শুক্রবার | নভেম্বর ২৭, ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

পুনরুদ্ধারের বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার উদ্যোগ থাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর আঘাতে টালমাটাল অর্থনীতি। ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে সংকোচন দেখা যেতে পারে পর্যটন শিল্পনির্ভর দেশটির জিডিপিতে। পতনমুখী অর্থনীতিকে টেনে তোলা খুব একটা সহজ হবে না থাই সরকারের জন্য। সামনের দিনগুলোয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার পথটি হতে পারে দীর্ঘ বন্ধুর। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন ব্যাংক অব থাইল্যান্ডের গভর্নর সেথাপুত সুথিওয়ার্ট-নারুপুত। খবর ব্লুমবার্গ।

চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নারুপুত। দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকালই প্রথম গণ্যমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, মহামারীর কারণে আগামী দুই বছরে আমাদের সামনে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। অর্থনৈতিক এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়েই চিন্তা করছি। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের কাছে যেসব সম্ভাব্য বিকল্প রয়েছে, তার সবগুলোই কাজে লাগানো হবে।

করোনা মহামারীর কারণে থাইল্যান্ডে পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গণতন্ত্রপন্থীদের চলমান বিক্ষোভও অর্থনীতির গতি থামিয়ে দিচ্ছে। নারুপুত মনে করেন, আন্দোলন বাজার আস্থা, ভোক্তাব্যয় বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গত মাসে নিজেদের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে সংশোধন আনে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড। এতে বলা হয়, চলতি বছর দেশটির অর্থনীতি দশমিক শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। আগের পূর্বাভাসে দশমিক শতাংশ সংকোচনের কথা বলা হয়েছিল। হালনাগাদ পূর্বাভাসে সংকোচনের সম্ভাব্য হার কিছুটা কমলেও তাতে স্বস্তি খোঁজার কোনো সুযোগ নেই। কারণ পূর্বানুমান সত্যি প্রমাণ করে দশমিক শতাংশ সংকুচিত হলে তা হবে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক পতন।

থাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, অর্থনীতিকে করোনাপূর্ব অবস্থানে ফিরিয়ে আনার পথটি হবে দীর্ঘ। এতে অন্তত দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চলতি বছর তিনবার সুদহার কমিয়ে রেকর্ড সর্বনিম্ন দশমিক শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী ১৮ নভেম্বর আরেক দফায় মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকে বসবে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষটি বলেছে, ভবিষ্যতে যেন সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেজন্য নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব পথই খোলা রাখবে তারা। অবশ্য এক সাক্ষাত্কারে নারুপুত বলেছেন, সংকট মোকাবেলায় অপরিমিত আর্থিক মুদ্রানীতি পরিহার করতে চান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন