রবিবার | অক্টোবর ২৫, ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

টকিজ

চাহিদার তুলনায় টিভি প্রডাকশনের জোগান বেশি হয়ে গেছে

নাট্যনির্মাতা আশফাক নিপুন গত ঈদে তার নির্মিত টেলিফিল্মগুলো দর্শকদের কাছে হয়েছে আলোচিত প্রশংসিত। সম্প্রতি টকিজের মুখোমুখি হন তিনি। কথা বলেন তার বর্তমান ব্যস্ততা, ঈদ নাটক, ওয়েব প্লাটফর্ম, নির্মাতাদের ঝুঁকি, টিভি প্রডাকশনসহ খুঁটিনাটি নানা বিষয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রাইসা জান্নাত

আপনার এখনকার ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই।

দুটি ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্লাটফর্মের জন্য ওয়েব অরিজিনালস তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন স্ক্রিপ্ট প্রি-প্রডাকশনের কাজ করছি। আগামী মাসে শুটিং শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ঈদে আপনার নির্মিত নাটকগুলো দর্শকরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। সাফল্যের পেছনে কোন বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন?

প্রথমত আমি আমার সব টেলিফিল্মেই চেষ্টা করি বৈচিত্র্যময় গল্প রাখার। বিশেষ করে পরিচিত কোনো গল্প। যে গল্পের সঙ্গে দর্শকরা সহজেই নিজেদের যুক্ত করতে পারেন। দ্বিতীয়ত যে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে আলোচনা করতে ভয় পাই বা কথা বলতে চাই না, সে রকম অস্বস্তিকর গল্প নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। যেমন: ভিকটিম, অযান্ত্রিক, ইতি মা টেলিফিল্মগুলোর কথা বলতে পারি। বলা যায়, এসব কারণে এবার বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি।


অনেক দিন ধরে নাটকের মান নিয়ে অভিযোগ। কিন্তু গত ঈদে বেশকিছু নাটক প্রশংসিত আলোচনায় এসেছে। মানহীন নাটক নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ কি তাহলে ঘুচতে চলেছে ধীরে ধীরে?

ভালো কাজ কিন্তু কয়েক বছর ধরেই হচ্ছে। কিন্তু এবারের দৃশ্যপটটা ভিন্ন কারণটা হলো করোনা। প্রতি ঈদে টেলিভিশন ইউটিউব চ্যানেল মিলে প্রায় ৪০০-৫০০ টেলিফিকশন তৈরি হয়, যার বেশির ভাগই নানা সমঝোতা করে বানানো। করোনার কারণে এবার তা সম্ভব হয়নি। ফলে এবার ঈদে ভিন্ন ভিন্ন কাজ মানুষের চোখে বেশি ধরা পড়েছে। অন্যান্য সময় ৪০০-৫০০ মাঝারি মানের টেলিফিকশনের ভিড়ে ধরনের ভালো কাজগুলো হারিয়ে যায়। আমাদের আসলে চাহিদার তুলনায় টিভি প্রডাকশনের জোগান বেশি হয়ে গেছে। টেলিফিকশন তৈরির সংখ্যাটা যদি কমিয়ে আনা যায়, তাহলে বাজেট যেমন বৃদ্ধি পাবে, মানসম্পন্ন কাজও বেশি বেশি হবে।


এখন ওয়েব প্লাটফর্মে কাজের ক্ষেত্রে নির্মাতা, অভিনয়শিল্পীদের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এতে টেলিভিশন চ্যানেল কি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে? বিষয়ে আপনার কী মত?

আমার মতে টেলিভিশন ইজ অলমোস্ট ডেড। টিভি কনটেন্ট বিনা মূল্যে ইউটিউবে চালানো, বিজ্ঞাপন বিরতির অত্যাচার, বাজেট স্বল্পতা নানা কারণে অনেক দিন হলো দর্শক টিভি থেকে দূরে সরে এসেছেন। তাই নতুন করে টিভির জন্যে হুমকির কিছু নেই। আর যে ওটিটি প্লাটফর্মগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো এখনো অঙ্কুর পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমত আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ধরে টিভি কনটেন্টগুলো বিনা মূল্যে ইউটিউবে দেখার কারণে ফ্রি কনটেন্ট দেখার একটা কালচার তৈরি হয়েছে। ওয়েব প্লাটফর্মে কিন্তু বিনা মূল্যে কনটেন্ট দেখার সুযোগ নেই। তো অর্থব্যয় করে কনটেন্ট দেখার অভ্যাসটা তৈরিতেও একটু সময় লাগবে। দ্বিতীয়ত প্লাটফর্মগুলো দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে হবে। কারণ লোকাল ওয়েব প্লাটফর্মগুলো কিন্তু দেশের বাইরের বাঙালি দর্শকরা দেখতে পারবেন না। রকম আরো অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, যেগুলো প্লাটফর্মগুলোকে উের যেতে হবে। আমি বলব এখন ঝুঁকিতে আছেন বরং নির্মাতারা।

নির্মাতারা কেন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন?

টিভি কনটেন্টগুলো ইউটিউবে বিনা মূল্যে দেখার কারণে নির্মাতা হিসেবে আমরা ঝুঁকিতে পড়ে যাই। ওটিটি প্লাটফর্মে যেহেতু অর্থব্যয় করে দেখতে হয়, তাহলে একটা কনটেন্ট যদি মাত্র ৫০ হাজার দর্শকও দেখেন, সেখান থেকে কিন্তু মুনাফা উঠে আসে। ফলে প্রযোজক উৎসাহী হয় পরের কাজে ভালো বাজেট দেয়ার ব্যাপারে। সেটা পেলে আরো ভালো, আরো বড় প্রডাকশনও সম্ভব। কিন্তু ইউটিউবে সুযোগটা নেই। এখান থেকে বড় মুনাফা আসে না। কেবল ভিউয়ের একটা ভার্চুয়াল সংখ্যা আমরা দেখতে পাই। ফলে বাজেট বাড়ছে না বরং দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাই দিনশেষে নির্মাতারা ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছেন। বিনা মূল্যে কনটেন্ট দেখার বিষয়টি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। পৃথিবীর কোথাও ফ্রি কনটেন্ট দেখার কোনো সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই, এখানেও সেই নিয়ম সর্বক্ষেত্রে চালু হওয়া উচিত।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন