শুক্রবার | অক্টোবর ৩০, ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

প্রথম পাতা

দক্ষিণ এশিয়া

জল থেকে স্থলে সরছে ভূরাজনীতির কেন্দ্র?

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান রুট ভারত মহাসাগর। মহাসাগরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বও অনেক। কারণে গত কয়েক দশকে বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ নিতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চালিয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির কেন্দ্র একটু একটু করে বঙ্গোপসাগর থেকে সরে যাচ্ছে অঞ্চলের দেশগুলোর সীমান্তরেখার দিকে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ঘোলাটে। অস্থিরতাগুলোর বেশির ভাগই সীমান্তকেন্দ্রিক। এর মধ্যে চীন-ভারত দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন অঞ্চলের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আশির দশকের শেষ দিকের পর চীন-ভারত সীমান্তে শান্তি বজায় ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি উত্তেজনার ঘটনায় শান্তি বিনষ্ট হয়েছে পুরোপুরি। চলতি বছরের সংঘাতের আগেও ২০১৩, ২০১৪ ২০১৭ সালে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। উত্তেজনার প্রধানতম কারণগুলো হলো সীমান্তের পরিবর্তনশীল ভূপ্রকৃতি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওএসি) নির্ধারণের উপায় নিয়ে তীব্র মতবিরোধ।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক মাত্রায় সামরিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়েছে চীন। বিষয়টিতে পিছিয়ে থাকতে চায়নি ভারতও। ফলে উভয় দেশের সামরিক বাহিনীই এখন সীমান্তের অনেক কাছাকাছি এলাকায় নিজ নিজ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রায়ই একে অন্যের মুখোমুখিও হয়ে পড়ছে। উভয় দেশই এখন সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই জোরদার করে তুলছে। উত্তেজনার পারদ এখন এমন এক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, বিরোধ প্রশমনে গৃহীত যেকোনো প্রটোকলই এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে অপর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে।

গত দুই দশকে চীন ভারতের মধ্যে শক্তিমত্তায় ক্রমেই ব্যবধান বেড়েছে। বিষয়টিকেও সীমান্ত উত্তেজনার পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। আশির দশকেও দুই দেশের শক্তিমত্তায় ব্যবধান তেমন একটা ছিল না বললেই চলে। কিন্তু বর্তমানে দুয়ের শক্তির ব্যবধান বাড়তে বাড়তে অনেক বড় আকার নিয়েছে। বর্তমানে চীনের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ কোটি ডলারে, যা ভারতের জিডিপির প্রায় পাঁচ গুণ। অন্যদিকে চীনের বার্ষিক সামরিক ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ১০০ কোটি ডলারে। যেখানে ভারতের বার্ষিক সামরিক ব্যয় হাজার ১০০ কোটি ডলার।

শক্তিমত্তার ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে চীন এখন হিমালয়ে নিজের দীর্ঘদিন ধরে দাবীকৃত অঞ্চলগুলোকে আয়ত্তে নিতে চাইছে। তাই বলে এদিক থেকে ভারতও কম নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর চেয়ে ভারত অনেক বেশি শক্তিশালী। উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায়ও এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করেছে দেশটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড কর্মসূচির সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়টিকে চীন বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে। নিজস্ব অর্থনীতির চাকাকে নিত্য সচল গতিশীল রাখার পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতিতে আরো প্রভাবশালী হয়ে ওঠার তাগিদে কার্যক্রমকে এগিয়ে নিচ্ছে দেশটি। দুই দেশের সংঘাতের পেছনে প্রকল্পও বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কাশ্মীরের বিতর্কিত অংশের মধ্য দিয়ে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (যা বেল্ট অ্যান্ড রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ) স্থাপনের বিষয়টিতে আপত্তি রয়েছে ভারতের। ঘটনাটিকে কাশ্মীরের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নয়াদিল্লির একে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নিয়ে আসার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন অনেকেই। অন্যদিকে নানা সময়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে চীনও বুঝিয়ে দিয়েছে বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি দেশটি।

বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির বণিক বার্তাকে বলেন, অতীতের আলোকে শিক্ষা নিয়ে কতগুলো পরিবর্তন হচ্ছে। আর এর একটা দিক হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক লাইন অব কমিউনিকেশনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্ট্র্যাটেজিক লাইন অব কমিউনিকেশনের জন্য যে ধরনের যোগাযোগ দরকার উদীয়মান শক্তি হিসেবে চীন সেটি সুরক্ষিত করছে। মেরিটাইম বা সমুদ্রকে সুরক্ষিত করার জন্য তারা যেটা করছে, ঠিক তেমনিভাবে সেটা তারা বেল্ট অ্যান্ড রোডেও করছে। এটা অনেক আগে মার্কিনরা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কংগ্রেসে সেটি পাস হয়নি। যে বেল্ট অ্যান্ড রোড করছে এটা কিন্তু চীন শুরু করেনি। শুরু করেছে মার্কিনরা। মূল বিষয় হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক লাইন অব কমিউনিকেশনের সুরক্ষার।

হিমালয়ে চীন ভারতের মধ্যকার সীমান্ত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার মূল ভূভাগে অবস্থিত দেশগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতম ভুটানও। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকেই ভুটানের নিরাপত্তা পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি এক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দোকলাম মালভূমি। মালভূমি অঞ্চলের মালিকানা দাবি করে বসেছে চীন ভুটান। এর মধ্যে ভুটানের দাবিকে শক্তভাবে সমর্থন দিচ্ছে ভারত। ফলে থিম্পু-বেইজিং দ্বন্দ্ব আঞ্চলিক পর্যায়ে এসে ঘনীভূত হয়েছে ভারত চীনের মধ্যকার দীর্ঘকালব্যাপী উত্তেজনায়।

অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ সর্বশেষ চড়তে দেখা গিয়েছে ২০১৭ সালে। প্রকৃতপক্ষে ১৯৬২ সালের যুদ্ধই ভারত ভুটানকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছিল। বর্তমানে ভুটানের বহির্নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজ ঘাড়ে তুলে নিয়েছে ভারত। ভুটানের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে দোকলাম মালভূমি। তবে এক্ষেত্রে একটি বড় ব্রেক থ্রু মিলেছে গত বছরের অক্টোবরে। দোকলামে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কার্যকর সীমানা নির্ধারণে ভুটান চীনের মধ্যেকার আলোচনায় আশার আলো দেখতে পেয়েছেন অনেকেই।

চীন ভারতের দ্বন্দ্ব নিয়ে বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন মূলত স্থলভাগেই। তাই বলে নৌ উত্তেজনাও থেমে নেই। দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে নিজস্ব উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অনেক আগ থেকেই। উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার পর পাকিস্তানের জন্ম ছিল মার্কিনদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তবে বাংলাদেশ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশটির আশা বড় ধরনের ধাক্কা খায়। বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল দিয়ে অঞ্চলের সাগর এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে মার্কিনরা। এতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে পাচ্ছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ভারতকে।

অন্যদিকে চীনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাণিজ্যকে বাধামুক্ত রাখার। দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রসংলগ্ন দেশগুলোয় চীন তার সরব উপস্থিতি এরই মধ্যেই নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতার চুক্তি মহড়া এখন চীনকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এখনো সাগরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির। তবে সাগরে থাকা অস্থিরতা এখন স্থলভাগে প্রসারিত হয়েছে বলে মত দিয়েছেন তিনি। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, এখানে দুটিই যুক্ত। এখন যে অস্থিরতা চলছে, এটি যদি আরো প্রসারিত হয়, তবে স্থলভাগে আরো অস্থিরতা দেখতে পাব।

তিনি বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক উপস্থিতির অর্থ চীনকে এক প্রকার উসকানি দেয়া। ভারত যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিকীকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এখন প্রয়োজন হচ্ছে সহযোগিতামূলক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্য দিয়ে সবাই যাতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।

সবাই যাতে সমুদ্র অঞ্চল ব্যবহার করতে পারে এবং সবার অর্থনৈতিক লাভ যাতে সুনিশ্চিত করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেয়া এখন জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে সম্প্রতি নতুন কিছু এলাকা যোগ করে নিজস্ব নতুন এক মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল। এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির দাবি, নেপালের নতুন মানচিত্রে ভারতের ভূমি সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও। সীমানা এলাকা বাড়িয়ে সম্প্রতি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে দেশটি। এটিও প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু সমস্যাটিও এখন সীমান্ত এলাকারই সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সাধুবাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বেশ আশঙ্কাজনক। এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদে সেগুলোর ভার বহনের সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। মিয়ানমারে জাতিগত নিধন অভিযান শুরুর পর সেখান থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। অন্যদিকে পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন নিয়ে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনেরই সহযোগিতা করছে না মিয়ানমার। সংকটের অমোচনীয় চরিত্রের কারণে দেশে সরকারি সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে। বিষয়ে আন্তর্জাতিক দাতাদের অসহায়ত্বও স্পষ্ট। ২০১৯ সালে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ৬৭ শতাংশ আদায় করা গিয়েছে। অন্যদিকে সংকটে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীও। ব্যাপক মাত্রায় উদ্বাস্তু আগমনের ফলে সড়কে তীব্র যানজট, খাদ্য মূল্যস্ফীতি, বর্ধিত পরিবহন ব্যয় এবং কৃষি খাতের অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্তমানে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির কেন্দ্র বঙ্গোপসাগর থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সীমান্তরেখায় সরে আসার বিষয়টিতে দ্বিমত পোষণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক . দেলোয়ার হোসেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দুটির গুরুত্ব দুই ধরনের। সমুদ্রকেন্দ্রিক যে কৌশলগত বিষয় রয়েছে, তার গুরুত্ব আরো বেড়েছে। কথা বলার কোনো সুযোগ নেই যে ভূরাজনীতির কেন্দ্র সমুদ্র থেকে সরে সীমান্তে এসেছে। বরং দেশগুলোর মধ্যে আস্থার অবনতি হওয়ায় পুরনো সমস্যাগুলো আবারো সামনে এসেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক জোটগুলোও দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক সংকট নিরসনের মতো পর্যাপ্ত মাত্রায় কার্যকর নয়। বিশেষ করে দুই আঞ্চলিক জোট সার্ক বিমসটেক নিয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

এর মধ্যে সার্কের ইতিহাস ৩৫ বছরের। জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান শ্রীলংকা। এখন পর্যন্ত সার্কের ১৮টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জোটের ১১টি সম্মেলন বাতিল হলেও বড় একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে সদস্য দেশগুলো। তার পরও এখন পর্যন্ত জোট গঠনের পূর্ণ উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেনি সার্ক, যার প্রধান কারণ হলো ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার বৈরিতা। সার্ক হলো মূলত আঞ্চলিক ইস্যু উত্থাপনের একটি ফোরাম। কিন্তু দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতায় আঞ্চলিক যেকোনো অর্জনই ম্লান হয়ে পড়ছে। জোটের অন্য কোনো দেশ কখনই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরে এসে আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিতে বাধ্য করার মতো কার্যকর অবস্থানে ছিল না। এখনো নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে সার্কের বিকল্প হিসেবে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) জোটকে দাঁড় করানোয় উদ্যোগী হয়ে উঠেছে ভারত। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের তার শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। থেকে বিশ্লেষকদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন মোদি আঞ্চলিক জোট হিসেবে সার্ককেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপে বসার নতুন সুযোগ তৈরির উদ্দেশে ইসলামাবাদে এক আকস্মিক সফরেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরের কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আবারো ধাবিত হয় ক্রমাবনতির দিকে। ফলে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার সময় মোদির পছন্দের আমন্ত্রিতের তালিকাও বদলে যায়। শপথ অনুষ্ঠানে বিমসটেক জোটভুক্ত রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানান মোদি।

সার্কের মতো বিমসটেকেরও চ্যালেঞ্জ অনেক। ব্যবসা-বাণিজ্য, সংযোগ-সহযোগিতার দিক থেকে জোটভুক্ত দেশগুলোর (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা থাইল্যান্ড) মধ্যে বোঝাপড়া বেশ কম। ফলে জোটের অগ্রগতিও ঘটছে রীতিমতো শম্বুকগতিতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি সদর দপ্তর স্থাপনেই ১৭ বছর লেগে গিয়েছে বিমসটেকের, যা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থিত। প্রায় দুই দশক পেরুলেও এখন পর্যন্ত কোনো সনদ ঘোষণা করতে পারেনি বিমসটেক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন