্যাপক মজুদ থাকার কারণে ভারতের তুলা রফতানির লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। আর অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার চাহিদা যেভাবে বাড়ছে তাতে পণ্যটি রফতানি থেকে বাড়তি আয় করতে পারবে ভারত। ফলে মোট রফতানির পরিমাণ যদি কমেও যায়, তবুও আয় আগের চেয়ে বেশি থাকবে বলে মনে করছেন মহেশ সারদা। কারণ চাহিদা বেশি থাকায় সামনে প্রতি ক্যান্ডি তুলার দাম ৩৭ হাজার ৫০০ রুপি থেকে ৪০ হাজার রুপিতে গিয়ে ঠেকবে বলে মনে করছেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন