বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

করোনা

বিশ্বব্যাপী দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহে কোম্পানিগুলোর ভূমিকা

চার্লস এম শউইক ও টিমোথি ফোর্ড

আন্তর্জাতিকভাবে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের প্রতিযোগিতা চলছে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের বিকাশকে সামনে রেখে এবং এটি এগোচ্ছে রেকর্ড গতিতে। যদিও এটি চলছে বেশ জাতীয়তাবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুরে। একটি কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর নজিরবিহীন উৎপাদনের প্রয়োজন হবে বিশ্বব্যাপী মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করার জন্য।

যদিও সে দেশটি যারা কিনা নিরাপদ এবং কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে, নিজেদের জনসংখ্যাকে ভ্যাকসিন দেয়ার আগে তাদের পক্ষে রফতানি করা কঠিন হবে। তাহলে সমাধান কী হবে? ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট সায়েন্টিস্ট স্যান্ডি ডগলাস দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, একমাত্র সমাধান হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমাণে ভ্যাকসিন তৈরি করা। কিন্তু কীভাবে?

ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে সরকারি খাতগুলোর তহবিল চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে ভবিষ্যতের চাহিদাকে পূরণ করতে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশে বিশৃঙ্খলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

সরকারি খাতের বিনিয়োগ

ভ্যাকসিনের প্রাথমিক দিকের গবেষণা বিকাশ প্রায়ই নির্ভর করে সরকারি খাতের বিনিয়োগের ওপর এবং কভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬টি ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে ট্রায়াল চালাচ্ছে, যার নয়টি তৃতীয় ধাপে রয়েছে।

যদি ফলাফলগুলো সুরক্ষা কার্যকারিতা দেখাতে পারে। তবে রেগুলেটর ভ্যাকসিনের লাইসেন্স অনুমোদন দিতে পারবে। ফলে সংস্থাগুলো ভ্যাকসিন প্রস্তুত বিতরণের অনুমতি লাভ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ফার্ম করদাতাদের প্রচুর অর্থ নিয়ে ভ্যাকসিনের গবেষণা এবং বিকাশের চুক্তিসহ সক্রিয় হয়ে কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ যেমন মডার্নার কথা বলা যায়। যারা বর্তমানে তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে আছে। তারা একটি চুক্তি পেয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৯৫৫ মিলিয়ন ডলার। ধরনের চুক্তি সাধারণত পুরোপুরিভাবে বায়াহ-ডোল আইনের অধীনে থাকে, এমন একটি আইন যা পণ্য পেটেন্টের ক্ষেত্রে আবিষ্কারক কোম্পানিকে একচেটিয়া অনুমোদন দেয়।

কিন্তু আইন সুরক্ষা কবচও প্রদান করে, যা ফেডারেল সরকারকে অনুমতি দেয় এই বিশেষ লাইসেন্স তুলে দিতে, যদি সেটি যুক্তিসংগত শর্তের অধীনে মানুষের জন্য ভ্যাকসিন উপলব্ধ করতে না পারে।

আবিষ্কার খোলামেলাভাবে ভাগাভাগি

সমাজ যদি বৈশ্বিকভাবে মানুষের ভালোর জন্য দ্রুত করদাতাদের টাকায় একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে তা বিতরণ করতে চায়, তবে কেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্সি এমন চুক্তি করছে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের ভাগাভাগি করার ক্ষমতাকে বর্জন করতে চায়?

আমরা বিশ্বাস করি যে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকরণের সহায়তায় ভবিষ্যত তহবিলকে বিবেচনা করার সাথে, নীতিনির্ধারক অ্যাজেন্সিগুলোর চুক্তি করতে হবে সরবরাহকারীদের সঙ্গে, যে আদেশটি উন্মুক্ত করবে ভ্যাকসিনের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ বিতরণের ভাগাভাগি করাকে।

মহামারীর একটি যৌথ প্রতিক্রিয়া

সৌভাগ্যবশত কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, জাতীয় সরকার, অলাভজনক সংস্থা যেমন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং কোয়ালিশন ফর এডিডেমিক প্রিপেয়ারডনেস ইনিশিয়েটিভের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন নীতিনির্ধারণ করছে, যাতে খোলামেলাভাবে ভাগাভাগি করাকে সাদরে গ্রহণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রক্ষার মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।

কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ারডনেস ইনিশিয়েটিভের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের তহবিলসংক্রান্ত সব চুক্তির জন্য যা প্রয়োজন হচ্ছে তা হলো, সঠিক ভ্যাকসিনটি প্রথমে উপলব্ধ হতে হবে সেই সব জনগণের জন্য, যেখানে প্রাদুর্ভাব শেষ করার জন্য কিংবা মহামারীকে হ্রাস করার জন্য এটি প্রয়োজন হবে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শুরু।

যাই হোক, যখন একটি নিরাপদ, কার্যকর কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন উপলব্ধ হবে, তখন জাতীয় সরকারগুলোকে এমন ফার্মগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তি করতে হবে, যারা ন্যায্য যৌক্তিক তহবিল প্রদান করবে খরচ মেটানোর জন্য কিংবা কিছুটা যৌক্তিক লাভও থাকতে পারে। এক্ষেত্রেও খোলামেলা তথ্য ভাগাভাগির বিষয়টি থাকবে।

স্ক্রল.ইন থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন