মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২০ | ৪ কার্তিক ১৪২৭

করোনা

কভিডের চিকিৎসায় আয়ুর্বেদ প্রয়োগ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা

বণিক বার্তা ডেস্ক

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব সামাল দেয়ার জন্য দেশের জনগণকে প্রথাগত প্রতিকার বা ওষুধ প্রস্তাব করতে শুরু করেছে। অনেক ভারতীয় ডাক্তার বিজ্ঞানীদের আতঙ্কের মাঝে ফেলে অক্টোবর দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন কভিড-১৯ প্রতিরোধের প্রস্তাবগুলো প্রকাশ করেছেন। মৃদু উপসর্গসম্পন্ন কেসগুলোকে আয়ুর্বেদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। ভারতের হাজার বছরের পুরনো হারবাল চিকিৎসা পদ্ধতি এখন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইমএ) কর্তৃক তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে। সংগঠনে লাখো আধুনিক চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএমএ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্ধনকে চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রমাণ দেয়ার দাবি করেছেন। যদি তিনি তা করতে অসমর্থ হন তবে বর্ধন যা করছেন তা হলো প্ল্যাসেবোকে ওষুধ বলে জাতি অসুস্থ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা। সম্পর্কে বক্ষব্যাধির সার্জন মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ডিরেক্টর সিএস প্রমেশ বলেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া একটি ওষুধের প্রস্তাব, যা কিনা এক লাখের বেশি ভারতীয়র জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে। এটি একটি বিপজ্জনক ট্রেন্ড। তিনিসহ অন্যরা সরকারের প্রস্তাবকে খারিজ করে দিয়েছেন।

ভারতের সরকারের আয়ুর্বেদ চিকিৎসার ওপর চাপ প্রয়োগ করা মূলত ভারতীয় জনতা পার্টি কর্তৃক (বিজেপি) দেশটির ঐতিহ্যবাহী ওষুধকে পুনরুজ্জীবিত করার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। ২০১৪ সালে যখন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা বিকল্প ওষুধের একটি সরকারি বিভাগকে আয়ুর্বেদ, যোগ   প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধ হোমিওপ্যাথির (আয়ুশ) মন্ত্রণালয়ে উন্নীত করেছিল। যেখানে বার্ষিক বাজেট তিন গুণে উন্নীত করা হয়েছিল, যা ছিল প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার।

আয়ুশ মন্ত্রণালয় দ্বারা বিকশিত কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় যেসব চিকিৎসা পরামর্শ আকারে প্রস্তাব করা হয়েছিল তা হলো নাকের ভেতর পরিশোধিত মাখন প্রয়োগ করা, গোলমরিচ, আদা অন্যান্য ভেষজের একটি গরম মিশ্রণ এবং আয়ুশ-৬৪ নামে একটি পেন্টেডেন্ট ফর্মুলেশন।

শেষেরটি চারটি গুল্মের সংমিশ্রণ, যা সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার জন্য।

যদিও গত সপ্তাহে বলা হয়েছিল, এটি প্রস্তাব করা হচ্ছে কেবল মৃদু রোগের প্রতিকার হিসেবে। সেখানে বলা হয়েছে, মাঝারি মারাত্মক অসুস্থ রোগীরা নিজেদের পছন্দে চাইলে ওষুধ বাছাই করতে পারবে। পাশাপাশি একই ধরনের হারবাল চিকিৎসার প্রস্তাবে কভিড-১৯-এর জন্য নিদের্শনাবলিও প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের সচিব বৈদ্য রাজেশ কোটেচা দাবি করেন প্রতিকারগুলো এক ডজন আণুবীক্ষণিক জীব, প্রাণী এবং মানব অধ্যয়ন দ্বারা সমর্থিত। যা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের একটি প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

সমালোচকদের মতে, প্রায় সব মানব অধ্যয়ন হচ্ছে ছোট অনিয়ন্ত্রিত। হেপাটোলজিস্ট সাইরিয়াক আবি বলেন, এগুলো ভুয়া গবেষণা। উদাহরণস্বরূপ আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের সাইটে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৮ জন রোগীকে আয়ুশ-৬৪ দেয়া হয়েছে, যাদের ফ্লুর উপসর্গ রয়েছে। রোগীকে আবার প্যারাসিটামল অন্যান্য আধুনিক ওষুধপত্রও দেয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটি ওষুধের আলাদা আলাদা প্রভাব বের করা রীতিমতো অসম্ভব।

মাইক্রোবায়োলজিস্ট গগনদ্বীপ কাং বলেন, কোনো ক্ষেত্রেই ম্যালেরিয়া কিংবা অন্য রোগের ক্লিনিক্যাল গবেষণা দিয়ে কভিড-১৯- তার কার্যকারিতা সম্পর্কে আগে থেকে জানা যাবে না। সব রোগ একই রকম না। আরেকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কঠিন একটি সমস্যার সমাধান আরেকটি ভুল সমাধান দিয়ে করার কোনো উপায় চিকিৎসাশাস্ত্রে নেই। সেটা হোক আধুনিক কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা। কার্যকারিতার উপযুক্ত প্রমাণ ট্রায়াল দ্বারাই এটি সমর্থিত হতে হবে। এক্ষেত্রে আয়ুশের চিকিৎসা তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যই সামনে আনতে পারেনি।

সায়েন্স ম্যাগ থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন