বুধবার | অক্টোবর ২১, ২০২০ | ৬ কার্তিক ১৪২৭

দেশের খবর

এমপির জাল ডিও লেটার দিয়ে স্কুলের এমপিও বাতিলের চেষ্টা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর

যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্তি (মান্থলি পে অর্ডার) বাতিল করতে যশোর- আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি স্কুলে এসে জালিয়াতির বিষয়টি উদ্ঘাটন করে। সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ডিও লেটারটি সঠিক নয় বলে খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা উপপরিচালক নিভা রাণী পাঠককে নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে ওই ডিও লেটার তিনি দেননি এমন একটি প্রত্যয়নও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিভা রাণী পাঠক। স্কুলের ১১ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে জাল-জালিয়াতি তদন্তের মধ্যে এমপির ডিও জালিয়াতি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, স্কুলের সভাপতিসহ স্থানীয় একটি জালিয়াত চক্র ঘটনায় যুক্ত।

সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত বলরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে। স্কুলটি গত বছর তালিকাভুক্ত হলেও এমপিওতে নাম ওঠেনি কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর। স্থাপিত হওয়ার পর এখানে ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আজগর আলীসহ চার শিক্ষক-কর্মচারীকে বিভিন্ন অভিযোগে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর বরখাস্ত করা হয়। পরে জালিয়াতি নিয়োগ বাণিজ্য করে বাকি সাত শিক্ষক-কর্মচারীর সঙ্গে আরো নতুন ১১ জনের নাম যুক্ত করে ১৮ জনের তালিকা এমপিওভুক্তির জন্য প্রেরণ করা হয়। কিন্তু বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক তদন্ত কমিটি তদন্ত করে ওই ১১ জনের জাল-জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জালিয়াত চক্র যখন ওই ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বৈধ করতে পারেনি, তখন তারা এমপিও বাতিলের ষড়যন্ত্র শুরু করে। সভাপতি এসএম আকরাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে চক্রটি গত জুলাই যশোর- আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের একটি ডিও লেটার মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দাখিল করে।

খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা উপপরিচালক নিভা রাণী পাঠক জানান, সংসদ সদস্য তাকে নিশ্চিত করেছেন স্কুলের এমপিও বাতিলের জন্য তিনি কোনো ডিও লেটার দেননি। সময় তিনি ওই ডিও লেটার সঠিক নয় মর্মে প্রত্যয়নও দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, বলরামপুর স্কুলে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে জাল-জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট তিনি তদন্তে এসেছিলেন। এর আগে -সংক্রান্ত আরো দুটি তদন্ত হয়েছে। দুটি তদন্ত কমিটিই ভুয়া নিয়োগ এমপিওভুক্তি নিয়ে জাল-জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে।

বিষয়ে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ জানান, তদন্ত কমিটিকে তিনি নিশ্চিত করেছেন ওই ডিও লেটারটি সঠিক নয়। -সংক্রান্ত একটি চিঠিও তিনি দিয়েছেন। তবে জালিয়াতি কারা করেছে তা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।

এমপির ডিও লেটার জালিয়াতি নিয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য স্কুলের সভাপতি এসএম আকরাম বিশ্বাসের ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন