শুক্রবার | অক্টোবর ৩০, ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

খবর

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ —ব্রিটিশ হাইকমিশনার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ট্রায়ালে বাংলাদেশ না থাকলেও অক্সফোর্ডের কভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। গতকাল ঢাকায় কর্মরত কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত ডিক্যাব টকে এমনটি জানান তিনি। ডিক্যাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির সভাপতিত্বে সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিক্যাব সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ঐতিহাসিক গভীর। স্বাভাবিক সময়ে কিংবা সংকটজনক সব সময়ই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে দৃঢ় সহযোগিতার সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

অক্সফোর্ডের কভিড-১৯ ভ্যাকসিন সম্পর্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যখনই অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হবে, তখন থেকেই এটি অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশেও সরবরাহ করা হবে। যদিও বাংলাদেশে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে না। যুক্তরাজ্য সব দেশে ভ্যাকসিনের সমান প্রাপ্যতার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য সব সময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একাধিক সদস্য গণহত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক আদালতে রাখাইন গণহত্যার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন পর্যন্ত রাখাইনের রোহিঙ্গা পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। অবস্থায় আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারে মিয়ানমার নিশ্চিতভাবেই চাপের মুখে থাকবে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারের বিষয়টিকে যুক্তরাজ্য সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের চাপ কমাতে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের একাংশের যুক্তরাজ্যের ভূমিতে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন সংকট সমাধানে মূল লক্ষ্য হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে নিরাপদে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে ফেরার ব্যবস্থা করা। তাদের বর্তমান আশ্রয় থেকে অন্য কোনো আশ্রয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান হবে না। অতএব রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে প্রত্যাবাসনের জন্যই বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, আমরা একক কোনো ব্যক্তির কনসুলার বিষয় নিয়ে কথা বলি না। তার আগে ভিসা ছিল। আমাদের কোনো বাধা নেই তার সফরের বিষয়ে। এখন তিনি আবারো ভিসার জন্য আবেদন করবেন কিনা এটা তার বিষয়। তার পরিবার সেখানে বসবাস করে, তিনি ভিসা আবেদন করতে পারেন। আমরা তার আবেদন গ্রহণ করব। ভিসার সিদ্ধান্তটি মন্ত্রণালয়ের।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন