শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

আইরিশ বকেয়া কর

আবারো অ্যাপলের বিরুদ্ধে আদালতে ভেস্টেগার

বণিক বার্তা ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্দেশ অনুযায়ী আয়ারল্যান্ডকে হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বকেয়া কর পরিশোধ করতে হবে না অ্যাপলকে। গত জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এমন রায় দিয়েছিলেন ইইউর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালত। এবার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ইইউর অ্যান্টিট্রাস্ট প্রধান মার্গারেথ ভেস্টেগার। গত শুক্রবার অ্যাপলের আইরিশ বকেয়া কর মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়, যা আয়ারল্যান্ডে বকেয়া কর নিয়ে অ্যাপলের জন্য বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কর বিধি এড়িয়ে অ্যাপলকে প্রায় হাজার কোটি ডলারের কর ফাঁকির পথ করে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় দেয় ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) ওই রায়ে অ্যাপলকে হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বকেয়া কর সুদসহ পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

ওই সময় ইইউর অ্যান্টিট্রাস্ট কমিশন জানায়, ২০০৩ থেকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে কর ফাঁকি দেয় অ্যাপল। কর ফাঁকির বিনিময়ে আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের পক্ষ থেকে আয়ারল্যান্ডের মানুষকে চাকরির নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। একই সময় রায়ে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে অর্থের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে আইরিশ সরকারকে নির্দেশ দেয় ইসি। তবে অ্যাপল এবং আয়ারল্যান্ড বরাবরের মতো কোনো অন্যায় করার বিষয় অস্বীকার করে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলে দাবি করা হয়, অ্যাপল আইরিশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন যথাযথ মেনে চলেছে। অ্যাপল কর পরিশোধে কোনো অন্যায় পন্থা অবলম্বন করেনি।

ইইউর রায় ঘোষণার পর তত্কালীন আইরিশ অর্থমন্ত্রী মাইকেল নুনান এক সংসদীয় কমিটিকে বলেন, অংকটা হাজার ৩০০ কোটি ইউরোর চেয়ে অনেক বেশি কিংবা কম হতে পারে, এমন ইঙ্গিত তিনি পাননি। তবে আরো কিছু বছরের হিসাব বাকি রয়েছে।

একই সময় বিবৃতিতে ইইউর কম্পিটিশন কমিশনার মার্গারেথ ভেস্টেগার বলেছিলেন, কমিশন সিদ্ধান্ত জানানোর এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও আয়ারল্যান্ড এখনো বকেয়া করের অর্থ আদায় করতে পারেনি। অবশ্যই আমরা এটি বুঝি যে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অর্থ আদায় করা অন্য ক্ষেত্রের চেয়ে বেশি জটিল হতে পারে। আমরা সব সময় সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত প্রতিযোগিতা পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া।

গত জুলাইয়ে দেয়া অ্যাপলের আইরিশ বকেয়া কর বিষয়ে আপিলের রায়কে মাইলফলক উল্লেখ করে ইইউর জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রায়ের মাধ্যমে অ্যাপল আয়ারল্যান্ডকে বকেয়া কর পরিশোধের জটিলতা থেকে রেহাই পাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। অবশ্য তখনই বলা হয়েছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালতের আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে ইইউ তাদের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে।

গত জুলাইয়ে অর্ধযুগের বেশি সময় ধরে চলা মামলার আপিলের রায় পক্ষে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অ্যাপল জানিয়েছিল, আমরা কত টাকা ট্যাক্স বাবদ পরিশোধ করেছি, এটি সে মামলা নয়। কিন্তু আমরা জানি কোথায় অর্থ পরিশোধ করা প্রয়োজন। আমরা গর্বিত যে অ্যাপল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কর পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা জানি কর সমাজে বড় ধরনের উন্নয়নে অবদান রাখে।

আয়ারল্যান্ডে অ্যাপলের কর পরিশোধ বিষয়ে আইরিশ সরকার অ্যাপলের মধ্যে মতপার্থক্য না থাকলেও এর বিরোধিতা করে আসছিল ইইউ। তারা বলছে কর ফাঁকি দিতে আইরিশ সরকার অ্যাপলকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে এসেছে। আইরিশ সরকারের ভাষ্য, এটা খুবই স্পষ্ট যে অ্যাপল আমাদের সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ট্যাক্স দেবে। তারা এখানে বিশেষ কোনো সুবিধা বা ছাড় পাবে না। আমরা সঠিক অংকই তাদের কাছে দাবি করেছি আইন অনুযায়ী।

আইরিশ সরকার অ্যাপলকে দেশটিতে কার্যালয় নির্মাণ করা হলে কর মওকুফ করা হবে এমন প্রস্তাব দিয়েছিল। ইইউর দাবি, এটি ইইউর নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত ছিল।

গত জুলাইয়ে ইইউর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালত রায়ে বলেন, মামলায় অ্যাপলের বিরুদ্ধে কর পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি ইইউ।

২০১৮ সালে ইইউ তিন বছর তদন্তের পর অভিযোগ করে অ্যাপল ইউরোপে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি থেকে মোট আয়ের শতাংশেরও কম কর দিচ্ছে। অর্থাৎ বিদেশী কোনো কোম্পানিকে ইউরোপ অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা করতে যে কর দিতে হয়, অ্যাপল আয়ারল্যান্ডে তার চেয়ে ১২ গুণ কম কর দিয়ে আসছিল।

ইইউর কমিশনার মার্গারেথ ভেস্টেগারের দাবি, আয়ারল্যান্ড যেভাবে অ্যাপলকে বিশেষ কর সুবিধা দিয়ে আসছে, তাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন ভঙ্গ হয়েছে।

তিনি বলেন, অ্যাপলের বিরুদ্ধে কমিশনের রায়ে পরিষ্কার একটি বার্তা দেয়া হয়েছে। সেটা হলো কোনো সদস্য দেশ কোনো কোম্পানিকে আলাদা করে বিশেষ কোনো কর সুবিধা দিতে পারবে না। সেটা স্থানীয় কিংবা বিদেশী কোম্পানি হোক, ছোট কিংবা বৃহৎ কোম্পানি হোক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন