বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ২৯, ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

শেষ পাতা

নিরীক্ষকের মতামত

সম্পদের চেয়ে দায় বেশি ফারইস্ট ফিন্যান্সের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্পদের চেয়ে ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বর্তমান দায় বেশি বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির সম্পদের চেয়ে দায় বেড়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। এছাড়া সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ৭৫ কোটি টাকার সঞ্চিতি ঘাটতিও রয়েছে। আর গরমিল রয়েছে সহযোগী কোম্পানিকে দেয়া ঋণের তথ্যের ক্ষেত্রেও। ফারইস্ট ফিন্যান্সের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এসব মতামত তুলে ধরেছেন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকির অ্যান্ড কোম্পানি।

ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের নিরীক্ষক আর্থিক প্রতিবেদনে এমফেসিস অব ম্যাটারে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা সঞ্চিতি ঘাটতি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সংরক্ষণের সুযোগ দিয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে প্রতিষ্ঠানটির সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকায়। ২০১৯ হিসাব বছর শেষে কোম্পানিটির নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৫২ কোটি ২২ লাখ টাকায়। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের তুলনায় ১৫৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা দায় বেশি রয়েছে। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ২০১৮ হিসাব বছরে টাকা ২২ পয়সা থেকে কমে ২০১৯ হিসাব বছরে টাকা ৮৫ পয়সা হয়েছে। আর শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফএস) ২০১৮ সালের টাকা ৪৭ পয়সা থেকে কমে ২০১৯ সালে ঋণাত্মক টাকা ১৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ১১৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা থেকে কমে ৪৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

মতামতে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের দলিলপত্র শ্রেণীকৃত ঋণ বিবরণী অনুসারে এর সহযোগী কোম্পানি ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডসকে ২৭৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। কিন্তু ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডসের নিরীক্ষকের মতামত অনুসারে ঋণের পরিমাণ ২৫২ কোটি ২২ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে পার্থক্যের পরিমাণ ২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এতে ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হতে পারে এতে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ হারানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

গোয়িং কনসার্ন হিসেবে ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতার বিষয়ে নিরীক্ষক বলছেন, বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গোয়িং কনসার্ন হিসেবে নিজেদের সক্ষমতার বিষয়টি আর্থিক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। তাছাড়া সামনের বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান কাটিয়ে উঠবে বলে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোম্পানির কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে এবং ঋণ সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে তারা আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ লিজের অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিরীক্ষককে জানিয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান না করার সুপারিশ করেছে ফারইস্ট ফিন্যান্স। গত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে টাকা ৩৮ পয়সা, যেখানে এর আগের হিসাব বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৮১ পয়সা।

২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের বর্তমানে ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১৬৪ কোটি লাখ ৩০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ৪০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৪১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১২ দশমিক ৪৫, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন