বুধবার | অক্টোবর ২১, ২০২০ | ৬ কার্তিক ১৪২৭

শেষ পাতা

উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতে আইকিউএসি নেই বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে

সাইফ সুজন

উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে ২০১৪ সালে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর ছয় বছর পেরিয়ে যেতে চললেও অত্যাবশ্যকীয় সেল চালু করছে না অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইকিউএসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যদিও বতর্মানে দেশে স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি বেসরকারি মিলে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১৫৩টি।

উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে ১৯০০ সালে সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্র কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল গঠন করে। পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলো পদ্ধতি অনুসরণ শুরু করে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে বাংলাদেশ মিয়ানমার। ২০১৪ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিতে একটি কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স ইউনিট গঠন করে। এরপর ইউনিটের অধীনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে সেল গঠন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু ছয় বছরেও আহ্বানে সাড়া দেয়নি দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়।

২০১৪ সালের পর কয়েক ধাপে দেশের মোট ৬৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইকিউএসি গঠন করা হয়। আইকিউএসি প্রতিষ্ঠার দিক থেকে প্রাইভেটের তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে রয়েছে। দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে চালু রয়েছে ৩১টিতে আইকিউএসি। আর ১০৭টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টিতে চালু রয়েছে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের সেল।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক . মুহাম্মদ আলমগীর বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন একটি সেল গঠনের প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি। কারণ শিক্ষার গুণগত মান সর্বাধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বিশেষ করে একাডেমিক কার্যক্রম উত্কর্ষে আইকিউএসির ভূমিকা অনেক। কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুরু থেকে ইউজিসি সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, জনবল দিচ্ছে। এর পরও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইকিউএসি প্রতিষ্ঠা করছে না। এক্ষেত্রে আমি বলব, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গড়িমসির কারণেই এমনটা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা সূচক নির্ধারণপূর্বক এর সফল প্রয়োগ, বর্তমান প্রাক্তন শিক্ষার্থী, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এবং প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব স্টেকহোল্ডারের মতামত সংগ্রহ, উচ্চশিক্ষার মানসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তথ্য উপস্থাপন, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মশালা সেমিনারের আয়োজন, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়নের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ লব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কর্মপন্থা নিরূপণ।

বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স বিশেষজ্ঞ . অধ্যাপক মেসবাহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইকিউএসি রয়েছে। এসব সেলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, পাঠ্যক্রম, পাঠদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ গবেষণা কার্যক্রমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম মূল্যায়ন করে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে মূল্যায়নের আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উচ্চশিক্ষায় এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় পদ্ধতি। এসব সেলের বৈশ্বিক আঞ্চলিক নেটওয়ার্কও রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার মধ্যে একটি কারণ হলো আইকিউএসি না থাকা। কেননা আইকিউএসির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু নিয়ম-নীতি অনুসরণের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা  অ্যালামনাইদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে তা নিরীক্ষা করা হয়। তারপর চূড়ান্ত মানোন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

আইকিউএসি চালু থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের একাডেমিক কাজের বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন করছে সেলের মাধ্যমে। এসব মূল্যায়নে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধরনের সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক সংকট, শ্রেণীকক্ষ, গ্রন্থাগারে প্রয়োজনীয় বই না থাকা, গবেষণাগার সমস্যা, যোগ্য শিক্ষকের অভাব, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দূরত্ব, দুর্বোধ্য পাঠদান, চাকরির বাজারে গ্রহণযোগ্যতার অভাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক . রহমত উল্লাহ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি থেকে বিভিন্ন বিভাগে আমরা সেলফ অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, সাবেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি, আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেছি। এতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি বেরিয়ে আসছে। এসব সমস্যার আলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ আসছে। পরামর্শের আলোকে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণার মান আরো অনেক উন্নত হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন