বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ২৯, ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

খবর

প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশে বিশ্বাস করেন: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক . হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনাকে সমাদৃত করা গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশের নীতিতে বিশ্বাস করেন। গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতি আয়োজিত সেমিনারে কথা বলেন তিনি।

দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে . হাছান বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকে ৬০ বছর ধরে বাঙালি জাতীয়তাবোধকে ধারণ করে পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে আসা দৈনিক আজাদী পত্রিকা সমাজ এবং রাষ্ট্রের ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।

সাংবাদিকরা জেদ্দায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সাম্প্রতিক গোপন বৈঠক-এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বললেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিএনপির দহরম-মহরম বহু পুরনো। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি ক্রমাগতভাবে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বলে জানান . হাছান। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাদের দহরম-মহরম। এবং সেটা যে বহু পুরনো, তার প্রমাণ হচ্ছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিএনপির মধ্যপ্রাচ্যের বৈঠক, যা প্রচণ্ড নিন্দনীয়।

অতীতের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিএনপিকে কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল। এটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন। আর এখন নির্বাচন অনেক দেরি, আরো সাড়ে তিন বছর রয়েছে। এর মধ্যে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি, তখন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৪০০। এখন বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্র সাড়ে হাজার ২৫০। তখন অনলাইন পত্রিকা ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। এখন কয়েক হাজার অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। প্রাইভেট টেলিভিশনের যাত্রা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান। ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন প্রাইভেট টেলিভিশন ছিল ১০টি। এখন ৩০টি প্রাইভেট টেলিভিশন সম্প্রচারে আছে, ৪৫টি প্রাইভেট টেলিভিশনের জন্য লাইসেন্স দেয়া আছে। এর বাইরে চারটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চালু আছে। সংবাদ মাধ্যমের এই যে এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ, সেটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। 

. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্র যে ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে, অনেক উন্নত দেশেও কিন্তু সংবাদপত্রের এমন স্বাধীনতা নেই। ইউকেতে ১৬৭ বছরের পুরনো পত্রিকা ছিল নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড সেই পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। একটি ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে মামলা হয়েছিল। মামলার পর তাদের ওপর বিরাট জরিমানা করেছেন আদালত, সেই জরিমানা দিতে না পেরে কোম্পানি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, একজন এমপির বিরুদ্ধে ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে বিবিসির পুরো টিমকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ইউকে এবং ইউরোপে হরহামেশা ভুল অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে পত্রিকা গণমাধ্যমকে জরিমানা দিতে হয়। আমাদের দেশে সেটি কখনো হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন