শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

বশির-পরবর্তী সুদান গঠনে ফিরে আসছে নির্বাসিতরা

বণিক বার্তা ডেস্ক

৩৩ বছর নির্বাসনে থাকার পর কানাডার সহজ জীবন ছেড়ে সুদানে ফিরে এসেছেন এল সাগিদ মোহাম্মদ। তার উদ্দেশ্য, ওমর আল-বশিরের তিন দশকের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পতনের পর দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করা। মোহাম্মদ বলেন, বিপ্লবের পরই আমার মনে হয়েছে, পশ্চিমে বিলাসী জীবনের সুযোগ থাকার পরও এখন দেশে ফিরে যাওয়া দরকার। কারণ সুদান তার নিজের দেশ। আর এর পুনর্গঠনে তাকে অবদান রাখতেই হবে।

মূলত ২০১৯ সালের মার্চে বেশ কয়েক মাসের বিক্ষোভের পর সুদানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের দীর্ঘদিনের কঠোর স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয়। এর পরই মোহাম্মদের মতো আরো বহু নির্বাসিত ব্যক্তি দেশটিকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। নির্বাসন থেকে ফিরে আসেন দেশের পুনর্গঠনে।

বর্তমানে মোহাম্মদ দি সুদানিজ মিনারেল রিসোর্সেস কোম্পানির (এসএমআরসি) স্বাস্থ্য পরিবেশ বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। এসএমআরসি সুদানের খনি খাতের, বিশেষ করে স্বর্ণের খনির অনুসন্ধান, উৎপাদন করের বিষয়টি তদারকি করে।

৫৫ বছর বয়সী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলেন, বশিরের ৩০ বছরের শাসন সুদানকে একেবারে শেষ করে দিয়েছে। তার পতনের ছয় মাস পর নভেম্বরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তিনি এখন বিশ্বাস করেন যে বর্তমানে তার দায়িত্ব হলো নতুন সুদানের পুনর্গঠনে সর্বাত্মক সহায়তা করা।

এদিকে এসএমআরসির বর্তমান মহাপরিচালক মুবারক আরদোলও আট বছরের জন্য নির্বাসনে ছিলেন। তার যেখানে বাড়ি, সেই দক্ষিণ সুদানের নুবা পার্বত্য এলাকায় হামলা করেছিল সরকারি বাহিনী। আর তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আরদোল। এরপর ২০১১ সালে তিনি উগান্ডায় পালিয়ে যান। ৩৮ বছর বয়সী আরদোল বলেন, আমি ভেবেছিলাম যে বশির শাসনামল আর বেশিদিন টিকবে না। তাকে গদি থেকে অপসারণের জন্য আমরা আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। আমি তখনই অনুভব করতে পারছিলাম, খুব শিগগিরই মাতৃভূমিতে ফিরে যাচ্ছি। ফলে বশিরের পতনের পরই যত দ্রুত সম্ভব আরদোল কাম্পালা থেকে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, আমি একটুও দেরি করিনি, তাত্ক্ষণিকভাবে স্বদেশে ফিরে এসেছি। আমি খার্তুমে পৌঁছাই ২০১৯ সালের ১০ মে।

ফিরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদোক তাকে বর্তমান পদে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহীদের সঙ্গেও অভূতপূর্ব শান্তি স্থাপনে সক্ষম হন। বর্তমানে আরদোল এসএমআরসির আয় বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা আমাদের লক্ষ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।

বশিরের পতনের পর থেকে সুদানে দেশটির হাজারো নির্বাসিত মানুষ ফিরে এসেছে এবং আসছে। গত বছর থেকেই প্রত্যাবর্তনকারীদের ঢল দেখা গেছে। বিষয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লহামিদ নামে এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, আমি ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত গর্বিত। বর্তমানে তিনি সুদানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসইউএনএর দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা জানতাম যে আমাদের সামনে অনেক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমি ফিরে আসতে চাইছিলাম এবং এসেছিও। আর এখন দেশের উন্নতির জন্য যে কর্মযজ্ঞ চলছে তাতে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।

আব্দুল্লহামিদ প্রথমে ইয়েমেনে ছিলেন। এরপর তিনি নেদারল্যান্ডসে চলে যান। সেখানে তিনি আরবি ভাষায় একটি রেডিও চ্যানেল শুরু করেন। তিনি বলেন, আসলে ফিরে আসার সঙ্গে টাকার সম্পর্ক নেই। আমি বিদেশে মাসে হাজার ডলার আয় করতাম। কিন্তু এখন আমি পাচ্ছি মাত্র ১৮০ ডলার। সত্যি বলতে আমি দেশকে পুনর্গঠিত করতেই ফিরে এসেছি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন