মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

খবর

আইসিএবির সম্মেলনে সিএজি মুসলিম চৌধুরী

পছন্দের ব্যক্তিকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানে কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকরা তাদের পছন্দের ব্যক্তি বন্ধুবান্ধবকে পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন। এতে যে উদ্দেশ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিধান করা হয়েছিল তা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে (এফআরসি) উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তিনি গতকাল দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত বাংলাদেশের নিরীক্ষা খাতে সংস্কার শীর্ষক ডিজিটাল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক . মো. হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফারুক। আর সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফরহাদ হোসাইন।

মূল প্রবন্ধে অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুলের ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক . জাভেদ সিদ্দিকী বলেন, এনরন কেলেঙ্কারির পর বিশ্বব্যাপী ২০ বছর ধরেই নিরীক্ষা খাতে অনেক সংস্কার হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় পারিবারিক ব্যবসার সংখ্যা বেশি এবং সেখানে উদ্যোক্তারাই মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন। এক্ষেত্রে নিরীক্ষা প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব অনেকাংশে উপেক্ষিত থাকে। দুর্বল পুঁজিবাজার আইনি কাঠামোর কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় মানসম্পন্ন নিরীক্ষা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। পেশাদার নিরীক্ষকের স্বল্পতা, সেকেন্ডারি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান না থাকা বিনিয়োগকারীদের যথাযথ জ্ঞান না থাকার কারণে মানসম্পন্ন নিরীক্ষা নিশ্চিতের বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে।

বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম নিরীক্ষা ফির কারণে বাংলাদেশের নিরীক্ষা বাজারে একটি দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে . জাভেদ সিদ্দিকী আরো বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক নিরীক্ষাবহির্ভূত সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা নিরীক্ষার সময়সীমা বেঁধে দেয়া, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকের নিরীক্ষা করার যোগ্য ফার্মের সংখ্যা বেঁধে দেয়ার বিষয়টি খাতের বিকাশে হস্তক্ষেপ করছে। কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে সব সংস্থা, কর্তৃপক্ষ স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে নিরীক্ষা খাতের সংস্কার করা হলে সেটি কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

উদ্যোক্তারা তাদের পছন্দের ব্যক্তি বন্ধু-বান্ধবদের অবসরের পর কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে উল্লেখ করে মুসলিম চৌধুরী বলেন, এক্ষেত্রে এফআরসি যাচাই করে দেখতে পারে কোম্পানিগুলোয় উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বন্ধুবান্ধব হিসেবে কতজন স্বতন্ত্র পরিচালক রয়েছে। এজন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে দেয়া যেতে পারে কোন খাতের কোম্পানিতে কারা স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নিরীক্ষা কমিটি। স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ কার্যকর নিরীক্ষা কমিটি গঠন করতে না পারলে আমরা যতই আলোচনা করি না কেন তাতে গুণগত মানসম্পন্ন নিরীক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিবেচনায় পেশাদার নিরীক্ষকের স্বল্পতা থাকায় একটি নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত কোর্স সম্পন্ন করেছেন এমন ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা বিভাগে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। এতে ন্যূনতম নিরীক্ষামান বজায় রাখতে সহায়ক হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম, যেগুলোর ব্যালান্স শিট অত্যন্ত উঁচুমানের। এফআরসি ছাড়া অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাই করার বিষয়টি কতটুকু যৌক্তিক তা বিবেচনা করে দেখা উচিত বলে মত দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান অধ্যাপক . মো. হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, দেশে অনেক আইন-কানুন, বিধিবিধান থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। বেশকিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিরীক্ষকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়েছেন। আন্তঃকোম্পানি ঋণ, হিসাবমান লঙ্ঘন করে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) গণনা, শেয়ারে বিনিয়োগজনিত ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ না করার মতো ঘটনা নিরীক্ষকরা এড়িয়ে গেছেন এমন বেশকিছু উদাহরণ আমাদের নজরে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন নিরীক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাছাড়া নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে পারেনি আইসিএবি।

স্বাগত বক্তব্যে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফারুক বলেন, প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমরা নিরীক্ষা নিরীক্ষকের মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। তবে উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে যৌথভাবে আমার একটি ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) চালু করতে যাচ্ছি। ফলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনসংক্রান্ত জালিয়াতি অনেকাংশে কমে আসবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন