রবিবার | নভেম্বর ০১, ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

প্রথম পাতা

২৬ মার্চ বাংলাদেশ সফরে নীতিগতভাবে সম্মত নরেন্দ্র মোদি —পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা সফরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী . কে আব্দুল মোমেন। গতকাল ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কথা জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সফরের বিষয়ে ভারত নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির বছরই ঢাকা আসার কথা ছিল। কিন্তু কভিডের কারণে তিনি আসতে পারেননি।

. কে আব্দুল মোমেন বলেন, যৌথভাবে বাংলাদেশ ভারত কীভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হবে। আলোচনার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে এটি আগামী ১৬ অথবা ১৭ ডিসেম্বর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত চেয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হোক, তবে তারিখ নির্ধারণ হয়নি। ডিসেম্বরের বিজয় দিবসের সময়েই দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হবে। এরপর আমাদের ৫০ বছরের পূর্তি উৎসব। ২০২১ সালের ১৭ ২৬ মার্চ দুইদিনে আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চাই বাংলাদেশ সফরের জন্য। কারণ আমাদের বিজয়, ভারতেরও বিজয়। ফলে এটি আমাদের একসঙ্গে উদযাপন করা উচিত। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে এটি একসঙ্গে উদযাপন করব।

সীমান্ত হত্যাকে দুঃখজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষের সীমান্ত বাহিনীর প্রধানরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে সীমান্তে আর কোনো হত্যা হবে না। কিন্তু হয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা। ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছেন যে ঘটনা কোনো কিছুতেই প্রভাব ফেলবে না। আর এটি বন্ধে আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে।

সীমান্তে যৌথ নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল। সীমান্ত হত্যা খুব ছোট ইস্যু। কিন্তু বারবার উঠে আসছে। ভারতীয়রা গুলিটি করে ফেলে, কিন্তু আমাদের এখানকার লোকজনও কম যান না। বাড়তি পয়সা আয়ের জন্য এখানকার লোকজনও সেখানে যায়।

বিএসএফ গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে . কে আব্দুল মোমেন বলেন, উনি (ভারতীয় হাইকমিশনার) তো তাই বললেন। সেটাই উনি স্বীকার করেছেন। উনি বললেন যে দুই পক্ষেই ঝামেলা আছে। সব মানুষ তো এক সমান না। যারা এখানে ডিউটিতে (সীমান্তে পাহারা) আসেন, তারা পাকিস্তান বর্ডারেও ডিউটি করেন। তো তাদের ওই ধরনের মনমানসিকতা থাকে। বেশি অ্যালার্ট থাকে আর কি।

ভাষানচর নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমি ধসে রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে অনেক দিন আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ২২-২৩ হাজার পরিবারকে ভাষানচরে নিয়ে যাব। এক লাখের মতো মানুষ সেখানে থাকবে। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার পরামর্শে হয়নি। অনেকে রয়েছেন দূর থেকে মানবাধিকারের কথা বলতে পারেন। তারা খালি কথাই বলতে পারেন। তারা নতুন নতুন শর্ত আরোপ করেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি রোহিঙ্গাদের পর্যায়ক্রমে ভাষানচরে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে . কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। ভারত একটি বড় দেশ, তারা আমাদের পাত্তা না দিলেও চলত। কিন্তু আমরা আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গার পানি বণ্টন সমাধান করেছি।

গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে তিনি বলেন, অনেক বছর ইস্যুটি আলোচনায় ছিল না। ১৯৭৭ সালে তত্কালীন সরকার এই পানি বণ্টন ইস্যুটি জাতিসংঘে নিয়ে গেল। তখন ভাবা হলো যে জাতিসংঘে নিয়ে গেলে উদ্দেশ্য হাসিল হবে। জাতিসংঘে নিয়ে যাওয়ার পরে ইস্যুটি কোনো দিন জাতিসংঘে কোনো ফোরামে আলোচনা হয়নি। ভারত এটিকে উঠতেই দেয়নি। তত্কালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল জনগণের বাহবা পাওয়া, সমস্যা সমাধান করা নয়। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে ইস্যুটি তুলে নিলেন এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করলেন। এতে করে গঙ্গার পানি চুক্তি হয়েছে। একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ আরেকটি অমুসলিম দেশের সঙ্গে রকম আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান অনন্য বিষয়। সহজে রকম হয় না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্থলসীমান্ত এত বড় একটি সমস্যা, আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছি। আমাদের সমুদ্রসীমা মিয়ানমার ভারতের সঙ্গে সমাধান করেছি। ভারত এতে পাত্তা না দিতে পারত। কিন্তু এটি নেতৃত্বের পরিপক্বতা বোঝায়। কোনো যুদ্ধ ছাড়াই আমরা সেটির সমাধান করেছি। অথবা পার্বত্য চট্টগ্রামের কথাই বলি না কেন। ২৫ বছরে কত মানুষ মারা গেছে। সৈন্যই মারা গেছে ২৫ হাজার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছেন।

এয়ার বাবল নিয়ে . কে আব্দুল মোমেন বলেন, এক্ষেত্রে আমরা ভারতকে জানিয়েছি স্থল রেল যোগাযোগ চালু করার জন্য। আমাদের অধিকাংশ মানুষ গাড়িতে যায়। সাধারণ মানুষের জন্য সড়ক যোগাযোগ চালু করলে খুশি হব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন