শুক্রবার | অক্টোবর ৩০, ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

বৈশ্বিক জিডিপিতে ফাইভজির অবদান

আগামী এক দশকে ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে

বণিক বার্তা ডেস্ক

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি। বৈশ্বিক জিডিপিতে নতুন টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট শিল্প খাত ২০৩০ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলার ( লাখ কোটি ডলার) যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফিনল্যান্ডভিত্তিক টেলিকম গিয়ার নির্মাতা নকিয়া এবং নকিয়া বেল ল্যাবসের এক যৌথ জরিপ প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। খবর ইটি টেলিকম।

নকিয়া এবং নকিয়া বেল ল্যাবস দ্য ফাইভজি বিজনেস রেডিনেস রিপোর্ট শীর্ষক প্রতিবেদন তৈরিতে ফাইভজিসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয় নিয়ে হওয়া হাজার ৬২৮টি চুক্তি পর্যালোচনা করেছে। বিশ্বজুড়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ বাজারে ফাইভজি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এসব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরিতে অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফাইভজি খাতসংশ্লিষ্ট ছয়টি শিল্পকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এসব শিল্পের মধ্যে রয়েছে এনার্জি ইউটিলিটি, খনিজ পদার্থ উত্তোলন, উৎপাদন, পাবলিক সেক্টর, স্বাস্থ্যসেবা খাত যোগাযোগ খাত।

জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ফাইভজির সুবিধা পেতে শুরু করেছে। আগাম ফাইভজির ব্যবহার শুরু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। এমনকি কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান যখন ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ফাইভজি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহক সংযুক্তি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, কভিড-১৯ মহামারী ফাইভজি প্রযুক্তি খাতে ভ্যালু যোগ করার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ভোগ করবে। আগামী এক দশকে ফাইভজি প্রযুক্তিতে ব্যবসা পরিচালনায় এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী অর্থনীতি চাঙ্গা করতে প্রযুক্তি খাতের ওপর জোর দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্লকচেইন ফাইভজি প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ফাইভজিতে শুরুত্ব দিচ্ছে ভারতের সরকারও। গত আগস্টে দেশটির তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানির (নাসকম) এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপিতে শুধু এআই প্রযুক্তির অবদান ৪৫০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে (৪৫ থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলার) পৌঁছবে।

আনলক ভ্যালু ফ্রম ডাটা অ্যান্ড এআই: দি ইন্ডিয়ান অপরচুনিটি শীর্ষক প্রতিবেদনে নাসকম বলেছে, সময়ের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পুনরুদ্ধারে এআই প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তবে এর জন্য নাসকম তাদের প্রতিবেদনে পাঁচটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এগুলো হলো স্ট্র্যাটেজি, ডাটা, টেকনোলজি স্ট্রাক, ট্যালেন্ট এক্সিকিউশন।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ বাজারগুলো যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত এআই ফাইভজি খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে হলিস্টিক ডাটা ইউটিলাইজেশন এবং এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মহামারী অর্থনৈতিক সংকট পরবর্তী উদীয়মান দেশ হিসেবে ফাইভজি এআই প্রযুক্তি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

বিভিন্ন দেশের সরকার নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটাচ্ছে। এক্ষেত্রে ফাইভজি এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। এখন বিশ্বের অনেক দেশই ডিজিটাল সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে। আগামীতে ফাইভজিভিত্তিক উদীয়মান যেসব প্রযুক্তি আসবে, সেগুলোর ব্যবহারও বিভিন্ন দেশের ভিশন বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। ফাইভজি এআই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিতে হলে এখন বিভিন্ন দেশকে খোলা মনে এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে।

ফাইভজি প্রযুক্তি কাজে লাগানোর প্রতিবন্ধকতাও অনেক। নকিয়ার প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরে বলা হয়, এখন পাইলট প্রকল্প থেকে এগুলো বাস্তবায়ন কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ভালো আইডিয়া নিয়ে আমরা শুরু করতে পারি। পাইলট প্রকল্প চলতে পারে। কিন্তু আসল বিষয়টা হলো এটি ব্যাপক অর্থে বাস্তবায়ন। সেখানেই কিন্তু আসল ম্যাজিক চ্যালেঞ্জ।

তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলোকে এখন ফাইভজি প্রযুক্তি খাতের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সূক্ষ্ম নজর দেয়া দরকার। বিভিন্ন দেশের প্রতিটি খাতে ফাইভজি এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো দরকার। প্রতিবেদনে ডাটাভিত্তিক অর্থনীতি তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম তিনটি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে খাত অনুযায়ী ডাটা সেট করা, ডাটা অ্যাসেটের জন্য মার্কেটপ্লেস তৈরিতে একটি প্রোগ্রাম চালু করা এবং ডাটার মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকরে বিভিন্ন দেশে কেন্দ্রীয় এজেন্সি তৈরি করা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন