রবিবার | নভেম্বর ০১, ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

এনপিসির ১৫তম সভায় সিদ্ধান্ত

২০৩১ সালের মধ্যে দেশে উৎপাদনশীলতা হবে ৫.৬%

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সব খাতের উৎপাদনশীলতা বর্তমান দশমিক শতাংশ থেকে দশমিক শতাংশে উন্নীত করা হবে। জন্য খাতভিত্তিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের চাহিদা নিরূপণ করা হবে এবং চাহিদার আলোকে অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।

জাতীয় উৎপাদনশীলতা পরিষদের (এনপিসি) ১৫তম সভায় গতকাল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনলাইন প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সভাপতিত্ব করেন। শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার সভায় সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নবম-দশম শ্রেণীর আত্মকর্মসংস্থান ব্যবসায় উদ্যোগ পাঠ্যপুস্তকে উৎপাদনশীলতার ধারণা আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে পাণ্ডুলিপি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া কৃষি, সেবা শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতার লেভেল নির্ধারণের লক্ষ্যে লেবার ফোর্স সার্ভে দ্রুত সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে অনুরোধ জানানো হয়।

বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কৃষি, শিল্পসহ সব খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় ২০৩০ সাল নাগাদ জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা দশমিক শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন দলিল বিবেচনা করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল হাতে নিয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম অগ্রাধিকার। দেশের প্রতি ইঞ্চি আবাদি জমিকে কৃষি উৎপাদনের আওতায় আনতে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো হবে। উৎপাদনশীলতা বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সবার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বল্প, মধ্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সভায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে শ্রমিকদের প্রতি আরো মনোযোগ দিতে হবে। তাদের কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কর্মপরিবেশ উন্নত করতে হবে। শিল্পপণ্যের গুণগত মান উন্নীত করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি খাতে পরিচালিত সব কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। তিনি উন্নত জাতের আখ উৎপাদনের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষি, মৎস্য প্রাণিসম্পদের মান উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার আহ্বান জানান।

সভায় শিল্প সচিব কেএম আলী আজম, বিদ্যুৎ সচিব . সুলতান আহমেদ, শ্রম কর্মসংস্থান সচিব কেএম আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য . লুত্ফুল হাসান, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন, বেপজার জিএম তানভীর হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ইউএমসিএইচের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী বক্তব্য দেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন