মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ

রক্ত ঝরছে বেসামরিক মানুষের

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে আধিপত্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে অবতীর্ণ আর্মেনিয়া আজারবাইজান। যুদ্ধে নাগোর্নো-কারাবাখের বেসামরিক মানুষের রক্ত ঝরছে। আবাসিক এলাকায় হামলা করার জন্য দুই দেশই একে অন্যকে দায়ী করছে। খবর বিবিসি।

আজারবাইজান বলছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক ভেতরের শহর গানজায় আর্মেনিয়ার মিসাইল হামলায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদিকে আর্মেনিয়া অভিযোগ করে বলেছে, স্তেপানাকার্ত এলাকার বাড়িঘরে হামলা করেছে আজারবাইজান। এটি নাগোর্নো-কারাবাখে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আজারবাইজান অংশের রাজধানী এবং যেখানে মূলত আর্মেনিয়ান জাতিগোষ্ঠীর বাস।

নাগোর্নো-কারাবাখে ছয় বছরব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটে ১৯৯৪ সালে। তখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।

গত মাসে আবার বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা। আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের সর্বশেষ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। উভয় পক্ষই গত সপ্তাহে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করলেও সংঘাত এখনো চলছেই।

কী ঘটেছে শুক্রবার রাতে?
আজারবাইজান শনিবার এক ঘোষণায় বলেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গানজার একটি জনবহুল এলাকায় আর্মেনিয়ান মিসাইল হামলায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত আরো ৪০ জনেরও বেশি। বিবিসি আজেরি জানায়, মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত এলাকায় আটকা পড়া মানুষের খোঁজে কাজ করছে অন্তত ১০০ উদ্ধারকারী।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, আর্মেনিয়া ইচ্ছেকৃতভাবে নির্বিচারে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে

যদিও আর্মেনিয়া আক্রমণের কথা অস্বীকার করেছে এবং বেসামরিক এলাকায় আক্রমণের জন্য উল্টো আজারবাইজানকে অভিযুক্ত করেছে। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুশান স্টেপানিয়ান ফেসবুকে এক ভিডিও পোস্টে বিধ্বস্ত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলটি দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাতে, আবারো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আজারবাইজান সামরিক বাহিনী স্তেপানাকার্তের বেসামরিক এলাকায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে।

শনিবার এক টেলিভিশন ভাষণে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বেসামরিক এলাকায় হামলার কথা অস্বীকার করেন এবং অভিযোগ করেন, আজারবাইজানের অন্তত দুই হাজার বাড়িঘর ধ্বংস ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আর্মেনিয়া।

তিনি এও বলেন, তার বাহিনী নাগোর্নো-কারাবাখের ফুজুলি শহর সাতটি গ্রাম দখল করেছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের প্রতিশোধ হবে যুদ্ধের ময়দানে। আজারবাইজান সেনাবাহিনী তার লক্ষ্যপূরণ করছে, কোনো শক্তিই আমাদের থামাতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান দাবি করেন, যুদ্ধের ময়দানে তার দেশের অসংখ্য সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, লোকবল আর গোলাবারুদ হারালেও এখনো আর্মেনিয়ান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে এবং তারাও শত্রুপক্ষের প্রচুর লোকবল গোলাবারুদ ধ্বংস করেছেন।

পাশিনিয়ান বলেন, এটি হতাশার কোনো বিবৃতি নয়। আমি কারণেই বলছি, আমি আমার জনগণকে সত্য তথ্যটা দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

নাগোর্নো-কারাবাখ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পার্বত্য এলাকা। ঐতিহ্যগতভাবে এখানে আর্মেনিয়ান খ্রিস্টান মুসলিম তুর্কিদের বাস। সোভিয়েত সরকারের সময় এটি আজারবাইজানের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ছিল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ আর্মেনিয়ান জাতিগোষ্ঠীর হলেও অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের যুদ্ধে এখানকার ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়, মারা যায় অন্তত ৩০ হাজার। ১৯৯০-এর দশকের যুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি আজারবাইজানের ছিটমহলের পার্শ্ববর্তী কিছু অতিরিক্ত এলাকা দখল করে নেয়। যদিও ১৯৯৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে অচলাবস্থা বিরাজমান।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন