বুধবার | অক্টোবর ২৮, ২০২০ | ১২ কার্তিক ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

মারা গেছেন যশবন্ত সিং

বণিক বার্তা অনলাইন

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিং মারা গেছেন। আ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৬ টা ৫৫ মিনিটে দিল্লির সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

গত ২৫ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন যশবন্ত সিং। সেপসিস এবং মাল্টিঅর্গান ডিসফাংশন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। আজ সকালে তার হার্ট অ্যাটাক হয়।

২০০৯ সালে প্রকাশিত এক বইয়ে ‘ভারত ভাগের জন্য জিন্না দায়ী নন’ এমন বক্তব্য লেখার কারণে ভারতের আলোচনার কেন্দ্রে আসেন যশবন্ত। বিজেপি থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়। তবে বহিষ্কারের মাস দশেক পরেই বিজেপি নেতৃত্ব তাকে ফিরিয়ে নেয়। যদিও দলে আর আগের অবস্থান ফিরে পাননি কখনো।

যশবন্ত সিংয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লিখেছেন, ‘প্রথমে একজন সেনা এবং তারপর অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে দেশসেবা করেছেন তিনি। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারে তিনি অর্থমন্ত্রক, বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছন। তার প্রয়াণে আমি শোকাহত।’

রাজস্থানের বাড়মের জেলার জসোল গ্রামে ১৯৩৮ সালের ৩ জানুয়ারি যশবন্তের জন্ম। মেয়ো কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি উত্তীর্ণ হয়ে পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ‘মেজর’ পদ থেকে অবসরণ নেন যশবন্ত।

যশবন্ত সিংয়ের রাজনীতিতে প্রবেশ ষাটের দশকের শেষ দিকে। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। ১৯৯৬ সালে বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবার ২০০২ সালে দায়িত্ব পান। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরদায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০০-এর জানুয়ারি থেকে ২০০১-এর অক্টোবর মাস পর্যন্ত।

১৯৯৮-’৯৯ বাজপেয়ীর ১৩ মাসের সরকারে যশবন্ত ছিলেন যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান। সব মিলিয়ে মোট পাঁচবার রাজ্যসভা এবং চার বার লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি।

১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী যশবন্ত আফগানিস্তানের কান্দাহারে গিয়ে হাইজ্যাকারদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তার এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে সে সময় তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছিল।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙে জেতার কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলী জিন্নাহর প্রশংসা করার অভিযোগে বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত হন যশবন্ত সিং। তার বইয়ে লিখেছিলেন, ‘ভারত ভাগের জন্য জিন্নাহ দায়ী নন’। বহিষ্কারের মাস দশেক পরেই বিজেপি নেতৃত্ব ফিরিয়ে নেয় রাজপুত নেতাকে। কিন্তু দলের অন্দরে আর হৃত মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে পারেননি তিনি।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বাড়মের কেন্দ্রে বিজেপির টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন যশবন্ত। ফের বহিষ্কার করা হয় তাকে। ভোটেও হেরে যান। কয়েক বছর পরে যশবন্তের ছেলে বাড়মেরের সাবেক বিজেপি সাংসদ মানবেন্দ্র যোগ দেন কংগ্রেসে। গত লোকসভা ভোটে সেখানে কংগ্রেসের প্রার্থীও হন মানবেন্দ্র। যশবন্ত অবশ্য আর রাজনীতিতে সক্রিয় হননি।

সূত্র: এনডিটিভি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন