শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

খেলা

বর্ণবাদ আর মহামারীর মানসিক চাপে দেশ ছাড়লেন মার্কিন ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক

ডিফেন্ডার হিসেবে ওয়াশিংটন স্পিরিটের হয়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। কখনো কখনো উইং ধরে উঠে আসতে পারেন উপরেও। যদিও তার আসল কাজ রক্ষণে দেয়াল তৈরি করা। কিন্তু সেই মাঠে দেয়াল তুলে প্রতিরোধ গড়া সেই কাইয়া ম্যাককোলাফের মনের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ এবং নভেল করোনাভাইরাসের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই নারী ফুটবলার ছেড়ে গেছেন নিজ দেশ। নিজের স্বপ্নকে বড় করার পথে থাকা এই ফুটবলার আফ্রিকান আমেরিকান বলেছেন, ‘শোক’ ‘বেদনা’র ভারে ভেঙে পড়েছেন তিনি। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষ যেখানে নিজ স্থান ত্যাগ করতে নারাজ, সেখানে ম্যাককোলাফ মনে করছেন তার হাতে অন্য কোনো বিকল্প অবশিষ্ট নেই। ফলে এই মাসের শুরুর দিকে স্পিরিট তার চুক্তি মওকুফ করে তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি খেলছেন জার্মানির একটি দ্বিতীয় বিভাগের দলের হয়ে। 

বিবিসি স্পোর্টসকে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেয়া এই ফুটবলার বলেন, আমি নিজেকে সেই অবস্থানে দেখতে চেয়েছিলাম যেখানে থেকে আমি সেরা হতে পারি এবং যে পরিবেশে আমি ছিলাম তাতে চিন্তাই করতে পারি না তেমন কিছু ঘটতে পারে। 

তিনি আরো বলেন, এটা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার মতো মানসিক চাপ তৈরি করেছিল । আমি মনে করি নিশ্চিতভাবে এখানে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারি, যেজন্য আমি এসেছি। এটা অনেকটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিরতি দেয়ার মতো। আমেরিকায় এখন যে ধরনের পরিবেশ বিদ্যমান তা থেকে আমি বের হতে চাই। 

এর আগে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়াতে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় জাতীয় সংগীত চলার সময় হাঁটু গেঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। মূলত বর্ণবৈষম্য ও পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদকারী কোলিন কেপারনিককে সংহতি জানাতে গিয়ে এটি করেছিলেন। 

কৃষ্ণাঙ্গ বাবা ও শেতাঙ্গ মায়ের ২২ বছর বয়সী এই কন্যা বর্ণবাদসহ যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে চান। কিন্তু এ বছরের শুরুতে স্পিরিটে যোগ দেয়ার পর তিনি সত্যিকার অর্থে ব্যাপকভাকে বিভক্ত একটি যুক্তরাষ্ট্রের সন্ধান পেয়েছেন। পরিস্থিতি এমনও হয়েছে যে, অনেক সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাকে কান্না করতে হয়েছিল। তবে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও দায়িত্ব বলে মনে করেন কাইয়া। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমার সতীর্থদের এ বিষয়ে শিক্ষিত করে তোলাও আমার দায়িত্ব।

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন