বুধবার | অক্টোবর ২৮, ২০২০ | ১২ কার্তিক ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

দেশে ঢুকতে শুরু করেছে আটকে পড়া পেঁয়াজের ট্রাক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, হিলি

ভারত সরকার অনুমতি দেওয়ায় পাঁচদিন বন্ধের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে আটকে থাকা পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে বেশ কয়েকদিন ট্রাকে আটকা থাকায় অনেক পেঁয়াজের মান খারাপ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন আমদানিকারকরা। এদিকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির শুরু হওয়ায় একদিনের মাথায় পেঁয়াজের দাম কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে পাঁচদিন বন্ধের পর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে তারা শুধুমাত্র গত রবিবারের টেন্ডারকৃত পেঁয়াজগুলোই রফতানি করবে বলে জানিয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ১১ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আড়তগুলোতে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল খালেক বলেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আড়তগুলো ও বাজারে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখি হয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। এতে করে আমরা যারা খুচরা বিক্রেতা রয়েছি আমরা পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অনেকে বাড়তি দামের কারণে পেঁয়াজ কেনা থেকে বিরত থাকছি বা ভয়ে পেঁয়াজ কিনছি না।

হিলির খুচরা বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুর করিম বলেন, ভারত থেকে যেই পেঁয়াজ আসা বন্ধ হলো সেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে আগুন লাগে যায়। প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে, ভারত যেদিন পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে সেদিন পেঁয়াজ কিনলাম ৩৫ টাকা কেজি দরে আর পরের দিন সেই পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা উঠে যায় গতকাল তা আরো বেড়ে ৭০ থেকে ৭৫টাকা উঠে যায়। এভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমরা সাধারন মানুষ কোথায় যাবো, বাজারে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই যে যার মতো পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। তবে আজ দাম কিছুটা কমেছে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এবিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন তেমনি টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির আহ্বান জানান আরেক খুচরা গ্রাহক নজরুল ইসলাম।  

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আলম হোসেন জানান, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখি হয়ে যায়। তবে গত কয়েকদিন বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ ঢুকবে ঢুকবে এমন খবরে গত কয়েকদিন ধরেই পেঁয়াজের বাজার উঠানামা করছে। গতকাল আমরা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। আজ বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশের কথা রয়েছে। যার কারণে আড়তগুলোতে পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দিয়েছে। আমরাও কম দামে কিনেছি, তাই বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আর পেঁয়াজ ঢুকলে দাম আরো কমতে পারে, সাবেক যে দাম সেই দাম হতে পারে। আর দাম বাড়ার কারণে বেচাকেনাও কমে গিয়েছিল, দাম কমলে বেচাকেনাও বাড়বে বলেও প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন বলেন, গত সোমবার থেকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এর পরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সাথে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের পর আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি ভারতের অভ্যন্তরে যে সমস্ত পেঁয়াজের ট্রাক রয়েছে সবগুলো নেওয়ার চেষ্টা করছি। এবিষয়ে আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করছি। আমরা আশা করছি সবগুলো পেঁয়াজের ট্রাকগুলো নিতে সক্ষম হবো এবং এই মালগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করবো। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, অভ্যন্তরিণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মুল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত সোমবার থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ ট্রাক পেঁয়াজ ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়ে যায়। বেশ কয়েকদিন ধরে আটকে থাকার কারণে অনেক পেঁয়াজের মান খারাপ হয়ে গেছে। অনেক পেঁয়াজের ট্রাক থেকে রস বের হচ্ছে, পচা গন্ধ বের হচ্ছে। এতে করে আমরা আমদানিকারকরা ক্ষতির সম্মুক্ষিন হবো। তবে কী পরিমাণ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়েছে এখনও বলতে পারছি না। যেহেতু ট্রাক কিছুক্ষণ আগে প্রবেশ করলো, দেখে বলতে পারবো।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন