বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

তিন স্তরে আলুর মূল্য নির্ধারণ, কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ

বণিক বার্তা অনলাইন

সম্প্রতি দেশের বাজারে আলুর ‘অস্বাভাবিক’ মূল্য বৃদ্ধি নজরে এনেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সরকারি সংস্থাটি কোল্ড স্টোরেজ, পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। 

গত ৭ অক্টোবর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আলুর মূল্য সম্পর্কে বলা হয়, সম্প্রতি বাজারে দেখা যাচ্ছে যে, প্রতি কেজি আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৮-৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে যা অযৌক্তিক ও কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা মূল্যে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রয় করবেন।

উল্লিখিত মূল্যে যেন আলু বিক্রি হয় তা কঠোর মনিটরিং ও নজরদারী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেশের প্রতিটি জেলার বাজার কর্মকর্তা বা জেলা বাজার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত আলুর মৌসুমে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। দেশে মোট আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন। এতে দেখা যায় যে, গত বছর উৎপাদিত মোট আলু থেকে প্রায় ৩১ লাখ ৯১ হাজার মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। কিছু পরিমাণ আলু রফতানি হলেও ঘাটতির সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষক পর্যায়ে ৮ টাকা ৩২ পয়সা খরচ হয় বলে উল্লেখ করা হয়। দর বৃদ্ধি কারণ হিসেবে জানানো হয়, আলুর মৌসুমে যখন হিসাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে তখন প্রতি কেজি আলুর মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ১৪ টাকা। প্রতি কেজি আলুতে হিমাগার ভাড়া বাবদ ৩ টাকা ৬৬ পয়সা, বাছাই খরচ ৪৬ পয়সা, ওয়েট লস ৮৮ পয়ষা, মূলধনের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২ টাকা ব্যয় হয়। অর্থাৎ এক কেজি আলু কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২১ টাকা খরচ পড়ে। সংরক্ষিত আলুর কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে বিক্রয় মূল্যের উপর সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ সংযোজন করে ভোক্তা পর্যায়ে আলু বিক্রি করা যুক্তিযুক্ত।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, এক্ষেত্রে হিমাগার পর্যায় থেকে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা মূল্যে বিক্রি করলে আলু সংরক্ষণকারীর ২ টাকা মুনাফা হয়। অন্যদিকে অড়িৎদারি, খাজনা ও লেবার খরচ বাবদ ৭৬ পয়সা খরচ হয়। সে হিসাবে পাইকারী মূল্য আড়ৎ পর্যায়ে ২৩ টাকা ৭৬ পয়সার সাথে মুনাফা যোগ করে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা মূল্য রাখা যেতে পারে। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন