শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

ডিসিসিআইয়ের ওয়েবিনারে বক্তারা

বিনিয়োগ আকর্ষণে মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায় আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে মানসম্মত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্ট বা আর্থিক প্রতিবেদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মানসম্মত অডিট রিপোর্ট প্রস্তুতকরণে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেটি দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ চিহ্নিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট ২০১৫: ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব শীর্ষক ওয়েবিনার থেকে এমন অভিমত উঠে এসেছে।

গতকাল অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মোসলেম চৌধুরী এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক আফতাব-উল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া দেশের জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবদান সারা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। অবস্থা উন্নয়নে লিস্টেট নন-লিস্টেট কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্ট অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, বিশেষ করে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড-এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হয় এবং ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের জন্যও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিংয়ের গাইডলাইন আরো সহজীকরণ এবং ব্যবহারবান্ধব করা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মোসলেম চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাউন্সিলের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ দৃশ্যমান করার ওপর জোরারোপ করেন। তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইআরএফএস) অনুসরণের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই নিজেদের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং আমাদের এসএমই খাত এখনই আইআরএফএসের গাইডলাইন অনুসরণের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। তাই বিষয়টি নিয়ে সবারই যত্নবান হতে হবে।

ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সিল এবং খাতে প্রফেশনালদের মধ্যে সমন্বয় আরো বাড়ানোর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আইওটি মেশিন লার্নিং ব্যবস্থা আরো সহজলভ্য হলে আমাদের প্রথাগত অডিট রিপোর্টের ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার জন্য আইসিএবি আইসিএমএবির প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পানা গ্রহণ করতে হবে। সময় তিনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা গভর্ন্যান্স বাড়ানোর আহ্বান জানান।            

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে আফতাব-উল ইসলাম বলেন, ক্যামেল রেটিংয়ের মতো অডিট কোম্পানিগুলোর জন্য এফআরসি কর্তৃক রেটিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে পারে, যার মাধ্যমে ধরনের প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, অবস্থান সক্ষমতা সম্পর্কে আমরা ধারণা পেতে পারি। সময় তিনি অডিট রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্ট মনিটরিং ডিভিশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তিনটি বিষয় আর্থিক তথ্য বিবরণী, অডিট প্রসেস স্বচ্ছতা নিরূপণ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের স্ট্যান্ডার্ড সেটিং ডিভিশনের নির্বাহী পরিচালক এম আনোয়ারুল করিম, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক . জাভেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার এএম মাসুম, দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক এবং দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন আকন অংশ নেন।

এম আনোয়ারুল করিম বলেন, ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সিলের পক্ষ  থেকে অডিট রিপোর্টের স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন ধাপে পদ্ধতির সহজীকরণ করা হয়েছে এবং বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য কর্মশালা আয়োজনসহ বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  

মানসম্মত অডিটি রিপোর্ট নিশ্চিতকল্পে বিদ্যমান আইনে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে বেশ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যা বাস্তবেও ব্যবহার করা প্রযোজন বলে মনে করেন অধ্যাপক . জাভেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অডিট ফি সারা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূকভাবে বেশ কম, যা বাড়ানো প্রয়োজন। বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য আরো বেশি হারে কর্মশালার আয়োজন এবং স্বল্প, মধ্যম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করাও প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

রেগুলেটরদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাউন্সিলকে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন মোহাম্মদ ফারুক। তিনি বলেন, সাধারণত অডিটদের দিয়ে তৈরি কোম্পানিগুলোর অডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সেই সব প্রতিষ্ঠানের ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্ট তৈরি করা হয় এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসংগতি পরিলক্ষিত হলে অডিটদের পাশাপাশি সেই প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিতদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

ওয়েবিনারে আইসিএমএবির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন আকন ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইনের আওতায় কস্ট অডিটকে অন্তর্ভুক্তকরণের দাবি জানান। এছাড়া ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান সি কিউ কে মোস্তাক আহমেদ কাউন্সিলের পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম আরো বাড়ানো শক্তিশালীকরণের আহ্বান জানান।

ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জোয়ারদার, ওমেরা ফুয়েলস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আকতার হোসেন, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সদস্য অধ্যাপক .শরীফ আহকাম প্রমুখ।  

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন