শুক্রবার | অক্টোবর ৩০, ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

প্রথম পাতা

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদির বৈঠক

বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আজ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডিসেম্বরে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ওই সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসবেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয়, সেক্ষেত্রে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে আজ অনুষ্ঠেয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ষষ্ঠ জেসিসি বৈঠক নিয়ে গতকাল সাংবাদিকদের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী . কে আব্দুল মোমেন।

জেসিসি বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার আসন্ন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈঠকে চুক্তি করব না। কারণ প্রধানমন্ত্রীর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি একটি বৈঠক হবে ডিসেম্বরে। চুক্তিগুলো দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনে হলেই ভালো দেখায়।

তিনি বলেন, মুজিব বর্ষ শেষ হওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়ালি একটি আলোচনা হবে। আর যদি করোনা চলে যায় তবে হয়তো আলোচনাটি সাক্ষাতে হবে। সেক্ষেত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফর করবেন।

তিনি বলেন, এবার আমরা খুব বেশি কিছু আশা করি না। কারণ বৈঠকটি খুবই তাড়াতাড়ি হচ্ছে এবং মাত্র ঘণ্টার। এমনিতে তা - ঘণ্টার হয়। আর এবার হচ্ছে ভার্চুয়ালি। সময়ের মধ্যে যতটা পারব, আমরা ইস্যুগুলো নিয়ে আলাপ করব। পানি, বাণিজ্য, লাইন অব ক্রেডিট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

সময় সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে . কে আব্দুল মোমেন বলেন, অবশ্যই সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে সুখের বিষয় দুই পক্ষ বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ, তারা প্রতিজ্ঞা করেছে হত্যার সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার। আমরা চাই না একটা লোকও মারা যাক। বিষয়টি বারবার উঠুক, আমরা চাই না। তারা প্রতিজ্ঞা করেছেন, কেউ মরবে না। তারা আমাদের সাহায্য চেয়েছেন। যেখানে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, সেখানে যৌথভাবে অতিরিক্ত নজরদারি করব, যাতে একজন লোকও মারা না যায়।

তিস্তা নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সব নদী, সাত-আটটি নদী; সবগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব। কতদূর করতে পারব, আমি জানি না। যৌথ নদী কমিশন ১১ বছর ধরে কোনো বৈঠকে বসেনি। আমরা যেটি চাচ্ছি, বৈঠকে যদি রাজি হয় ভারত, তাহলে সুবিধা। তখন বিভিন্ন নদী সম্পর্কে আলাপ করা যাবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার পঞ্চম জেসিসি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিল্লিতে ২০১৯ সালের শুরুতে। ফলে এবারের বৈঠকটি ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে বৈঠকটি এবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ বেলা সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী . কে আব্দুল মোমেন। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। বৈঠকের ব্যাপ্তি হবে ঘণ্টা। বৈঠকে এয়ার বাবল চুক্তি, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি, বাংলাদেশকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়া, সীমান্ত হত্যা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থনসহ বাংলাদেশকে দেয়া ভারতীয় ঋণচুক্তিসহ সম্পর্কের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন