শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় ৩২ আসামিই বেকসুর খালাস

বণিক বার্তা অনলাইন

৯০ দশকে ব্যাপক আলোচিত ভারতের বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানিসহ জীবিত ৩২ আসামিকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে লক্ষ্ণৌয়ের একটি বিশেষ আদালত। প্রায় তিন দশক পর মামলাটির রায় ঘোষণা করেছেন বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদব।

রায় ঘোষণাকালে আদালতের বিচারক বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত নয়। এর সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়েও উপযুক্ত প্রমাণ মেলেনি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে সিবিআই আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মামলার বাদীপক্ষ মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।

২৮ বছর আগে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর হিন্দু ‘করসেবকরা’ ভারতের অযোধ্যার ৫০০ বছরের পুরনো মসজিদটি ভেঙে দেয়। মামলায় ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য লালকৃষ্ণ আদভানি ও মুরলিমনোহর যোশী, সাবেক মন্ত্রী উমা ভারতীসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মসজিদ ভাঙার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও করসেবকদের উসকানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, মসজিদ ভাঙায় অভিযুক্তদের কারো কোনও হাত ছিল না। উন্মত্ত জনতাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। অভিযুক্তরা বরং মসজিদ ভাঙায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযুক্তদের ফাঁসানোর জন্য প্রমাণ বিকৃত করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।

মুঘল সম্রাট বাবরের নামে প্রতিষ্ঠিত ১৫ শতক জমির ওপর স্থাপিত মসজিদটি নির্মাণের স্থানটিকে হিন্দু দেবতা রামের জন্মভূমি বলে দাবি করে আসছেন অনেকে। পুরনো মন্দির ভেঙে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলেও তাদের অভিযোগ।

ঘটনার দিন বিজেপি নেতা আদভানি অযোধ্যায় রথযাত্রা আয়োজন করেছিলেন। এই রথযাত্রায় অংশ নেয়া ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের হাতে মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। এর জেরে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ওই সময় ভারতে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গতবছর নভেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে মসজিদের ওই জায়গায় একটি মন্দির নির্মাণ করার অনুমতি দিয়েছে। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন