রবিবার | অক্টোবর ২৫, ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

পণ্যবাজার

আশা জাগিয়েছে প্যালাডিয়াম হতাশায় প্লাটিনাম

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে মূল্যবান ধাতুর বাজারে চরম চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছে। বেড়েছে সব ধাতুর দাম। এর মধ্যে স্বর্ণের দাম আগের সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে গেছে। তবে মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে আশা জাগিয়েছে প্যালাডিয়াম। সে তুলনায় প্লাটিনামের দাম খুব একটা বাড়েনি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের স্পটমূল্য রয়েছে হাজার ৮৬০ ডলারে। তবে করোনা মহামারী মূল্যবান দাতুটির দাম বাড়িয়ে আউন্সপ্রতি হাজার ৫০ ডলারের ওপরে তুলেছিল। ইতিহাসে আগে কখনই এত দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়নি। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালের শুরু থেকে এখন অবধি স্বর্ণের দাম অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে।

যুদ্ধ, মহামারীসহ যেকোনো অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বরাবরই স্বর্ণের দাম বাড়ে। কেননা অর্থনৈতিক সংকটের সম্ভাবনা থেকে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ বিবেচনা করে বেশি বেশি স্বর্ণ কেনেন। এতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বেড়ে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এবার করোনা মহামারী এবং থেকে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে রুপার দামেও। বছরের শুরুতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১৮ ডলারের আশপাশে ছিল। বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ যত বেড়েছে রুপার দামও তত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আগস্টের শুরুতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ২৮ ডলার ২৯ সেন্টের ওপরে উঠে যায়। যদিও বর্তমানে প্রতি আউন্স রুপার স্পট মূল্য রয়েছে ২২ ডলার ৮৬ সেন্টে।

করোনাকালে সবচেয়ে উন্নতি করেছে প্যালাডিয়ামের দাম। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ধাতুটির দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়ামের দাম ছিল হাজার ১০০ ডলারের আশপাশে। বাড়তে বাড়তে ফেব্রুয়ারিতে তা হাজার ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে মূল্যবান ধাতুটির দামে ক্রমেই উত্থান-পতন দেখা গেছে। বর্তমানে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়ামের দাম রয়েছে হাজার ২১৬ ডলার।

এবারডেন স্ট্যান্ডার্ড ইনভেস্টমেন্টের ইটিএফ শাখার প্রধান স্টিভেন দুন বলেন, মহামারীর সময় স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে। তবে সে তুলনায় মূল্যবান ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কম। প্যালাডিয়াম প্রধানত দুষ্প্রাপ্য ধাতু। এর উত্তোলন সরবরাহ সীমিত। লকডাউনে তা আরো কমে এসেছে। এর বিপরীতে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পে ধাতুটির চাহিদা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এটাই প্যালাডিয়ামের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

চলতি বছরের শুরুতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম ছিল ৯৮১ ডলারের ওপরে। মার্চ নাগাদ তা কমতে কমতে আউন্সপ্রতি ৬০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। যদিও এরপর স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম রয়েছে ৮৪৭ ডলারের আশপাশে।

বিষয়ে স্বর্ণ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ভ্যালুরামের প্রধান বাজার কৌশলবিদ এডওয়ার্ড ময়ি বলেন, প্লাটিনামের দাম মার্চের তুলনায় বেড়েছে। তবে তা অন্যান্য ধাতুর তুলনায় আশাব্যঞ্জক নয়। করোনাকালে মূর্যবান ধাতুর বাজারে যেন ব্যতিক্রমী আচরণ করে চলেছে প্লাটিনাম। বিনিয়োগকারীদের রীতিমতো হতাশ করেছে ধাতুটি। মুদ্রাবাজারে ডলারের অবস্থান শক্তিশালী না হলে প্লাটিনামের কাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সিএনএন, রয়টার্স বুলিয়নভল্ট অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন