শুক্রবার | নভেম্বর ২৭, ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

খেলা

ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের ধ্রুপদী লড়াই শুরু আজ

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শুরু হচ্ছে রাত জাগার পর্ব। আজ থেকে মাঠে গড়াবে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর সঙ্গে যেখানে চমক দেখানোর অপেক্ষায় থাকে নবাগত ও স্বল্প পরিচিতরাও। যদিও চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্বে অনেক দিন ধরেই নেই নতুন কোন চমক। ঘুরে ফিরে এলিটদের ঘরেই বন্দি থাকছে শিরোপা। মাঝের অনেকটা সময় তো এই শিরোপার ওপর অধিকার ভাগাভাগি করে নিয়েছিল দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট  রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। তবে পরপর তিন মৌসুম শিরোপা ঘরে তোলে বাকিদের ধারেকাছে ঘেষতে দেয়নি ‘লস ব্লাঙ্কোস’খ্যাত রিয়াল।

এরপর ইয়ুর্গেন ক্লোপের ‘গেগেনপ্রেসিং’য়ের টোটকা নিয়ে রিয়াল রাজত্বে হানা দেয় লিভারপুল। জিনেদিন জিদানের গড়ে দেয়া সাজানো বাগান তছনছ করে দীর্ঘ সময় পর ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পায় ‘অল রেড’রা। যদিও পরের মৌসুমে সালাহ-মানেদের শ্রেষ্ঠত্ব ভুলিয়ে জার্মান মুলুকে কাপ নিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। বাভারিয়ান দস্যুদের কাছে ফাইনালে হেরে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন হাতছাড়া করে নেইমার-এমবাপ্পেদের প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। 

পিএসজির মতোই প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু পেপ গার্দিওলার দলের ভাগ্যের শিকে যেন ছেঁড়ার নয়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যতই দাপট দেখাক, ইউরোপের মঞ্চে কাজে লাগছে না গার্দিওলার শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা। তাই হয়তো এই স্প্যানিয়ার্ড চেয়েছিলেন প্রিয় শিষ্য ও জাদুকর লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়াতে। কিন্তু দলবদলে আসি আসি করেও ফাঁকি দিয়ে গেলেন মেসি। বার্সার সঙ্গে বিরোধ চরমে উঠলেও, নিজের মনকে ক্লাবের সঙ্গে আইনি দ্বন্দ্বে জড়ানোর জন্য রাজি করাতে পারেননি ‘এলএম টেন’, থেকে যান আঁতুড় ঘরেই। তবে তিক্ততা ভুলতে মেসি চাইবেন আরেকটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের শুরুটাও এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দিয়ে। গত আসরে বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলের অবিশ্বাস্য হার। এরপরই বেঁকে বসেন মেসি। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে সিদ্ধান্ত পাল্টে থেকে যান ক্লাবে। এখন সেই দুঃস্বপ্ন ভুলতে মেসি চাইবেন আরেকবার শিরোপায় চুমু খেতে। কে জানে, হয়তো কাতালান ক্লাবটির হয়ে এটিই মেসির শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

তবে মেসির জন্য এবার সুখবর হচ্ছে গ্রুপ পর্বেই পাচ্ছেন তেতে উঠার অনুপ্রেরণা। যেখানে তিনি মোকাবেলা করবেন চীরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ডবুক উলটপালট করা এ দুজনের মুখোমুখি হওয়া মানেই বাড়তি উত্তাপ। বরাবরই একজন অন্যজনের জন্য অনুপ্রেরণাও বটে। তারপরও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রাপ্তিতে মেসির চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রোনালদো। এই মঞ্চে বরাবরই আলো ছড়াতে মুখিয়ে থাকেন তিনি। যদিও রিয়াল ছাড়ার পর জুভেন্টাসের হয়ে বলার মতো কিছু করতে পারেননি ‘সিআর সেভেন’। যে কারণে ইতালিতে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। তাই এ মৌসুমটাকে পাখির চোখ করবেন তিনিও।

তবে সাম্প্রতিক ফর্মে পিছিয়ে থাকলেও শিরোপা জয়ের ক্ষমতা আছে চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবা ইন্টার মিলানের। আছে শিরোপা জয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতাও। অন্যদিকে দৌড়ে না থাকলেও বড় ক্লাবগুলোর স্বপ্ন ধুলিস্যাত্ হতে পারে আয়াক্স, লোকোমোটিভ, আটালান্টা এবং পোর্তোর হাতে। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা যেই জিতুক, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সময়টা হবে উত্সব ও উদযাপনের।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন