শুক্রবার | অক্টোবর ৩০, ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭

দেশের খবর

জেজিটিডিএসএল

সিলেটে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসছেন ৫০ হাজার গ্রাহক

দেবাশীষ দেবু সিলেট

একদিকে অপ্রয়োজনে চুলা জ্বালিয়ে রেখে গ্যাসের অপচয়, অন্যদিকে বারবার গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহক বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। অবস্থায় গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাসের অপচয় রোধ এবং গ্যাসের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে সিলেটে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) সিলেট অঞ্চলের গ্যাস বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন ৫০ হাজার গ্রাহকদের মধ্যে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেটে গ্যাসের গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটারের আওতায় নিয়ে আসার এটিই প্রথম উদ্যোগ।

জেজিটিডিএসএল সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ব্যাপারে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কয়েক দফা কাটছাঁট যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি পেট্রোবাংলা থেকে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুতই প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া যাবে। চলতি বছরই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চান তারা।

জেজিটিডিএসএলের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প ২০২০-২২ সাল মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিটি আবাসিক গ্রাহকের মাসিক গড় গ্যাস ব্যবহার ৬৬ ঘনমিটার থেকে ৪০ ঘনমিটারে নেমে আসবে। ফলে গ্রাহকপ্রতি গ্যাস সাশ্রয় হবে গড়ে ২৬ ঘনমিটার। গ্যাস বিতরণ লাইন লিকেজজনিত অপচয়ও রোধ হবে।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে গ্যাস অপচয় রোধ করা যাবে। গ্রাহকদেরও অতিরিক্ত বিল প্রদান করতে হবে না। বর্তমানে জালালাবাদ গ্যাসের প্রায় তিন লাখ আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন। প্রথম অবস্থায় ৫০ হাজার গ্রাহকদের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের কার্যকর সরবরাহ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্যাসের অপচয় রোধ করা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

ব্যাপারে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী সৈয়দ ফজলুল হক বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৫০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করা হবে। প্রথমে নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার গ্রাহকদের সেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে। পরবর্তী সময়ে পুরো সিলেট নগরই প্রি-পেইড মিটারের আওতায় চলে আসবে।

তিনি আরো বলেন, গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে গ্রাহকের প্রতি মাসের খরচও কমবে। দুই চুলার গ্যাসের জন্য এখন প্রতি মাসে গ্রাহক খরচ করছে ৯৭৫ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ছোট পরিবারের একজন গ্রাহক হাজার টাকায় তিন মাস গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন। মাসে তার খরচ পরবে ৩০০ টাকার মতো। এছাড়া গৃহস্থালি পর্যায়ে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে গ্যাস ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনিটরিং ব্যয়ও কমবে।

জালালাবাদ গ্যাসের কর্মকর্তা আরো বলেন, সিলেটে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারের উদ্যোগ এই প্রথম নেয়া হচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন প্রবাসীরা। কারণ তাদের অনেকেই বাড়ি বানিয়ে বছরের পর বছর বিদেশে থাকেন। গ্যাস ব্যবহার না করেও তাদের বিল পরিশোধ করে যেতে হচ্ছে। তারা প্রি-পেইড মিটারের আওতায় চলে এলে আর গ্যাস ব্যবহার ব্যতীত বিল দিতে হবে না। শুধু ব্যবহার করলেই বিল পরিশোধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ডাটা সেন্টার ডাটা রিকভারি সেন্টার এবং প্রয়োজনীয় ওয়েব সিস্টেম হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ গ্যাসের কর্মকর্তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন