বুধবার | অক্টোবর ২১, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

খেলা

নাদাল-ফেদেরার লড়াই সংখ্যাতত্ত্বের চেয়ে বেশি কিছু

ক্রীড়া ডেস্ক

টেনিসের তো বটেই রজার ফেদেরারকে বিবেচনা করা হয় সর্বকালের সেরা স্পোর্টসম্যান হিসেবে। শচীন টেন্ডুলকারের মতো সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারও নিজের পছন্দ জানতে চাইলে অনায়াসে বেছে নেন ফেদেরারকে। প্রায় দুই দশক ধরে টেনিস কোর্টে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন ‘ফেড এক্সপ্রেস’। জিতেছেন একের পর এক গ্র্যান্ড স্ল্যাম, ভেঙেছেন অতীতের সব রেকর্ডও। একমাত্র ফ্রেঞ্চ ওপেন বাদ দিলে বাকি সব লড়াইয়ে ফেদেরার প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু ফেদেরারই টেনিসের সর্বকালের সেরা কিনা সেই প্রশ্ন নতুন করে উসকে দিয়েছে রাফায়েল নাদাল। না, বিতর্কিত কোনো মন্তব্যে নয়। নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে ফেদেরার জিতেছেন ২০তম গ্র্যান্ড স্লাম। সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে বসেছেন ফেদেরারের পাশে। এমনকি জোরালো সম্ভাবনা আছে ফেদেরারকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে ওঠার। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই সংখ্যাতত্ত্বের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েই কি সর্বকালের সেরার মুকুট কেড়ে নেয়া যাবে ফেদেরারের কাছ থেকে? 

এই প্রশ্নের জবাব খোঁজার আগে দেখে নেয়া যাক দুজনে কোন গ্র্যান্ড স্লাম কতবার জিতেছেন। ২০০৩ সালে উইম্বলডন জিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন ফেদেরার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সবমিলিয়ে আটবার টেনিসের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন গ্র্যান্ড স্লামটি হাতে তুলেছিলেন তিনি। এই সুইস তারকা অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন সবমিলিয়ে ৬ বার। ৫ বার জিতেছেন ইউএস ওপেন। আর একবার জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেন। এই পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে ফ্রেঞ্চ ওপেনে ফেদেরারের দুর্বলতার কথা। বিপরীতে ফেদেরারের এই দুর্বল জায়গাটিকেই যেন নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে নেন নাদাল। কেবল এই লাল দুর্গে নাদালের গ্র্যান্ড স্লাম সংখ্যা ১৩টি। অন্য যে জায়গাতেই বিতর্ক থাকুক না কেন নিঃসন্দেহে ‘ক্লে কোর্টে’র একমাত্র রাজা নাদালই। বলা যায়, এককভাবে ক্লে কোর্ট দিয়েই ফেদেরারের সিংহাসনকে টলিয়ে দিয়েছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। পাশাপাশি মুখোমুখি লড়াইয়েও ফেদেরারকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। যেখানে ৪০ বার মুখোমুখি হয়ে ফেদেরারের ১৪ জয়ের বিপরীতে নাদালের জয় ২৬টিতে। অবশ্য শেষ ৮ ম্যাচের আবার সাতটিতেই জিতেছেন ফেদেরার। ক্যারিয়ার টাইটেলের দিক থেকেও ফেদেরার এখনো বেশ এগিয়ে আছেন নাদালের চেয়ে। পাশাপাশি ফেদেরার রেকর্ড টানা ২৩৭ সপ্তাহ র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায় ছিলেন। যেখানে নাদাল শীর্ষে ছিলেন টানা ২০৯ সপ্তাহ। 

অবশ্য এসব পরিসংখ্যান দিয়ে এ দুজনকে তুলনার সুযোগ নেই। ফেদেরার-নাদালের পেছনে সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচও আছেন গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে শীর্ষে ওঠার দৌড়ে। কিন্তু শিরোপার বাইরে কেবল প্রভাবের কথা বললে এখনো অনেকে ফেদেরারের কথাই বলবেন। পাশাপাশি নান্দকিতার বিবেচনাতেও ফেদেরার এগিয়ে থাকবেন অন্য দুজনের চেয়ে। ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম যে জেতা যায়, টেনিস তারকাদের মাঝে এই স্বপ্ন বুননের নায়কও ফেদেরার। পরে যে পথে হেঁটেছেন নাদাল ও জকোভিচরা। কিন্তু তারপরও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই কেবল ভক্তদের চায়ের কাপে, আড্ডার টেবিলে। সত্যি কথাটা নাদাল চূড়া স্পর্শ করার পর ফেদেরারই বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা একে অপরকে তাগিদ দিয়েছি আরো ভালো খেলোয়াড় হওয়ার।’ 

অবশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যায় এ লড়াইটা এখনই থামছে না। সামনের দিনগুলোতে এ তিন জন জাদুর বাক্স থেকে কী কী বের করেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন